ছয় মাসের সাজা এড়াতে ৭ বছর তৃতীয় লিঙ্গের সাজে যুবক
ছয় মাসের সাজা এড়াতে ৭ বছর তৃতীয় লিঙ্গের সাজে যুবক

মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম

ছয় মাসের সাজা এড়াতে ৭ বছর তৃতীয় লিঙ্গের সাজে যুবক

অনলাইন ডেস্ক

ঠোঁটে লিপস্টিক, কপালে টিপ, কড়া মেকআপ দিয়ে বের হতেন তিনি। পরনে থাকতো সালোয়ার কামিজ। আচার-আচরণ ও অঙ্গভঙ্গিতেও তিনি পুরো তৃতীয় লিঙ্গের মতোই অভিনয় রপ্ত করেছিলেন। দেখে একেবারেই বোঝার উপায় নেই তিনি সত্যিই তৃতীয় লিঙ্গের কেউ নন।

কেউ নাম জানতে চাইলে তিনি পরিমনির নাম বলতেন। কখনো বা বলতেন অন্য কোন পছন্দের অভিনেত্রীর নামও।

আর এসবই তিনি করেছেন পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য! তাও মাত্র ছয় মাসের সাজা! গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘ সাত বছর তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের মতো এমনই বেশ ধারণ করেছিলেন মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম নামের ওই যুবক।

শফিকুল ইসলামকে বুধবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে গৌরনদী পৌর শহরের দিয়াশুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টিকাসার গ্রামে। তিনি টিকাসার গ্রামের এসকেন্দার সরদারের ছেলে।  

পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালে বরিশাল নগরীতে মাদকসহ গ্রেফতার হন শফিকুল ইসলাম। গ্রেফতারের কয়েক মাস পর তিনি জামিনে ছাড়া পান। এরপর আত্মগোপন করেন শফিকুল। চার বছর পর তার অনুপস্থিতিতেই বরিশালের একটি আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাস কারাদণ্ডের রায় দেন।

তবে গৌরনদী থানার পুলিশ শফিকুলকে গ্রেফতার করতে একাধিকবার তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়। ২০১৮ সালে তার অনুপস্থিতিতে বরিশালের একটি আদালত তাকে  তাকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি হয় বলে জানায় পুলিশ।  

স্বজনরা জানান, শফিকুল জামিন নিয়ে বাড়িতে এসে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর সাত বছরে তিনি একবারও বাড়িতে যাননি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগও ছিল না শফিকুলের।

তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখে পুলিশ। বুধবার সকালে তার বাড়িতে আগেরদিন রাতে তৃতীয় লিঙ্গের একজন বেড়াতে এসেছেন বলে খবর পায় পুলিশ। তার এক নিকটাত্মীয়কে থানায় ডেকে বেড়াতে আসা তৃতীয় লিঙ্গ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তবে ওই স্বজন বেশভূষার কারণে শফিকুলকে চিনতে পারেননি।

পরে ওই স্বজনের মাধ্যমেই তৃতীয় লিঙ্গের বেশে থাকা শফিকুলকে বেড়াতে আসার কথা বলে থানা সংলগ্ন দিয়াশুর এলাকায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে এলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শফিকুল স্বীকার করেন গ্রেফতার এড়াতে তিনি এতোদিন তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের বেশ ধারণ করে ছিলেন।

শফিকুলের পরিচয় নিশ্চিত হতে তার আপন ভাইকে থানায় ডেকে আনা হয়। তিনিই তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তার প্রাপ্ত সাজা ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন।

আরও পড়ুন:

'হাসান আজিজুল হকের নোবেল না পাওয়া কর্তৃপক্ষের জন্যই লজ্জার'


news24bd.tv/ নকিব