আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে গিয়ে দূর সম্পর্কের ভাইকে সমর্থন

ফাহমিদুল হক

আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে গিয়ে দূর সম্পর্কের ভাইকে সমর্থন

ছবি: ফাহমিদুল হক

খেলা যখন দুই দেশের মধ্যে হয়, তখন তো রাষ্ট্র, জাতি, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি ধরে খেলায় রাজনীতি ঢুকবেই। তা হোক মুদুমন্দ। কিন্তু তার বাড়াবাড়িই হলো সমস্যা। আমি বরাবরই এর বিরোধিতা করি। খেলার আনন্দ ও উত্তেজনা যেন জাতিবিদ্বেষে না হারায়!

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ারের ‘ভারতপন্থী’ সিদ্ধান্তের ভালোই বদলা নিয়েছিল বাংলাদেশ, পরমুহূর্তের বাংলাদেশ সফরে ভারতকে সিরিজ হারিয়ে। মুস্তাফিজ ম্যাজিক তা নিশ্চিত করেছিল। এরপর পাকিস্তানকেও সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকাকেও। তখন থেকে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই উত্তেজনা। পাকিস্তান তখন ম্যাচ ফিক্সিং ও জঙ্গী হামলার কারণে ম্রিয়মাণ একটা দল, তাদের দেশে কেউ খেলতেও যায় না, দলের পারফরমেন্সও ভালো না। ভাষ্যকাররা বলা শুরু করেছিল, ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচের যে উত্তেজনা আগে ছিল, তা এখন ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচে সরে এসেছে।

মিরপুরে পাকিস্তানের পতাকা হাতে বাংলাদেশি সমর্থকরা

সে এক অভাবনীয় টার্ন ছিল বটে! কিন্তু সম্প্রতি দেখা গেল আরেক টুইস্ট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়ে, গ্রুপ লেভেলে একটাও ম্যাচ না হেরে, সেমিফাইনালে উঠলো পাকিস্তান। আর বাংলাদেশ হারলো লজ্জাজনক সব হার। পরপরই পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফর। ক'দিন আগেই উইকেটের সুবিধা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেই উইকেটেই লজ্জাজনকভাবে বাংলাদেশ হারছে পাকিস্তানের কাছে। কিন্তু গ্যালারিতে চলছে আরেক নাটক। বাংলাদেশের সমর্থকদেরদের এক বিরাট অংশ হয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের সমর্থক। পাকিস্তানের জয়ে আর বাংলাদেশের পরাজয়ে তারা খুশি। পাকিস্তানি পতাকা তারা ওড়ায়, পাকিস্তানি জার্সি তাদের গায়ে। 

এ কিন্তু এক মারাত্মক ব্যাপার! বাংলাদেশের স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে পাকিস্তানি পতাকা আগেও উড়েছে, বিশেষত ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ হলে। কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ হলে এমন হতো না। এক দু’জন হঠাৎ এরকম করে ফেললে তাকে সিঙ্গেল আউট করা হতো, এবং নিদারুণ গণধিক্বারের মুখে পড়তো। কিন্তু এবার যে জনজোয়ার!

এখানে পরস্পরবিরোধী দুটো তথ্য যোগ করে নিলে এই পরিস্থিতির জটিলতার গভীরতা বোঝা যাবে: ১। পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭১ সালে লাখ লাখ বাংলাদেশী হত্যা করেছিল এবং আজ অব্দি ক্ষমা চায় নি, শত্রুরাষ্ট্র পরে বন্ধু হলেও সেই ইতিহাস মুছে যায় নি, যাবে না। সে যুদ্ধে বাংলাদেশ জয়ী হয়েছিল। ২। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান, তাই ভাই-ব্রাদারের অনুভূতি দুই দেশের মানুষের মধ্যে কাজ করে।

