মেগা প্রকল্পে ভর করেই বদলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

মেগা প্রকল্পে ভর করেই বদলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

Other

স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে মেগা প্রকল্পের ওপর ভর করেই বদলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। যদিও-করোনা বাস্তবতার কারনে সময়মত এসব প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে। তারপরও- আগামী বছরের জুনে পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচলের লক্ষ্য কর্তৃপক্ষের। স্বাধীনতার পরপরই মেগা প্রকল্পের পথে হাটা সম্ভব না হলেও-এখনকার গতিতে সন্তুষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী এসব ছবিই বলে দিচ্ছে – কতটা হিংস্রভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল পাক হানাদার বাহিনী। বাঙালী জাতিকে সবদিক থেকে পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিল পাক সেনারা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন-ব্রিজ-কালভার্ট-বিদ্যুৎকেন্দ্র, নিঃশ্বেস করে দিয়েছিল সবকিছু।

অবশ্য স্বাধীনতার পরপরই দেশ গড়ার কাজে হাত দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞের সংস্কার-মেরামত।  
 
১৯৭১ থেকে ২০২১। দেখতে দেখতে পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ। যেখান থেকে এখন পুরোপুরিই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ২০১০ সাল থেকে মেগা সব প্রকল্পে হাত দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ লাখ লাখ কোটি টাকার মেগা সব প্রকল্প।

নানা বাধা পেরিয়ে একেবারেই শেষপর্যায়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মানকাজ। প্রকল্পের ৯৫ ভাগ। সেতুর ওপরে চলছে পিচ ঢালাই। সরকারের আশা-২০২২ সালের জুনে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পদ্মা সেতু।   

বাস্তবায়নের পথে চট্টগ্রামের সম্ভাবনা কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প। নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত চার লেন বিশিষ্ট ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলের দুটি টিউবের খননকাজ শেষ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্প শেষের আশা কর্তৃপক্ষের।

 আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মানকাজ শুরু হয়েছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে। সংশ্লিষ্টদের আশা-২০২৬ সাল নাগাদ জাহাজ ভিড়বে মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দরে।
-করোনার থাবায় কাজে গতি হারালেও-এখন পুরোদমে চলছে রাজধানীর তিন মেগা প্রকল্প। রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল রুটের মেট্রোরেল প্রকল্পে এরইমধ্যে দৃশ্যমান বিভিন্ন স্টেশন। চলছে মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে কাজ চলছে পুরোদমে। তারপরও-নয় বছরে চারবার সময় পিছিয়েও প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৩০ ভাগের কিছু বেশি।
হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর আরেক মেগা প্রকল্প বাস র‌্যাপিড ট্র্যানজিট বিআরটি প্রকল্প। গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার বাসের জন্য আলাদা লেন প্রকল্পে অগ্রগতি অর্ধেক।  

আরও পড়ুন:

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর

হাফ পাস শুধুমাত্র ঢাকায় কার্যকর হবে বললেন এনা


 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হকের মতে-করোনার ধাক্কায় সময়মত মেগা সব প্রকল্প সময়মত শেষ করা কঠিন হবে।
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচে নির্মিত এই বিদ্যুৎ প্রকল্পে থেকে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। দেশে একক প্রকল্প হিসেবে এটি সবচেয়ে বড় কোনো অবকাঠামো প্রকল্প। মহামারির মধ্যেও এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৫ হাজার শ্রমিক দিনরাত সেখানে কাজ করছেন। তাই মেগাপ্রকল্পগুলোতে গতি ধরে রাখা কর্তৃপক্ষদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকছে সামনের সময়গুলোতে।

news24bd.tv/আলী