বাঙালি মুসলমানের ফিউনেরাল সং এর কোন ঐতিহ্য নেই
বাঙালি মুসলমানের ফিউনেরাল সং এর কোন ঐতিহ্য নেই

শান্তা আনোয়ার

বাঙালি মুসলমানের ফিউনেরাল সং এর কোন ঐতিহ্য নেই

Other

হাসান আজিজুল হকের শেষকৃত্যে গান গাওয়া নিয়ে ফেবুতে বেশ কিছু সমালোচনা দেখলাম। ফিউনারেল সং বলে একটা বিষয় আছে। শেষকৃত্যে পশ্চিমে গাওয়া হয়। যেই গানটা গাওয়া হয়েছে হাসান আজিজুল হকের শেষকৃত্যে সেটা কোন অর্থেই ফিউনারেল সং নয়।

 

বাঙালি মুসলমানের ফিউনেরাল সং এর কোন ঐতিহ্য নেই। এটা বাঙালি মুসলমানের প্র‍্যাক্টিসও নয়। সম্ভবত সেই কারণেই এই সমালোচনা হয়েছে ; তবে কাজী নজরুল ইসলাম যেদিন মারা গেলেন সেদিন উনার লেখা দুইটা গানই সারাদিন রেডিও টিভিতে ফিউনেরাল সং হিসেবে বাজানো হয়েছিলো। একটা হচ্ছে- যেদিন লবো বিদায় ধরা ছাড়ি দিয়ে, ধুয়ো লাশ আমার লাল পানি দিয়ে।   

আর, মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই। এরপরে বাংলাদেশে ফিউনেরাল সং এর ধারা সেভাবে গড়ে ওঠেনি।  

ফিউনেরাল সং এ থাকে আধ্যাত্মিকতা, দর্শন। পৃথিবীতে সবচেয়ে বিখ্যাত আর মর্মস্পর্শী ফিউনেরাল সং লেনার্ড কোহেনের হালেলুইয়া। হালেলুইয়া গানটা লিখতে লেনার্ড কোহেনের পাঁচ বছর লেগেছিলো। শিল্পির উৎকর্ষের সন্ধানই শুধু নয়, এ যেন নিজের চেতনার সব স্তরের সাথে চূড়ান্ত বোঝাপড়া।  


আরও পড়ুন:

অঝোরে কাঁদলেন মেয়র জাহাঙ্গীর

বেগম জিয়াকে ভয় পায় সরকার: মান্না


গানটা শুনতে পারেন। শুরু হয়েছে এভাবে, আমি সেই গোপন কর্ডটা খুঁজে পেয়েছি, যেই কর্ডে ডেভিড ঈশ্বরকে গান শুনিয়েছিলো, কিন্তু তুমি তো আজকের এই গান শুনতে পাচ্ছো না।

গানটা শুনলে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়, শোক আরো গভীর হয়। লেনার্ড কোহেন গান গাওয়া ছাড়াও গান লিখেছেন এমনকি উপন্যাসও লিখেছেন। ছেলে অকালে মারা যাওয়ার পরে ভারতে এসে দীর্ঘদিন ছিলেন লেনার্ড কোহেন। মনকে শান্ত করার জন্য বাইবেল পড়তেন আর শুনতেন। আমরা কাজী নজরুলের পরে আর কোন গীতিকার পেলাম না যিনি আমাদের কিছু ফিউনেরাল সং উপহার দিতে পারেন।

লেখাটি শান্তা আনোয়ার- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv নাজিম