চলনবিলের পথে পথে ভাসমান হাঁসের খামার

নাটোর প্রতিনিধি

চলনবিলের পথে পথে ভাসমান হাঁসের খামার

ভাসমান হাঁসের খামার

চলনবিলে প্রবেশ করলেই পথে পথে চোখে পড়বে ভাসমান হাঁসের খামার। এক সময় বর্ষাকালে বানের পানি এলে জাল বুনন আর মাছ ধরার ধুম পড়ে যেত চলনবিল এলাকার মানুষের মধ্যে। 

তবে নানা কারণে আগের মতো আর মাছ পাওয়া যায় না চলনবিলে। তাই এখানকার অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটছে দুর্বিষহ জীবন। এর থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতে গিয়ে কিছু মানুষ সন্ধান পেয়েছে বিলে হাঁস পালনের মতো লাভজনক পেশার। ফলে সংসারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা। 

চলনবিলে হাঁস পালনের সব থেকে বড় সুবিধা বিলে পানি থাকা অবধি প্রায় ছয় মাস হাঁসের প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় শামুক, ঝিনুকসহ জলে বাস করা নানান প্রাণী। এতে হাঁস পালনে খরচ কমে। বাড়ে লাভের পরিমাণ। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে বছরের পুরো সময় অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছে এসব পরিবারের ছেলেরা।

আরও পড়ুন


অভিষেক ম্যাচে খেলতে নেমে আঘাতে হাসপাতালে ক্রিকেটার

বাবাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৫

মাঠে ঢুকে পড়া সেই মোস্তাফিজের ভক্তের ৭ দিন রিমাণ্ড চায় পুলিশ


মূলত হাঁসের ডিম বিক্রি করেই মিটছে সংসারের খরচপাতি। চলছে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা। কমছে ঋণের বোঝাও। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বা এ ধরনের খামার গড়ে উঠলে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা স্থানীয়দের।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে চলনবিলে ছোট বড় প্রায় ৪৫১টি খামার রয়েছে। এর মধ্যে রাজহাঁসের খামার অর্ধেক। হাঁস পালনকারীরা পাতিহাঁস এবং রাজহাঁস উভয় প্রকারের হাঁস পালন করে মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ করে। এসব খামারে হাঁস আছে দেড় লাখেরও বেশি। আবার স্থানীয় পরিবারগুলোও পালন করছে প্রায় ৭-৮ লাখ হাঁস। এতে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি বেড়েছে আয়। পূরণ হচ্ছে স্থানীয়দের আমিষের চাহিদাও।

বিলে উচ্ছিষ্ট বোরো ধান ও শামুক হাঁসের প্রধান খাদ্য এবং অল্প টাকা বিনিয়োগে ব্যবসা সফল হওয়ায় বর্তমানে পুরুষরাই বিকল্প পেশা ও বেকারত্ব দূর করার জন্য অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালনের দিকে ঝুঁকছে।

সরেজমিনে চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে হাঁসের খামারগুলোতে দেখা যায়, সকাল হলেই খামারিরা হাঁস নিয়ে রওনা দেন বিলের পানিতে। সন্ধ্যার আগে আবার ফিরে আসে খামারে। কেউ আবার পানিতেই জালের ঘের করে হাঁসের খামার করেছেন।

চলনবিলের খামারি হাসমত আলী জানান, তিনি ৩০০টি হাঁস পালন করেন। সকালে হাঁসগুলো বিলে চলে যায়। সারাদিন শামুক-ঝিনুক খায়। তিনি নিজেও কিছু খাবার দেন। পরিবারের ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণ ছাড়াও হাঁস বিক্রি করে আয় করছেন তিনি। 

চলনবিলের আরেক খামারি আজগর আলী জানান, তিনি সারা বছরই হাঁস পালন করেন। এখন তার খামারে ক্যাম্বেল জাতের ৬০০টি হাঁস রয়েছে। ৪-৫ মাস বয়সী হাঁস কেনেন। সাড়ে ৫ মাস বয়স থেকে ডম দেওয়া শুরু করে। এখন তার খামারের ৫০০টি হাঁস ডিম দিচ্ছে। বছরে খরচ বাদে ৩-৪ লাখ টাকা লাভ থাকে তার।

তিনি আরও বলেন, একটি হাঁস গড়ে বছরে ৩০০টি ডিম দেয়। তিন বছর পর ডিম দেওয়া কমতে থাকে। তখন মাংসের জন্য হাঁসগুলো বিক্রি করেন। বর্তমানে প্রতিটি ডিম ১১-১২ টাকা ও প্রতিটি হাঁস গড়ে ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

খামার শ্রমিক মো. বেলাল উদ্দিন জানান, সকাল ৭টায় হাঁস ছাড়ি। তারপর ডিমগুলো তুলা হয়। ৩০০-৩৫০টি ডিম হচ্ছে এখন। এখন বিলের খাবার না পাওয়াতে অনেক আয়ের সংখ্যা কমে গেছে। হাঁসের খাবার বেশি দিতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, জেলার প্রতিটি খামারেই অন্তত ৩-৪ জন কাজ করছে। খামারগুলোতে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার হাঁস পালন করা হচ্ছে। বিলে পানি বেশি থাকলে খরচ তেমন হয় না। পানি না থাকলে খরচ সামান্য বাড়ে। বছরে একেক খামারির কমপক্ষে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়।

তিনি আরও বলেন, নাটোর জেলায় হাঁস পালন করছে আরও ৩০-৪০ হাজার পরিবার। সেখানেও প্রায় ৭-৮ লাখ হাঁস আছে। প্রতিটি পরিবার বছরে আয় করছে ২০ হাজার টাকা করে। এ খাতে আরও মানুষকে সংযুক্ত করার কাজ করে যাচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

জমে উঠেছে খেজুর রস ও পাটালি গুড়ের উৎপাদন

জাহিদুজ্জামান,কুষ্টিয়া:

গাছ থেকে খেজুরের রস পেড়ে দিচ্ছেন গাছীরা

কুষ্টিয়া জমে উঠেছে খেজুর রস ও পাটালি গুড়ের উৎপাদন। ভেজালের সন্দেহ দূর করতে চোখের সামনেই গাছ থেকে খেজুরের রস পেড়ে দিচ্ছেন গাছীরা। জালিয়ে তৈরি করছে গুড়। কুষ্টিয়ার বাইপাসে কয়েকটি গ্রুপ এভাবেই ক্রেতাদের মন জয় করে নিয়েছেন। 

সকাল-সাঁঝে দল বেধে এসে মানুষ খেজুরের রস পান করছেন, সাথে গুড়-পাটালি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। গাছিদের ব্যবসাও ভাল হচ্ছে। 

জাহিদুজ্জামানের প্রতিবেদনে বিস্তারিত।

আরও পড়ুন


বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় মামলা, আসামি ৮ শতাধিক

টেস্ট ছাড়া কেউ দেশে এলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায়

পাটবীজ চাষে আগ্রহী বাড়ছে বগুড়ার চাষিরা

বগুড়া থেকে আব্দুস সালাম বাবু:

পাটের বীজ উৎপাদন

সরকারি প্রনোদনা ও স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় পাটবীজ চাষে আগ্রহী হচ্ছে বগুড়ার চাষিরা। পাটের বীজ উৎপাদনে কৃষি বান্ধব সরকারের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরামর্শ দিচ্ছে পাট ও কৃষি বিভাগ।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় ছড়িয়ে পড়বে বগুড়া পাটবীজ, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। 

বাংলাদেশের পাটবীজ এখনও আমদানি নির্ভর। যার পুরোটাই ভারত থেকে আসে। বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগে পাটের বীজ উৎপাদনে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বগুড়ায় কাজ করছে পাট অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সরকারি প্রনোদনায় বীজ, সার, কীটনাশক, স্প্রে মেশিন পেয়ে সদর উপজেলা, গাবতলী, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় ৭৮ একর জমিতে পাটবীজ চাষ করেছেন ৮ শতাধিক কৃষক।

স্বল্প খরচে লাভজনক এবং নিজেদের উৎপাদিত বীজ থেকে ভালো ফসল প্রত্যাশায় চাষীরাও দিনদিন  আগ্রহী হচ্ছেন পাটের বীজ উৎপাদনে।

আরও পড়ুন


ভাইরাল ছবি হাছান মাহমুদের নয়!


স্থানীয় কৃষি বিভাগের দাবি দেশে উৎপাদিত বীজের মান আমদানী করা বীজের চেয়ে ভালো, লক্ষ্যমাত্রা পূরন হলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলাতেও বীজ সরবরাহ করা যাবে।

চলতি বছরে জেলায় ১২ হাজার ১৬৮ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছিল দেড় লাখ মেট্রিকটনেরও বেশি।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

বাৎসরিক আয় ৪০ লাখ

পাবদা মাছ চাষে রিগানের বাজিমাত

নাসিম উদ্দীন নাসিম

পাবদা মাছ চাষে রিগানের বাজিমাত

পাবদা মাছ চাষে সফলতা

পাবদা মাছ  চাষে ব্যাপক সফলতা পাওয়ার পাশাপাশি বাজিমাত করেছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার রামানন্দ খাজুরিয়া গ্রামের মাছ চাষি রিগান হোসেন। ৫টি পুকুরে চাষ করেন পাবদা মাছ। প্রতি বছর শুধুমাত্র পাঙ্গাস মাছ ভারতে রফতানি  করে আয় করেন ৪০ লাখ টাকা। তার দেখাদেখি এখন এলাকার অনেকেই মাছ চাষে নিজেদের ভাগ্য ফিরিয়েছেন বলে জানান রিগান।

জানা যায়, রিগান হোসেন রাজশাহী কলেজ থেকে ২০১২ সালে মাস্টার্স শেষ করেছেন। তারপর কুমিল্লায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি মাছ চাষে মনোযোগ দেন।

২০১৪ সালে নিজ অর্থে গড়ে তোলেন মৎস্য আড়ত। যেখান থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো শুরু করেন। শুরুতে খুব একটা সফলতা না পেলেও ছাড়েননি ব্যবসা। আঁকড়ে ধরে ছিলেন দীর্ঘ ছয় বছর। 

তারপর হঠাৎ একদিন ভাবলেন, কীভাবে দেশের বাইরে দেশীয় প্রজাতির মাছ রফতানি করা যায়। যেই ভাবনা সেই কাজ। ২০১৯ সালে শুরুকরেন পাবদা মাছ রফতানি। তারপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬০০ মেট্রিক টন পাবদা মাছ বিভিন্ন দেশে রফতানি করেছেন। 

আরও পড়ুন


সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটরডেমের ছাত্র নিহত


বর্তমানে ভারতে রফতানি অব্যাহত রয়েছে। তার এখানে কর্মসংস্থান ২০ জনের তরুণের।বিভিন্ন বেসরকারি হ্যাচারি থেকে খামারিরা পোনা সংগ্রহ করে আনেন। পরে সেগুলো পুকুরে মিশ্র ও দানাদার খাবার খাইয়ে বড় করা হয়। সাধারণত এক বিঘা আয়তনের একটি পুকুরে দেড় লাখ টাকা খরচ করে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা যায়। পুকুরপাড় থেকেই গড়ে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাবদা বিক্রি হয়। সঙ্গে পানির পরিবেশ ঠিক রাখতে পুকুরে রাখা হয় অন্য জাতের মাছ।

মৎস্য বিভাগ জানায়, সাধারণত মার্চের শুরুতে পুকুরে পাবদা পোনা ছাড়া হয় এবং ছয় মাস পর থেকে তা সংগ্রহের উপযোগী হয়। রফতানির পাশাপাশি দেশের বাজারে চাহিদা থাকায় পাবদা খামারিরা লাভবান হচ্ছেন।

উন্মুক্ত জলাশয়ের মাছ পাবদা। চলনবিল এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সুস্বাদু পাবদা মাছের চাষ। খুব অল্প সময়ে বেকার যুবকরা এ মাছ চাষ করে নিজের পরিবারের অভাব দূর করছেন। অন্যদিকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে সুস্বাদু এ মাছ এখন রফতানিহচ্ছে ভারতে। খুব অল্প চাষির মধ্য দিয়ে শুরু হলেও এখন জেলায় পাবদাচাষির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫০ জনে। তাদের মধ্যে সফল একজন হলেন রিগান।

মাছচাষী রিগ্যান জানান, প্রথমে আমার মৎস্য আড়ত ছিল, এখনো আছে। আড়ত শুরু করার পর থেকে মাছগুলো যেত ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। একদিন ভাবলাম চলনবিলে পাবদা মাছ উৎপাদিত হচ্ছে, এ মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু। দেশের বাইরে কীভাবে এ মাছ রফতানি করা যায়। 

তখন যাদের এলসি করা আছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং ২০১৯ সালে প্রথম চালান পাঠাই।পর্যায়ক্রমে ৬০০ মেট্রিক টনের ওপরে পাবদা রফতানি করেছি।লাভ ও খরচ বিষয়ে রিগান জানান, এখন সপ্তাহের পাঁচ দিন ৫ মেট্রিক টনের ওপরে পাবদা রফতানি হচ্ছে। যা এখন শুধু ভারতে যাচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালে চায়না, সৌদি আরবেও গিয়েছে। প্রতিদিন ৫ মেট্রিক টন পাবদা পাঠাতে তার খরচ হয় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা। মাসিক আয় ৫ লাখ টাকা। বার্ষিক আয় হয় খরচ বাদ দিয়ে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ওষুধ ও মাছের খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন পাবদা চাষে লাভ করাটা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে অন্যান্য মাছের তুলনায় দাম কম হওয়ায় সব শ্রেণির মানুষ পাবদা মাছ কিনতে পারছে। তরুণদের এসএমই ঋণ দিয়ে মাছ চাষে আগ্রহী করতে সরকার উদ্যোগ নিলে দেশে কর্মস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

দামে তুলনামূলক সস্তা ও বাজারে চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদন ও উৎপাদন ব্যয় কম থাকায় বর্তমানে জেলার সিংড়ায় পাবদা মাছ চাষিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাবদা রফতানিকারক মো. রিগান জানান, প্রতি বছর চলনবিল এলাকা থেকে ৫০০-৬০০ মেট্রিক টন পাবদা বিভিন্ন জেলা ও ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। পচনশীল পণ্য হলেও এ মাছ প্রায় এক সপ্তাহ ভালো থাকে। এ কারণে প্যাকেটজাত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভালোভাবেই চলে যায়।

তিনি আরও জানান, রপ্তানিকারকদের কোথাও চাঁদাবাজির শিকার হতে হয় না। খুব সহজে গাড়ি জেলায় জেলায় যায়। এ কৃতিত্ব আইসিটি প্রতিমন্ত্রী  ও সিংড়ার এমপি জুনাইদ আহমেদ পলকের। শুল্ক কমানোর পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো হলে পাবদা মাছ শুধু ভারতেই না, বিশ্বের আরো অনেক দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

সিংড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লাহ ওয়ালিউল্লাহ জানান, কৃষির যে কোনো সেক্টরের তুলনায় পাবদা চাষ লাভজনক। এ চাষ বৃদ্ধিতে নিয়মিত খামারিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিক্রিতেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। রপ্তানির পাশাপাশি দেশের বাজারে চাহিদা থাকায় পাবদা খামারিরা দিনদিন লাভবান হচ্ছেন।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে ফরিদপুরের দুগ্ধ খামারীরা

খায়রুজ্জামান সোহাগ, ফরিদপুর

করোনার প্রকোপে দুর্দশা কাটিয়ে আবারও স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে ফরিদপুরের দুগ্ধ খামারীরা। টানা দু বছর লোকসানে থাকার পর এবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। আর ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের প্রনোদনাসহ সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানান জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। 

করোনাকালীন প্রায় দুই বছরে বন্ধের মুখে পড়ে ফরিদপুরের অনেক দুগ্ধ খামারীরা। সময় মতো দুধ বিক্রি করতে না পারা,  ও গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধিসহ নানা সংকটে ঋনগ্রস্ত বেশিরভাগ খামারী।

মহামারী কমে আসায় আবারও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন তারা।  কাঙ্খিত দাম পাওয়ায় নতুন আশা আলো দেখছেন খামারিরা।  তবে দুর্যোগপূর্ণ  সময়ে দুধ সংরক্ষণের ব্যবস্থার দাবিও জানান তারা।

এদিকে করোনাকালীন সময়ে হারানো চাকরি ফিরে পেয়ে খুশি শ্রমিকেরা।

 ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের লোকসান পুষিয়ে নিতে  সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা।

ফরিদপুর জেলায় বর্তমানে ১০হাজার দুগ্ধ খামার রয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হয়।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

রপ্তানী বন্ধ হওয়ায় হতাশ কৃষক

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পান

শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ:

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পান

বিদেশে পান রপ্তানী বন্ধ হওয়ার কারণে পানের দরপতনে হতাশ ঝিনাইদহ জেলার পান চাষিরা।

ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা থেকে দেশের বাহিরে বড় একটা অংশ যেতো বিদেশে। সালমনিয়া রোগের কারণে বর্তমানে বিদেশে পান রপ্তানী এখন বন্ধ আছে। যার কারণে পানের দাম পড়ে গেছে। কৃষি বিভাগে সাথে অলোচনা চলছে অচিরেই বিদেশে পান রপ্তানী শুরু হবে। বিদেশে পান রপ্তানী শুরু হলে কৃষকরা অগের দামে আবার পান বিক্রি করতে পারবেন। 

গত ২ বছর করোনার কারণে চাহিদা কম আর রপ্তানী না হওয়ায় পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পান। বর্তমানে দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছে কৃষকরা। বর্তমানে দেশের সব জেলাতে কমবেশি পান চাষ হচ্ছে। এছাড়া এবার বেশি বৃষ্টির কারণে পান ভালো হয়েছে। ক্ষতির পরিমান নেই বললেই চলে। যার ফলে এবার পানের দাম খুবই কম।

ঝিনাইদহে জেলার বিভিন্ন উপজেলার পানের হাটে সব্বোর্চ ভালো মানের পান ৪০ টাকা ও সর্বনিম্ন৫ টাকা পণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলার ভাটই,কুলচারা,বিন্নি, পোড়াহাটী, মান্দিয়া, হলিধানী, ডাকবাংলা, হরিণাকুন্ডু উপজেলার আমতলা, জিন্দারের মোড়সহ বিভিন্ন হাটে পান কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে ঝিনাইদহ শহরের নতুন হাটখোলা পান বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি পণ পান সবোর্চ্চ ৪০ টাকা ও সর্বনিম্ন ৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যা গত বছরে ২শ টাকার উপরে পানের দাম ছিল। সর্বনিম্ন ২০ থেকে ১০ টাকা দরে পান বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে  পানের দরপতনে হতাশ জেলার সকল কৃষকরা। 

হরিণাকুন্ডু উপজেলার পোলতাডাঙ্গা গ্রামের পানচাষী আবুল হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে পান আবাদ করতে বর্তমানে খরচ হচ্ছে ৩ লাখের উপরে। পানের সার, খৈল, বিচুলী, পাটকাঠি, ওয়াসি, শ্রমিকসহ হিসাব করলে ৩ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে পানের যে দাম যাচ্ছে তাতে ভালো মানের পান হলেও ১ লাখ টাকার বেশি হচ্ছে না। 

দাম কম হওয়ায় এবারও আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এবার পানের যে দাম যাচ্ছে তা গত কয়েক বছরের তুলনায় সব চেয়ে কম। পানের দাম কম হওয়ার কারণে এবার উৎপাদন খরচ ও উঠছে না।

একই উপজেলার তাহেরহুদা গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, পানের দাম ভালো পেতে এখন সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ভারত থেকে কিছু পান আসে সেই পান আনা বন্ধ করতে হবে আর আমাদের দেশীও বিদেশে পান রপ্তানী বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন


ডিভোর্স দেয়ায় সাবেক স্ত্রীর বুকে ও মাথায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত


ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের পানচাষী আব্দুল লতিফ বলেন, গত ২ বছর করোনার কারণে পান বিক্রি কম হয়েছে। গত ২ বছর পান বিক্রি করতে পারিনি। আর এখন বিক্রি হলেও দাম কম পাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে পানের আবাদ বন্ধ করে অন্য আবাদ করা লাগবে।

ভবানীপুর গ্রামের পান চাষি মজনু জানান, বর্তমানে দেশের সব জেলাতে কমবেশি পান চাষ হচ্ছে। এছাড়া এবার বেশি বৃষ্টির কারণে পান বেশি ভালো হয়েছে। ক্ষতির পরিমান নেই বললেই চলে। যার ফলে এবার পানের দাম খুবই কম। এছাড়া আমেরিকা, ইংলেন্ড, সৌদি-আরব ও কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে পান রপ্তানী হতো। সেখানে বর্তমানে পান রপ্তানী হচ্ছেনা। ফলে এবার পানের দাম।
  
একই এলাকার ইব্রাহিম জোয়ারদার জানান, আমদানি বেশি হওয়ার কারনে এবার পানের দাম খুবই কম। সারা বাংলাদেশে কম বেশি মন্টু, মিষ্টি ও ঝাল পান আবাদ হচ্ছে। ফলে পানের দাম নেই বললে চলে। এর আগে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও পান রপ্তানী করা হতো। সেটা এখন বন্ধ রয়েছে। ফলে পান চাষিরা চরম বিপদে আছে। 

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক আজগর আলী বলেন, সালমনিয়া রোগের কারণে বর্তমানে বিদেশে পান রপ্তানী এখন বন্ধ আছে। যার ফলে পানের দাম পড়ে গেছে। কৃষক ভাইদের পানের ন্যায্য মুল্যে নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। পান চাষীরা যেন সিন্ডিকেটের কবলে যেন না পড়ে এ জন্য নিয়মিত ভাবে বাজার পরিদর্শন করছি। আর কৃষি বিভাগের সাথে আলোচনা করে বিদেশে পান রপ্তানী বাড়ানোর ব্যাপারে কথা চলছে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর ঝিনাইদহ জেলা সদর, হরিনাকুন্ডু, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ, কোটচাদপুর ও মহেশপুরে ৬ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ২০২১ অর্থ বছরে ২ হাজার ২শ ৩৯ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। ফলন হয় ১২ দশমিক ৭/৫ টন পার হেক্টর জমিতে। ২০২১/২২ শে ২ হাজার  ৩শ ৬৯ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। ফলন ১৩ দশমিক ৩/৪ টন পার হেক্টর জমিতে।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর