পিৎজাবার্গের উদ্যোক্তা মেহেদীর গল্প
Breaking News
পিৎজাবার্গের উদ্যোক্তা মেহেদীর গল্প

মীর শামসুল বারী মেহেদী

পিৎজাবার্গের উদ্যোক্তা মেহেদীর গল্প

অনলাইন ডেস্ক

বর্তমানে দেশের সফল উদ্যোক্তাদের কথা স্মরণ করতে গেলে যেসব উল্লেখযোগ্য সফল উদ্যোক্তাদের নাম আসে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন পিৎজা বার্গের প্রতিষ্ঠাতা মীর শামসুল বারী মেহেদী। ২০১৮ সালে এই সফলতার যাত্রা শুরু করে যিনি মাত্র তিন বছরের মধ্যেই সারা দেশের সমর্থন ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

মীর মেহেদীর জন্ম ১৯৯১ সালে, একটি অতি সাধারণ পরিবারে। ছোটবেলা থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন না তিনি দেখেছিলেন, না তার পরিবার।

তার পরিবারের প্রত্যাশা ছিলো তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করবেন। উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তাটা তার মাথায় আসলো নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়তে থাকাকালীন। মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করার স্বপ্ন দেখতে থাকা মীর মেহেদীর হঠাত মনে হয়, চাকরি করলে তিনি নিজের পুরো সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবেন না। এই চিন্তা থেকে তার উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নের জন্ম, যেই স্বপ্ন পরবর্তীতে পরিণত হয় এখনকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সুস্বাদু পিৎজার রেস্তোরা পিৎজা বার্গে। গ্র্যাজুয়েশনের পরই তিনি মাঠে নামের তার স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপান্তরিত করতে।

পিজ্জা

মীর মেহেদী চেয়েছিলেন নতুন কিছু করতে। তার রেস্টুরেন্টের নাম তিনি দেন “পিৎজা বার্গ”, যেন সবাই বুঝতে পারেন যে  পিৎজাবার্গে  পিৎজা এবং বার্গার দুইটাই পাওয়া যায়।   পিৎজা বার্গে পিৎজা এবং বার্গার ছাড়াও পাওয়া যায় এপিটাইজিং ড্রিংক ও সেট মেন্যু।   পিৎজাবার্গে  পিৎজাগুলোরও তিনি অভিনব নাম দেন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা হলো মিটি অনিয়ন, সসেজ কার্নিভাল, মিট মেশিন, ফোর ফ্লেভার ইত্যাদির। অনেক রকম চিজ, টপিংয়ের এর ব্যবহারে  পিৎজাগুলোর স্বাদ নিয়ে কোনো কমতি রাখা হয় এসব  পিৎজায়। মীর মেহেদীর মতে, জনপ্রিয়তা পাওয়া কঠিন, কিন্তু ধরে রাখার আরও কঠিন। তাই তিনি সবসময় চেষ্টা করি আমাদের  পিৎজার স্বাদ প্রতিনিয়ত উন্নত করার। সবগুলো ব্রাঞ্চে স্বাদ ঠিক রাখার জন্য তিনি রেখেছেন আলাদা কন্ট্রোল টিম। আর  পিৎজার ডো কিংবা টপিং তৈরি করা হয় সেন্ট্রাল কিচেনেই, আর বেকিং অংশটুকু করা হয় ব্রাঞ্চের কিচেনে।   পিৎজা উপকরণের প্রায় ৮০ শতাংশই বাইরের দেশ থেকে আমদানি করে আনা হয়।

ধানমন্ডি শাখা

পিৎজা বার্গের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে মিরিপুরের প্রথম ব্রাঞ্চের মাধ্যমে। বর্তমানে পিৎজা বার্গের ব্রাঞ্চ মোট ৯টি।   পিৎজা বার্গ নিয়ে মীর মেহেদীর পরিকল্পনা হলো কয়েক বছরের মধ্যে প্রতি জেলায়  পিৎজা বার্গের ব্রাঞ্চ তৈরি করা। দেশের গন্ডিতে  পিৎজা বার্গ সর্বত্র তার স্থান করে ফেলার পর তিনি নিবেন আরো বড় পদক্ষেপ। দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক মহলেও তিনি তৈরি করবেন বাংলাদেশের রেস্তোরা  পিৎজা বার্গের  পিৎজার অবস্থান। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেয়ে পিৎজা চেইন তৈরি করাই তার বৃহত্তর পরিকল্পনা।

পিৎজা বার্গের জনপ্রিয়তার মূল কারণ মীর মেহেদী মনে করেন এর অনন্যতা আর অভিনবতা। বলাই বাহুল্য, বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে এখন পিৎজা বার্গ।   পিৎজা বার্গ দেশের  পিৎজা মান উন্নয়ন ও অনন্যতার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের  পিৎজা দেশ ও বিদেশের গন্ডি পেড়িয়ে এটি আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে, তরুণ এই উদ্যোক্তার এই স্বপ্নপূরণ দেশবাসীরও কাম্য।

পিজ্জার বাক্স

পথচলার শুরুতে তরুণ এই উদ্যোক্তাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা এবং সমর্থন দিয়েছে তার পরিবার। বন্ধুদের মধ্যে হিয়া নামের একজন বন্ধু তাঁকে মার্কেটিং এ সাহায্য করেছে। সূচনার ঝক্কি পেড়িয়ে সময়ে সময়ে আরো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। কোভিড প্যান্ডেমিকে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো মীর মেহেদীকেও লড়াই করতে হয়েছে টিকে থাকার জন্য। অভিযোজনের এই লড়াই এ টিকে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই দিনশেষে মুখ দেখে সফলতার, এভাবে তৈরি হয় একেকজন সফল উদ্যোক্তার গল্প।

আরও পড়ুন:

৭ দেশে সৌদি আরবের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা


news24bd.tv/ নকিব

;