আর তৃতীয় তথ্যটি জটিলতার এক নতুন ডাইমেনশন যোগ করে: ৩। অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে হারিয়ে দেবার সুবাদে, সাধারণ বাংলাদেশীদের মধ্যে পাকিস্তানিদের বিষয়ে যে হীনম্মন্যতা বা ইনফেরিওরিটির বোধ ছিল সেটাও প্রায় চলে গিয়েছিল। পাকিস্তানিরাও বলা শুরু করেছিল, তারা আমাদের অধীনে ছিল, আজ তারা কোথায়, আর আমরা কোথায়? আবার ধরা যাক, একসময় বাংলাদেশ টেস্ট খেলতো না, কালেভদ্রে ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেত। সেই দিনও গত, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের র‌্যাংকিং ৭, পাকিস্তানের ৫/৬-এ ওঠানামা করে। পার্থক্য খুব বেশি ছিলও না।

এসব পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, পাকিস্তান যতই ভালো খেলুক আর বাংলাদেশ যতই খারাপ খেলুক, এবার যা ঘটেছে, তাতে দ্বিস্তরিক ব্যাপার আছে: ক। বাংলাদেশের ম্যাচে বাংলাদেশকে সমর্থন না করা খ। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে অপর দলটিকে সমর্থন করা। আমি নিশ্চিত এই অপর দলটি যদি ভারত, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ হতো, এই ঘটনা ঘটতো না। ওপরের ১, ২, ৩-এর মধ্যে তাহলে তো ২-ই প্রধান ফ্যাক্টর এই টুইস্টের (মুসলমানরা ভাই ভাই)। তবুও তো এটা রক্তের ভাইয়ের বিরুদ্ধে গিয়ে দূর সম্পর্কের ভাইয়ের সাথে গলাগলির মতো হলো! আমি বাংলাদেশের ম্যাচে পাকিস্তানি জার্সি গায়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যাচ্ছে যে তরুণ সমর্থকরা, তাদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে চাচ্ছি, পারছি না। তারা তো ইমিগ্রান্টদের দেশ ইংল্যাল্ডে বসবাসকারী পাকিস্তানি না, যে লর্ডসে বসে পাকিস্তানকে সমর্থন করছে। মিরপুর স্টেডিয়ামে দু’চারজন ’আটকে পড়া পাকিস্তানি’ থাকতেও পারে, কিন্তু বেশিরভাগই বাঙালির ঘরে জন্ম নেয়া বাঙালি তরুণ।

আর এতদিন ধরে পাকিস্তান দেশ ও তার মানুষের (পাকি বা পাইক্যাগণ) বিরুদ্ধে এত আলোচনা হলো, ঘৃণার চাষাবাদ হলো সরকারি ভাষ্যে, বই ও সংবাদ-সাহিত্যে এবং ফেসবুকসাহিত্যে, তার দাগ পড়লো না কোথাও? 
খেলার সঙ্গে রাজনীতি না মিশিয়ে তো বিষটা বোঝারও উপায় নেই।

নোট ১।: বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য আরো খারাপি বাকি আছে। আগে দ্বিপাক্ষিক সফরে খেলা হতো, টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচ, এখন হয় টেস্ট ও টিটোয়েন্টি। বাংলাদেশ কেবল ওয়ানডেতে বেশ ভালো, বাকি দুটোয় বেশ দুর্বল। আমি মনে করি না, বাংলাদেশের ক্রিকেট এমন কোনো তলানিতে গেছে, বরং যেমন ছিল তেমনই আছে। কেবল টিটোয়েন্টি ম্যাচ বেশি সংখ্যায় হওয়ায়, তাকে খুব দুর্বল দেখাচ্ছে, খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থাও ভেঙ্গে যাচ্ছে। সাংবাদিক, পর্য়বেক্ষক ও দর্শকদের এই দিকটি মনে রাখা দরকার। ওয়ানডে ম্যাচ শুরু হলে জয় দেখা যাবে, তবে টিটোয়েন্টির আধ্যিক্যে ও ধাক্কায় খেলোয়াড়দের মনোবল ও বিশ্বাস ততদিনে টিকে থাকে কিনা কে জানে!

নোট ২। মন্তব্যে পাকি, জারজ, রাজাকারশাবক ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ করছি। ঘৃণাবাচক এসব বলে যে লাভ হয় না, দেখতেই পাচ্ছেন!

আরও পড়ুন


চুয়াডাঙ্গায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সেখানে চাকরির জন‍্য একমাত্র বিবেচ‍্য বিষয় যোগ‍্যতা

রাউফুল আলম

সেখানে চাকরির জন‍্য একমাত্র বিবেচ‍্য বিষয় যোগ‍্যতা

রাউফুল আলম

আমেরিকায় চাকরির ইন্টারভিউর অভিজ্ঞাতাটা ছিলো খুবই সারপ্রাইজিং। চাকরির ইন্টারভিউ এতো চমৎকার এবং ওয়েলকামিং হতে পারে—সেটা আমি কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি।

২০১৭ সাল। ইউনিভার্সিটি অব প‍্যানসেলভেনিয়াতে (UPenn) পোস্টডক করছি তখন। পোস্টডকের এক বছর যেতেই চিন্তা করি ইন্ড্রাস্ট্রিতে ঢুকবো। যদিও একসময় একাডেমিক ক‍্যারিয়ারের ইচ্ছে ছিলো, পরে সেটা চেইঞ্জ করি। আগে যেহেতু আমেরিকায় কখনো ইন্টারভিউ দেইনি, তাই ল‍্যাবের অন‍্যান‍্যদের কাছ থেকে নিয়ম কানুন কিছু জানলাম। অনেক ব্যাকরণ আছে এই প্রক্রিটার মধ্যে।

প্রথম ইন্টারভিউর ডাক পেলাম ফাইজার (Pfizer) থেকে। ইন্টারভিউর কয়েকটা ধাপ। চাকরির জন‍্য কোনো আবেদন ফি নাই। প্রথম ধাপে রেজুমে, কাভার লেটার ও রিসার্চ সামারি পাঠাতে হলো। তারপর সিলেকশন হলে ওরা একটা ফোন ইন্টারভিউ নেয়। ফোন ইন্টারভিউ হলো। ফোন ইন্টারভিউর পর আমাকে ইনভাইট করা হলো অন-সাইট (On-site) ইন্টারভিউর জন‍্য। অন-সাইট ইন্টারভিউ হলো মূলত সশরীরে গিয়ে হাজির হওয়া। এই অন-সাইট ইন্টারভিউতে সবাইকে কল করে না। সাধারণত একটা পজিশনের (পোস্ট) জন‍্য, দুই-তিনজনকে কল করে। কারণ অন-সাইট ইন্টারভিউতে যখন কল করা হয় তখন সকল প্রকার যাতায়ত খরচ, হোটেলে থাকার খরচ, খাবার খরচ ইত‍্যাদি বহন করে প্রতিষ্ঠান। 

ফাইজারের হেডকোয়ার্টারে গেলাম। অন-সাইট ইন্টারভিউর কয়েকটা পার্ট থাকে। প্রথম পার্ট হলো আমাকে প্রেজেন্ট করতে হবে। সাধারণত এক ঘণ্টার একটা প্রেজেন্টেশন। তারপর দিনভর বিভিন্ন সাইন্টিস্টদের (কর্মকর্তা) সাথে সাক্ষাত। এইচআর (HR) থেকে কয়েকজন লোক থাকে। তাদের সাথে কথা বলতে হয়। তারা মনঃস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা করে। প্রতিষ্ঠান ভেদে আরো কিছু ধাপ থাকে।

অনেক ফিল্ডেই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াটা মোটামুটি এই ধাঁচের। খুবই রিগোরাস একটা প্রসেস। তবে ইনজয় করা যায়। খরচের কোনো টেনশন নাই। আমি ক‍্যালিফোর্নিয়া গিয়েও ইন্টারভিউ দিয়েছি। দেখা গেছে বিমান ভাড়া, হোটেল, খাবার মিলে প্রায় দুই হাজার ডলার বিলও এসেছে, যেটা প্রতিষ্ঠান বহন করেছে।

আদর-আপ‍্যায়ন সবচেয়ে বেশি ছিলো আমি যে প্রতিষ্ঠানে এখন কাজ করি সেটাতে ইন্টারভিউর সময়। ওরা খুবই ওয়েলকামিং ছিলো। ট্রেন স্টেশনে থেকে লিমো সার্ভিসে হোটেলে পৌঁছে দিয়েছে। ইন্টারভিউ ডিনার ছিলো। যেটা সাধারণত ইন্টারভিউর আগের রাতে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনের সাথে একটা ডিনার। এই ডিনারের মাধ‍্যমে মূলত ইন্টারভিউর আগেই কয়েকজনের সাথে পরিচয় হওয়া। তাতে করে ইন্টারভিউর সময় মানসিক চাপ একটু কম থাকে। তারপর হোটেল থেকে প্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং ইন্টারভিউ শেষে ট্রেন স্টেশন পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত ছিলো লিমো সার্ভিস। অর্থাৎ আপ‍্যায়নের যেনো ঘাটতি না হয়, সে ব‍্যাপারে প্রতিটা স্টেপে ওরা খুব সর্তক ছিলো।

ইন্টারভিউর সময় প্রতিষ্ঠান কেমন ট্রিট করে সেটাও কিন্তু একটা বিবেচনার বিষয়। অনেক বড়ো প্রতিষ্ঠান অনেকসময় তেমন ভালো ট্রিট করে না। অনেক প্রতিষ্ঠান ছোট হলেও ট্রিট ভালো দেয়। আমেরিকানরা এগুলো কেয়ার করে। চাকরির অফার পেলে ডিসিশন নেওয়ার সময় এগুলো চিন্তা করে। চাকরির শুরুতেই একটা বোনাস দেয়, যেটাকে সাইন-ইন বোনাস বলে। অনেকে রিলোকেশন বোনাস দেয়। এমন অনেক চমৎকার বিষয় তখন শিখেছিলাম।

সবচেয়ে বড়ো কথা, এদেশে ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে পড়ে কখনো আমাকে ভাবতে হয়নি, আমার বাবা কি করে। বাবার নাম কী। বাবার টাকা আছে কিনা। বাবার কোনো সার্টিফিকেট আছে কিনা। কোনো কোটা আছে কিনা। পরিচিত মামা-চাচা আছে কিনা। নেতা আছে কিনা। সহমতের বড়ো ভাই আছে কিনা। আমার ধর্ম কী। জাত-জাতীয়তা কী। গায়ের রং কী। আমি দেখতে কেমন। কোন দেশ থেকে এলাম—এসব কোনো কিছুই ভাবতে হয়নি।

চাকরির জন‍্য একমাত্র এবং একমাত্র বিবেচ‍্য বিষয় যোগ‍্যতা।

লেখাটি রউফুল আলম ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মিশরের চিকিৎসকেরা অনাগত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারতেন

শান্তা আনোয়ার

মিশরের চিকিৎসকেরা অনাগত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারতেন

শান্তা আনোয়ার

এই প্যাপিরাসটা সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরোনো। লেখা আছে প্রেগন্যান্সি টেস্টের বিবরণ। প্রাচীন মিশরের চিকিৎসকেরা খুব একুইরেট প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারতেন। শুধু তাইনা, অনাগত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারতেন। ভাবা যায়, সেই সাড়ে তিন হাজার বছর আগে সেই স্কিল মানুষের ছিলো। অবশ্য আজকেও সেই একই প্রিন্সিপল বা পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা হয়।

সেই সময়েও ইউরিন টেস্ট করেই এই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা হতো। যার পরীক্ষা হবে তার ইউরিন নিয়ে বার্লি আর যবের বীজ ভিজানো হতো আলাদা করে। যদি এই বীজে অঙ্কুরোদগম হতো তাহলে ধরে নেয়া হতো মহিলা সন্তানসম্ভবা। যদি বার্লির অঙ্কুরোদগম আগে হতো তাহলে অনাগত সন্তানটা ছেলে আর যবের অঙ্কুরোদগম আগে হলে অনাগত সন্তানটি হতো মেয়ে।

প্যাপিরাস
 
এখন প্রশ্ন হতে পারে কীভাবে এটা সম্ভব হতো। আজকে জানা গেছে প্রেগন্যান্সির সময়ে উচু মাত্রার এস্ট্রোজেন যব আর বার্লির অঙ্কুরোদগম ঘটায়। এস্ট্রোজেন বেশী থাকলে তা বার্লির অঙ্কুরোদগমকে দ্রুত করে। আর বেশী এস্ট্রোজেন মাত্রা থাকলে ছেলে জন্মানোর সম্ভাবনা বাড়ে।

আরও পড়ুন:

সিএনএনের সংবাদ উপস্থাপক বরখাস্ত

চট্টগ্রামেও হাফ ভাড়া নেওয়ার ঘোষণা 

বেশী প্রজেস্টোরন থাকলে তা যবের অঙ্কুরোদগম দ্রুত করে। বেশী প্রজেস্টোরন মাত্রা মেয়ে জন্মানোর সম্ভাবনা বাড়ায়। 

তো আমরা সাড়ে তিন হাজার বছরে এগিয়েছি কতটুকু?

লেখাটি শান্তা আনোয়ার-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত (লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 news24bd.tv/এমি-জান্নাত   

পরবর্তী খবর

মধুটা নিজে সংগ্রহ করে খেতে গেলেই বুঝা যায়, স্বাদ নেয়া কতটা কষ্টকর!

রউফুল আলম

মধুটা নিজে সংগ্রহ করে খেতে গেলেই বুঝা যায়, স্বাদ নেয়া কতটা কষ্টকর!

রউফুল আলম

মাস্টার্সে যখন উঠি তখন একটা কম্পিউটার খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। কিন্তু আব্বার সামর্থ‍্য নেই আমাকে একটা কম্পিউটার কিনে দেয়। তখন একটা ডেস্কটপের দাম গড়ে চল্লিশ হাজার টাকা। আব্বাকে বললাম, আপনার যতটুকু সম্ভব ততটুকুই দেন। টিউশনি করে আমার হাতে বেশ কিছু টাকা ছিলো। বন্ধুর কাছ থেকে ধার করলাম কিছু। সব মিলিয়ে একটা ডেস্কটপ কিনলাম। 

ইউনিভার্সিটি জীবনে কখনো একটা মোবাইল ফোনের টাকা বাসা থেকে নেইনি। কখনোই না। সাদা-মাটা ফোন ব‍্যবহার করেছি। আমি যখন সুইডেনে আসি, মাত্র দুই হাজার টাকা দামের একটা নোকিয়া ফোন নিয়ে এসেছিলাম। সাথে একটা ল‍্যাপটপও ছিলো না। স্টকহোম ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস শুরু করে (২০০৯) দেখি সবার হাতে ল‍্যাপটপ। আমার কোন ল‍্যাপটপ নেই। আমি ইউনিভার্সিটির ল‍্যাবের কম্পিউটার ব‍্যবহার করতাম। মাস তিন পর একটা পুরোনো (সেকেন্ড হ‍্যান্ড) ল‍্যাপটপ কিনি। কিন্তু কখনো বাসায় টাকার জন‍্য চাপ দিই নি। এটা সত‍্যি যে মাঝে মাঝে মন খারাপ হতো, কিন্তু বাসায় কোনকিছুর জন‍্য চাপ দেয়ার স্বভাব আমার কখনোই ছিলো না। হয়তো শৈশব-কৈশোর থেকেই বুঝতে শিখেছিলাম—পরিবার কতটুকু পারবে, কতটুকু পারবে না।

একটা সময়ে এসে এসব কিনতে আর ভাবতে হতো না। গতো সাত বছর ধরে শুধু অ্যাপলের প্রোডাক্ট ব্যবহার করি—আইফোন, আইপ‍্যাড, ম‍্যাক, এপল ওয়াচ এভ্রিথিং। —আলহামদুলিল্লাহ! আমি সামর্থ‍্য বিষয়টার জন‍্য অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। সামর্থ‍্য বিষয়টার জন‍্য অপেক্ষা করলে সেটা উপভোগের তৃপ্তি অনেক ও আনন্দের। (আমাকে ক্ষমা করবেন, কথাগুলো প্রসঙ্গত বলা।)

আমি লক্ষ‍্য করেছি, দেশের বহু ছেলে-মেয়ে পরিবারের সামর্থ‍্য বিষয়টা বুঝে না। অনেকে পরিবারকে চাপ দিয়ে দামি দামি ফোন কিনে। একবার ভাবেও না, কোথা থেকে আসে সে টাকা। চিন্তা করে না, কিভাবে বাবা-মা টাকাটা ব‍্যবস্থা করবে।
অনেক ছেলে-মেয়ে একটা ফোন না পেলে পরিবারের সাথে খারাপ আচরণ করে। কিন্তু সেসব ছেলে-মেয়েকে যদি একদিন নিজের টাকায় চলতে বলা হয়, তারা পারবে না।

আরও পড়ুন:

ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা

আজ আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় 'জাওয়াদ'

 
সামর্থ‍্য বিষয়টাকে বুঝতে পারা একটা জ্ঞান। সেটা বুঝতে না পারলে জীবনে বিপদ আসে। সামর্থ‍্য বৃদ্ধির জন‍্য কাজ করতে হয়। শ্রম দিতে হয়। নিজের সৎ উপার্জনে উপভোগ করার চেষ্টা হলো পবিত্রতম ও আনন্দের। যেদিন নিজে উপার্জন করতে পারবে, সেদিনই বুঝবে পরিবার দিনের পর দিন কতো ত‍্যাগ স্বীকার করেছে। তার আগে বুঝতে পারবে না। 
মৌমাছির চাক ভেঙ্গে মধুটা নিজে সংগ্রহ করে খেতে গেলেই বুঝা যায়, মধুর স্বাদ নেয়া কতোটা কষ্টকর!

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

  news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

দুর্ভাগা আমি নাকি দুর্ভাগা তারা, যারা আমাকে জানলো না?

অনলাইন ডেস্ক

দুর্ভাগা আমি নাকি দুর্ভাগা তারা, যারা আমাকে জানলো না?

তসলিমা নাসরিন

সাত খণ্ডে আত্মজীবনী লিখেছি। কিন্তু তারপরও গুগলে ইউটিউবে আমার সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রচার করে অচেনা লোকেরা, যেসব 'জীবনী'র সঙ্গে আমার জীবনের আদৌ কোনও সম্পর্ক নেই। অজ্ঞতা, অসত্য, অশিক্ষা, অপপ্রচার, অন্ধত্ব, অবিবেচনা, অমানবিকতাকে সম্বল করেই সেগুলো প্রচার করা হয়। আজ দেখলাম এক পাল লোক লিখেছে কেন আমি বাংলাদেশ ছেড়েছি। 

আমার কিছুই না জেনে একেকজন বিজ্ঞের মতো বিশেষজ্ঞর মতো বিষোদ্গার করেছে। মাঝে মাঝে ভাবি পৃথিবীর কারও বিরুদ্ধে বোধহয় এত নানান কিসিমের লোক ঝাঁপিয়ে পড়ে না। ধর্ম নিয়ে কেন লিখেছি, ধার্মিকেরা বিরুদ্ধে। পুরুষতন্ত্র নিয়ে কেন লিখেছি, পুরুষতান্ত্রিকরা বিরুদ্ধে। সাহিত্যিককে নিয়ে কেন লিখেছি, সাহিত্যিকরা বিরুদ্ধে। ডানপন্থা নিয়ে কেন লিখেছি, ডানপন্থীরা বিরুদ্ধে। বামপন্থা নিয়ে কেন লিখেছি, বামপন্থীরা বিরুদ্ধে। সরকারকে নিয়ে কেন লিখেছি, সরকার বিরুদ্ধে। 

আরও পড়ুন:


কুয়েটে শিক্ষকের মৃত্যু: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ইউপি নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে নৌকা পেলেন যারা


ব্যক্তিগত ভাবে মানুষ আমি কী রকম? অতি সহজ  অতি সরল অতি নিরীহ অতি বন্ধু বৎসল। পিঠে লোকে ছুরি বসাচ্ছে তো বসাচ্ছেই, যারা ছুরি বসায়, আবার তারা চোট পেলে তাদের  জন্যই আহা আহা করে ছুটে যাই।  নিজের আদর্শ আর সততাকে সমুন্নত রাখতে নিজের সমূহ ক্ষতি করতে দ্বিধা করি না। আমার এই চরিত্র সম্পর্কে কোথাও কাউকে কিন্তু এক বর্ণ কিছু উচ্চারণ করতে দেখি না। 

দুর্ভাগা আমি নাকি দুর্ভাগা তারা, যারা আমাকে জানলো না? মাঝে মাঝে মনে হয় দুর্ভাগা আমিই। মানুষ হিসেবে এত সৎ, এত নিষ্ঠা, এত উদার, এত ত্যাগী, আমি না হলেও হয়তো পারতাম। যাদের চারদিকে সুখ্যাতি, তাদের হিসেবী জীবন দেখলে চমকে উঠি। হিসেবটা আবার আমার একেবারেই অভ্যেসে নেই।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ফেসবুকে ঝুড়িভর্তি হলুদের ছবি পোস্ট করলেন জয়া

অনলাইন ডেস্ক

ফেসবুকে ঝুড়িভর্তি হলুদের ছবি পোস্ট করলেন জয়া

জয়া আহসান

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। হালের জনপ্রিয় এই নায়িকার গুণের যেন শেষ নেই। এইতো কিছুদিন হলো পশুপাখির প্রতি ভালোবাসার জন্য পুরস্কার পান তিনি।

দ্য পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার (পাও) থেকে প্রাণীপ্রেমী হিসেবে স্বীকৃতি পান জয়া। ঢাকাই চলচ্চিত্রের দাপুটে এ অভিনেত্রীর বাগান করা যে একটা শখ এটা অনেকেই জানেন। 

নিজের বারান্দা ও ছাদবাগানে প্রায় শতাধিক গাছ রয়েছে জয়ার। প্রায়ই নিজের বাগানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। 

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে ঝুড়িভর্তি হলুদের ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন সদ্য তোলা সোনালী রঙা হলুদের মনমোহিনী ঘ্রান…।

আরও পড়ুন:


কুয়েটে শিক্ষকের মৃত্যু: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ইউপি নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে নৌকা পেলেন যারা


জিআই ব্যাগের ভেতরে মাটি ফেলে ইস্কাটনে বাসার ছাদে বাগান করেছেন জয়া। এর আগে নিজের বাগানের জলপাই, টমেটো, লেবু,ধনে পাতা, শিম, বেদানা,পেয়ারাসহ অনেক ফল ও শাকসবজির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন জয়া। সেই সাথে রঙ বেরঙের সব ফুলের গাছও রয়েছে জয়ার বাগানে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর