হাড় ক্ষয় রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা
Breaking News
হাড় ক্ষয় রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা

হাড় ক্ষয় রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক

হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ অস্টিওপোরোসিস । এ সমস্যায় ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রতিবছর বিশ্বে ৯০ লাখের বেশি মানুষের হাড় ভাঙে অস্টিওপোরোসিসের কারণে।   অস্টিওপেনিয়ার সময়ই হাড়কে দুর্বল করে ফেলে এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

তেমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই নীরবে এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে। হাড় ভেঙে যাওয়ার আগে এই রোগের তেমন একটা লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশে ৬০ লাখের মতো মানুষ হাড় ক্ষয়রোগে ভুগছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের এই রোগের ঝুঁকি ৫.১ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩.১ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ-পরবর্তী হরমোনের অসামঞ্জস্যের (স্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন) কারণে হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি হয়।

অস্টিওপোরোসিস  এর কারণ
হাড়ক্ষয়ের পেছনে নানা ধরনের কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হলো : খাদ্য : পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘ডি’, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ‘কে’, ভিটামিন ‘বি’, ভিটামিন ‘বি ১২’ ইত্যাদির অভাব হাড়ক্ষয়ের জন্য দায়ী। একজন ব্যক্তির প্রতিদিন গড়ে ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন, সেখানে প্রতিদিন গড় ক্যালসিয়াম গ্রহণের পরিমাণ মাত্র ৩০৩ মিলিগ্রাম।

বংশগত : বংশে হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ইতিহাস থাকলে।
হরমোনাল : কম বয়সে মেনোপজ হলে, হাড়ের ঘনত্ব কম থাকলে।

অন্যান্য রোগ : রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাইপারথাইরয়েডিজম, ক্রনিক লিভার ডিজিজ থাকলে।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : স্টেরয়েড (যেমন প্রেডনিসোলোন, ডেক্সামেথাসন, প্রটন পাম্প ইনহিবিটর ইত্যাদি সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাড়ক্ষয় হতে পারে।

কায়িক শ্রম না করা : দৈনন্দিন জীবনে কায়িক শ্রম বা ব্যায়ামের অভ্যাস না গড়ে তোলা হাড় গঠনের জন্য বড় সমস্যা।

লক্ষণ

হাড়ক্ষয় একটি নীরব ঘাতক। তেমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। এরপরও কিছু লক্ষণ হলো, পিঠের পেছন দিকের অস্থিতে ব্যথা অনুভব হওয়া, হিপ, কোমর ও মেরুদণ্ডে ক্ষয় দেখা দেওয়া, উচ্চতা কিছুটা কমে যাওয়া, হাঁটা বা দাঁড়ানোর সময় ঝুঁকে থাকা, হঠাৎ পড়ে গেলে হার ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি।

হাড়ক্ষয় প্রতিরোধে করণীয়
সঠিক খাদ্যাভ্যাস : হাড় ক্ষয়রোগীদের দুধ, দই, পনির, সয়াবিন, বাদাম, ঋতুকালীন সবুজ শাকসবজি, লেটুস, ব্রকলি, মাশরুম জাতীয় খাবার, মাছ খাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:


দ. আফ্রিকার করোনার নতুন ধরন খুবই ভয়ঙ্কর : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একই ইউপিতে বাবা-ছেলে ও আপন দুই ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী!

বেগম জিয়ার জন্য আলাদা আইন করার সুযোগ নেই: হানিফ


ক্যালসিয়াম : দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন রকম থাকে। গড়ে তিন বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম, চার থেকে আট বছর পর্যন্ত ৮০০ মিলিগ্রাম, ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সে ১৩০০ মিলিগ্রাম, ১৯ থেকে ৫০ বছরে ১০০০ মিলিগ্রাম এবং ৫১ বছর বা তদুর্ধ্বে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাবার থেকে গ্রহণ করা উচিত। দুধ ছাড়াও বাদাম, শাকসবজি, ছোট মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে।
প্রোটিন : কাঁটাসহ সার্ডিন মাছ, অ্যালমন্ড, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি খাবার গ্রহণ।

ভিটামিন ‘ডি’ : একজন মানুষের ভিটামিন ‘ডি’র চাহিদা দৈনিক১০-১২ মাইক্রোগ্রাম। অথচ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মাত্র ১ শতাংশ লোক যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ করে থাকে। ক্যালসিয়াম শোষণ, শক্তিশালী হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে এই ভিটামিন ‘ডি’। কিন্তু শুধু খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে যথেষ্ট ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া কঠিন। সূর্যের আলো ভিটামিন ‘ডি’র সবচেয়ে ভালো উৎস। তাই প্রতিদিন ২৫-৩০ মিনিট রোদে থাকা ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। এ ছাড়া চর্বিযুক্ত টুনা, স্যালমন মাছ, ডিমের কুসুম ইত্যাদি খাওয়া উচিত।

news24bd.tv/আলী

;