ওএসডি থেকেই অবসরে যাচ্ছেন মাহবুব কবীর
Breaking News
ওএসডি থেকেই অবসরে যাচ্ছেন মাহবুব কবীর

ওএসডি থেকেই অবসরে যাচ্ছেন মাহবুব কবীর

অনলাইন ডেস্ক

বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) থেকেই অবসরে যাচ্ছেন আলোচিত অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর মিলন। আগামী ১৪ ডিসেম্বর থেকে তাকে অবসর দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহবুব কবীরকে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ধারা ৪৩(১)(ক) অনুযায়ী আগামী ১৪ ডিসেম্বর থেকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।

তার অনুকূলে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ও ল্যাম্পগ্রান্টসহ আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুর করা হলো।

তিনি বিধি অনুযায়ী অবসর ও অবসরোত্তর ছুটিকালীন সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে অবসরের প্রজ্ঞাপন জারির পর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাহবুব কবীর জানিয়েছেন,

চাকুরি হতে অবসরের প্রজ্ঞাপন জারি হল আজ। আগামি ১৪/১২/২০২১ শেষ কর্ম দিবস। কিছুদিন রেস্ট নিতে চেয়েছিলাম। মানুষ ভাবে এক, হয় আর এক।

১৪ তারিখের পরেও ইভ্যালির সাথে যুক্ত থাকতে হবে। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে তাই বলা আছে। জানি না কতদিন এই যুদ্ধ চলবে। ১৫/১২/২০২১ তারিখ ৫৯ বছর পূর্ণ হবে।

সর্বশেষ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন মাহবুব কবীর। রেল বিভাগের নানা অনিয়ম দূর করতে বেশকিছু নতুন উদ্যোগ নিচ্ছিলেন তিনি। গত বছরের ৬ আগস্ট তাকে ওএসডি করা হয়। এর আগে তিনি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ছিলেন। হয়েছিলেন সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেসময় খাদ্যে ভেজাল ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচিত হন মাহবুব কবীর।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর দেশে দুর্নীতি দূর করতে ১০ জন সৎ কর্মকর্তা নিয়ে একটি উইং গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গত বছরের ২৯ জুলাই একটি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ৩ মাসের মধ্যে দেশের সব খাতের দুর্নীতি দূর করবে তার নেতৃত্বাধীন উইং। কিন্তু তার সে ইচ্ছা তো পূরণ হয়নিই, উলটা এক সপ্তাহের ব্যবধানে গত বছরের ৬ আগস্ট তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে। সেই মামলায় দণ্ড হিসেবে তাকে ‘তিরস্কার’ও করেছে সরকার। ১ মার্চ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মাহবুব কবীর মিলন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে ভেজাল ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছিলেন। কর্মজীবনে অত্যন্ত সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মিলন। তিনি রেলওয়ের দুর্নীতি বন্ধ এবং ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে বেশকিছু উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। বিশেষ করে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে না’ এবং ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’-এ নিয়ম প্রবর্তন করেন তিনি।

আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনায়েত উল্লাহ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: ৬ হামলাকারী শনাক্ত


 

এ ছাড়াও অনলাইন রিফান্ড বা অনলাইনে টিকিট কাটার পর যাত্রী যদি সেটি পরিবর্তন করেন বা যাত্রা বাতিল করতে চান, তাহলে তিনি টিকিট ফেরত দিয়ে অনলাইনেই অর্থ ফেরত নিতে পারবেন-এমন নিয়মও চালু করতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধেও নিজে ভূমিকা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন আলোচিত এই অতিরিক্ত সচিব।

সর্বশেষ সংকটে পড়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি পরিচালনার জন্য আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেন হাইকোর্ট। মাহবুব কবীরকে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

news24bd.tv/আলী

;