কর অঞ্চল বগুড়ার সেরা করদাতাদের পুরস্কার প্রদান

আব্দুস সালাম বাবু , বগুড়া:

কর অঞ্চল বগুড়ার সেরা করদাতাদের পুরস্কার প্রদান

বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলার ২৮ জন সেরা করদাতাকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেছে কর অঞ্চল বগুড়া। 

বুধবার বেলা ১১ টায় বগুড়ার মম ইন এর স্কাইভিউ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রতি জেলার ৩ জন সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারী, ২ জন দীর্ঘ মেয়াদি কর প্রদানকারী, সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারী (মহিলা) ও তরুণ সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারী করদাতাকে সম্মাননা দেয়া হয়। 

কর অঞ্চল বগুড়ার উদ্যোগে জেলা ভিত্তিক সর্বোচ্চ ও দীর্ঘ সময় কর প্রদানকারী করদাতাবৃন্দদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর অঞ্চল বগুড়ার কর কমিশনার রাসেল চাকমা।

আরও পড়ুন


সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটরডেমের ছাত্র নিহত


এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সরকারী আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহজাহান আলী, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া চেম্বার অব কমার্স সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন, বগুড়া ট্যাক্সেস ল,ইয়ার্স এসোসিয়েশন সভাপতি আব্দুল হামিদ, অতিরিক্ত কর কমিশনার মহিদুল ইসলাম। 

কর পরিদর্শক হযরত আলীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সম্মাননা প্রাপ্ত করদাতা অশোক রায়, জান্নাত আরা হেনরী, রাসেল আহমেদ লিটন, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় সকলে মিলে কর প্রদান করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বক্তারা।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন নিল নেটফ্লিক্স

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন নিল নেটফ্লিক্স

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযোজনা সংস্থা নেটফ্লিক্স জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ব্যবসায় নিবন্ধন নম্বর (বিআইবিএন) নিয়েছে, যা ভ্যাট নিবন্ধন নামে পরিচিত। এর আগে বিশ্বের অন্যতম টেক জায়ান্ট গুগল ও আমাজন ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট থেকে অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসায় নিবন্ধন নম্বর (বিআইএন) নেয়। ২৩ মে গুগল এবং ২৭ মে আমাজন এই ভ্যাট নিবন্ধন পেয়েছে। 

বুধবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট থেকে বাংলাদেশের অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নেটফ্লিক্স  বিআইএন গ্রহণ করে।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সিঙ্গাপুরের ঠিকানা ব্যবহার করেছে এবং নেটফ্লিক্স পিটিই লিমিটেড, সিঙ্গাপুর নামে নিবন্ধন পেয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করবে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নেটফ্লিক্স এ দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এখন তারা পুরোপুরি ভ্যাট আইনের আওতায় এলো এবং আইনি সুরক্ষাও পাবে।

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠাটির স্থানীয় পরামর্শক হিসেবে প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেছে। ডিসেম্বর থেকে নেটফ্লিক্স নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করবে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আগাম তরমুজ চাষে ব্যস্ত পটুয়াখালীর কৃষকেরা

অনলাইন ডেস্ক

আগাম তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন, ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা। গেলো বছরের চেয়ে এবছর এ জেলায় বেশী জমিতে তরমুজ আবাদ হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

দিনে রোদের তাপ, রাতে হালকা শীত, সকালে কুয়াশার ঘন আবরণ। এ বছর ধানের ফলন ভাল হলেও বাজার মন্দা। এজন্য সব কিছু উপেক্ষা করে আগাম তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপকূলীয় কৃষক-কৃষাণীরা। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনেকে মহাজন ও এনজিও থেকে চরা সুদে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন।

তবে ডিজেলেন দাম বাড়তি থাকায় বিগত বছরের তুলুনায় এবার উৎপাদন খরচ বেশী হচ্ছে। এ কারণে কিছুটা হতাশ কৃষক। 

প্রতি বছর জেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজ উৎপাদন হয় দ্বীপাঞ্চল উপজেলা রাঙ্গাবালীতে। রাঙ্গাবালীর রাঙ্গা তরমুজের সুনাম রয়েছে সারা দেশে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, ফসলের ন্যায্য দামের আশায় কৃষক।


আরও পড়ুন:

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে কটূক্তি, কাটাখালীর মেয়র আটক

শুরু হলো মহান বিজয়ের মাস

আজ থেকে ঢাকার গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক কার্যকর


জানুয়ারির শেষে এ অঞ্চলের তরমুজ বাজারজাত করার প্রত্যাশা চাষীদের।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, গেলো বছর জেলায় তরমুজ চাষ হয়েছে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে। ৮ হাজার হেক্টরই রাঙ্গাবালী উপজেলায়। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

রেমিট্যান্সে ভাটা

অনলাইন ডেস্ক

রেমিট্যান্সে ভাটা

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও রেমিট্যান্স ভালো এলে বর্তমানে তা নিম্নমুখী। এখন ক্রমেই কমছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ। গত নভেম্বরে যে প্রবাসী আয় এসেছে, তা গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। যেটিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে ৪ শতাংশ আয় কমেছে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৭২ কোটি ডলার।

আর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আসে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর নভেম্বরে তা ভয়াবস আকার ধারণ করে সেটি কমে হয়েছে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

বুধবার (০১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য বিদায়ী নভেম্বর মাসে ১.৫৫ বিলিয়ন বা ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা দেড় বছর বা ১৮ মাসের মধ্যে এটিই সবচেয়ে নিম্নগামী। গত বছরের (নভেম্বর ২০২০) একই সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। ২০১৯ সালের নভেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালের মে মাসে। ওই সময় রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ডলার।

করোনার পর অবৈধ চ্যানেলগুলোতে (হুন্ডি) অর্থ লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় রেমিট্যান্স কমছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি করোনায় চাকরি হারিয়ে প্রবাসীরা জমানো টাকা দেশে আনায় করোনাকালে রেমিট্যান্স বেড়েছিল।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স আসে ৮৬০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৭৩ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২৮ কোটি ৫২ লাখ বা প্রায় ২১ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে এক হাজার ৮৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার বা ৯২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা প্রবাসী আয় এসেছিল।

সদ্য বিদায়ী নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১২০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ৭৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

আরও পড়ুন: 


পায়ের রগকাটা মরদেহ পড়ে আছে নদীর পাড়ে


news24bd.tv /তৌহিদ

পরবর্তী খবর

দুই বিঘায় শুরু করে ২০০ বিঘার মালিক তিনি

নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর

দুই বিঘায় শুরু করে ২০০ বিঘার মালিক তিনি

পেয়ারা চাষ

নাটোরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পেয়ারা চাষ হচ্ছে এক দশক ধরে। সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পেয়ারা চাষ করে জাদুকারি সাফল্য পেয়েছেন চাষীরা। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়ায় পেঁয়ারা চাষে আগ্রহী হয়েছে অনেকে। নাটোর সদর উপজেলার মাটি সব ফসলের জন্য উপযোগী। জেলার উদ্দোমী পেয়ারা চাষী আফাজ আলী পেঁয়ারা চাষ করে সফল হয়েছেন।

২০১৫ সালে বাড়ির পাশে নিজের দুই বিঘা জমিতে শুরু করেন পেঁয়ারা চাষ। শুরুতে বিনিয়োগ করেন দুই লাখ টাকা। বছর শেষে পেয়ারা বিক্রি করেন ১০ লাখ টাকার। তারপর থেকে সিদ্ধান্ত নেন পেয়ারা চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নেবেন। বাড়াতে শুরু করেন পেয়ারা বাগানের পরিধি। ২০০ বিঘায় ৯টি বাগানে পেয়ারা চাষ করে তিনি এখন জেলার সবচেয়ে বড় পেয়ারা উৎপাদনকারী।

শুধু বাগানই নয়, ভিটামিন-খনিজ উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশের পুষ্টিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন কর্মসংস্থান। প্রতিদিন গড়ে দেড়শ মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন তিনি। এছাড়া আফাজের বাগানের পেয়ারা নাটোর ছাড়িয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।সফল উদ্যোক্তা পেয়ারাচাষী আফাজ আলীর বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার চন্দ্রকোলা রুয়েরভাগ গ্রামে। কৃষক পরিবারে ১০ ভাইবোনের আর্থিক টানাপোড়েনের সংসারে সবার ছোট আফাজ আলী। আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ব্যবসায়ের হাতছানির কারণে পড়াশোনা বেশি দূর করতে পারেনি । ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসার অভিজ্ঞতা থেকে একসময় শুরু করেন চাল ব্যবসা। এ ব্যবসায় মুনাফা থাকলেও একসময় হাল ছেড়ে দেন। বারবার ব্যবসায়ের পরিবর্তন শেষে পেয়ারা চাষেই থিতু হন তিনি। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে পেয়ারা যেহেতু তাকে এনে দিয়েছে সাফল্য, তাই এখন পেয়ারাই তার ধ্যান-জ্ঞান।

জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া, ছাতনী, আগদিঘা, বড়হরিশপুর ইউনিয়ন পেরিয়ে আফাজের পেয়ারা বাগান এখন সিংড়া উপজেলার হাতিয়ানদহে। দুই শতাধিক বিঘার মোট ৯টি বাগানজুড়ে পেয়ারা চাষ করে তিনি এখন জেলার সবচেয়ে বড় পেয়ারা উৎপাদনকারী।এমনিতেই নাটোর ফল উৎপাদনের সূতিকাগার। নাটোরের অসংখ্য ফল উৎপাদক সারা দেশে নন্দিত হয়েছেন ইতোপূর্বে। তাদের উৎপাদনের ক্ষেত্র কখনো একটা মাত্র ফলে সীমিত থাকেনি। প্রত্যেকেই রকমারি ফল উৎপাদন করেন। ব্যতিক্রম শুধু আফাজ আলী। তার ক্ষেত্র শুধুই পেয়ারা।

নাটোর সদর উপজেলার শংকরভাগ এলাকার এক জায়গায় ১২০ বিঘা ও অন্যান্য জায়গায় ৮০ বিঘায় পেয়ারা-বাগান গড়ে তোলেন আফাজ আলী। আফাজ আলী থাই-৩ জাতের পেয়ারা চাষ করেন। তার প্রতি বিঘায় গাছ রয়েছে ২০০টি করে। সাধারণত এক বছরের মাথায় ফলন পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছের বার্ষিক ফলন এক মণের কাছাকাছি।

বারো মাস ফলন পাওয়া গেলেও পেয়ারের মৌসুম মূলত আশ্বিন থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস। তবে উচ্চ মূল্য ও সময় হিসেবে পৌষ ও মাঘ মাসসহ অগ্রহায়ণ ও ফালগুনের অর্ধেকটা সময় ব্যবসায়ীদের কাছে পেয়ারা বাজারজাতকরণের কাঙ্ক্ষিত সময়।

আফাজ আলী বলেন, আগে আমি নার্সারি ও চালের ব্যবসা করতাম। এক বন্ধুর পেয়ারা চাষ দেখে আমি উদ্বুদ্ধ হই। প্রথমে আমি দুই বিঘা জমিতে চাষ শুরু করি। অন্য কোনো ফল নয়, পেয়ারাই আমার ধ্যান-জ্ঞান। ৯টি বাগানে প্রতিদিন গড়ে দেড় শ মানুষ কাজ করে। তাদের গাছ রোপণ, আগাছা নিধন, সার দেওয়া, সেচ, পেয়ারার ব্যাগিং কাজের দিকনির্দেশনা দিয়েই আমার বাগানে দিন কাটে।

বাগানে কাজ করা শ্রমিক শাকিল মাহমুদ বলেন, পেয়ারার বাগানে কাজ করছি। আমরা এখানে ১৫০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছি। সবার সংসারে উন্নতি আসছে এবং সবাই ভালোমতো চলতে পারছি। আমরা বাগানে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকি।

শ্রমিক মো. শাহ আলম মিয়া জানান, আমি পেয়ার-বাগানে শুরু থেকে কাজ করছি। মাসে ৯ হাজার টাকা বেতন পাই। আমাদের এখানে প্রতিদিন আট ঘণ্টা কাজ করতে হয়। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বাগানে কাজ করি।

ঢাকার কাওয়ানবাজারের মা ফলভান্ডারের স্বত্বাধিকারী ও ব্যবসায়ী আলী জানান, নাটোরের আফাজের পেয়ারা খুবই ভালো। তার পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গুণগত মানেও খুব ভালো। তাই আমি আফাজের বাগানের পেয়ারা গাড়িযোগে ঢাকায় এনে বিক্রি করি।

আরও পড়ুন: 


পায়ের রগকাটা মরদেহ পড়ে আছে নদীর পাড়ে


 

কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহমুদুল ফারুক বলেন, পেয়ারার বাগান সৃষ্টির মাধ্যমে আফাজ শুধু নিজের
আর্থিক সমৃদ্ধিই অর্জন করেননি, শত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, সর্বোপরি দেশের মানুষের পুষ্টির অভাব পূরণের মাধ্যমে অবদান রাখছেন। নাটোরের উৎপাদিত ফল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ হচ্ছে। কৃষি বিভাগ পেয়ারা উৎপাদনের নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পরামর্শ দিয়ে সব সময় আফাজের পাশে আছে। আমরা সব সময় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করি ফল চাষের জন্য।

news24bd.tv /তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মানুষের আয় কমলেও আয়কর রিটার্ন জমা বেড়েছে

অনলাইন ডেস্ক

মানুষের আয় কমলেও আয়কর রিটার্ন জমা বেড়েছে

এনবিআর আয়োজিত সেমিনারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

দীর্ঘ সময় ধরে চলা করোনা মহামারির কারণে অনেকটা মন্দা চলছে ব্যবসা বাণিজ্যে। তার পরেও এবার ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর বিবরণী (রিটার্ন) জমার সংখ্যা বেড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নভেম্বর মাসকে আয়কর রিটার্ন দেওয়ার মাস বা সেবা মাস হিসেবে পালন করে। গত বছরের নভেম্বর মাসে ২৯ দিনে আয়কর রিটার্ন জমার চেয়ে এ বছর নভেম্বর মাসে ২৯ দিনে ৮০ হাজার আয়কর রিটার্ন বেশি জমা পড়েছে।

করোনার কারণে এ বছরও আয়কর মেলার আয়োজন হয়নি। মেলার পরিবর্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন সারা দেশে ৩১টি কর অঞ্চলের ৬৪৯টি সার্কেলে মেলার মতো উৎসবমুখর পরিবেশে রিটার্ন জমা নেওয়া হচ্ছে।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (জরিপ, কর ফাঁকি ও আইটিপি রেজি., কর-১৫) দীপক কুমার পাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বছর নভেম্বর মাসে ২৯ দিনে দেশের সব কর অঞ্চল মিলে ১৫ লাখ ৫০ হাজার আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে। গত বছর নভেম্বর মাসের ২৯ দিনে আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছিল ১৪ লাখ ৭০ হাজার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ বছর আয়কর রিটার্ন জমা বেড়েছে।’ গতকাল (৩০ নভেম্বর) আরো ছয় থেকে সাত লাখ আয়কর রিটার্ন জমা পড়তে পারে বলেও তিনি জানান।

এ বছর করদাতাদের জন্য অনলাইনে নতুন আয়কর রিটার্ন ফাইলিং সিস্টেম চালু করেছে এনবিআর। অনলাইনে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত রিটার্ন জমা পড়েছে প্রায় ৫২ হাজার।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, দেশের ৭০ লাখের বেশি কর শনাক্তকারী নম্বরধারী (টিআইএন) করদাতা রয়েছেন। সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভিন্ন কর অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়বে না মনে করে প্রতিটি কর অঞ্চলেই করদাতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। প্রতিটি বুথের সামনেই লম্বা লাইন। করদাতারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন।

রিটার্ন জমা দিতে আসা করদাতারা বলছেন, ‘শেষ সময়ের কারণে ভিড় বেড়েছে। তাই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রিটার্ন জমা দিতে হয়েছে।’

কর কর্মকর্তারা বলছেন, ‘মাসের শুরুতে ভিড় না থাকলেও রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সপ্তাহ থেকেই ভিড় করছেন করদাতারা। শেষ সময়ে বাড়তি চাপের কথা বিবেচনায় নিয়ে এবার বাড়ানো হয়েছে বুথ।’

করের টাকা জনগণ দেয়, এই টাকার যেন অপব্যবহার না হয় সে জন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত ‘রূপকল্প বাস্তবায়ন ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আয়করের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের দেওয়া করের টাকা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হয়। উন্নয়নের চাহিদা মেটানোর জন্য যোগ্য সবাইকে কর দেওয়া দরকার। যত বেশি আয়কর দেওয়া যাবে, দেশ তত বেশি উন্নত হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কর আহরণ বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন খাত চিহ্নিত করতে হবে। অডিটের নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আমদানিনির্ভর দেশ থাকতে চাই না। মেড ইন বাংলাদেশের কার্যক্রমকে আরো জোরদার করতে হবে।’ সভাপতির বক্তব্যে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা বলেন, ‘টেক্স নেট বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটার জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করছি।’

এদিকে গতকাল সকালে ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, সবাই মিলে দেব কর’ স্লোগান সামনে রেখে এনবিআর অফিসের সামনে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ১৪তম জাতীয় আয়কর দিবস উদ্বোধন করা হয়। এনবিআরসহ প্রতিষ্ঠানটির ৩১টি কর অঞ্চলে একযোগে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে দেশে আয়কর দিবস পালিত হচ্ছে। আগে প্রতিবছর ১৫ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হতো। তবে ২০১৬ সাল থেকে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস পালন করছে এনবিআর।

আরও পড়ুন


ভ্যাকসিন এভাবে কাজ করে না

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর