দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট: প্রতিদিন অবৈধ আয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা
Breaking News
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট: প্রতিদিন অবৈধ আয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা

পারাপারের অপেক্ষা শতশত যান

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট: প্রতিদিন অবৈধ আয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা

Other

দক্ষিণ-পশ্চিঞ্চলের ২১ জেলার রাজধানীর সাথে যোগাযোগের প্রধান নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। এই নৌরুট ব্যবহার করে প্রতিদিন লক্ষাধিক বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ নদী পারাপার হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুট সংশ্লিষ্টদের অবৈধ আয় প্রতিদিন প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।

দীর্ঘদিনের অবৈধ আয় এখন অভ্যাসে রুপ নিয়েছে।

এই নৌরুটে চলাচলরত ভুক্তভোগী যানবাহনের চালক, যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা যেন ভুলেই গেছে ভোগান্তি ও লোকসানের কথা। নৌরুট সংশ্লিষ্ট ৫টি পয়েন্ট বা সেক্টর থেকে এই অবৈধ আয় আদায় করে থাকেন ঘাট সংশ্লিষ্ট ও দালাল চক্র।

টানা ২মাসের অনুসন্ধানে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সারাবছর নানা প্রকার দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। দুর্ভোগের কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, ফেরি সংকট। নদীতে নাব্যতা সংকট। কুয়াশার সময় ফেরি বন্ধ। বর্ষার সময় প্রচন্ড স্রোত অতিরিক্ত সময় ব্যয়। এ সকল প্রাকৃতিক এবং ফেরিগুলোর সাথে যোগ হয় কৃত্রিম সমস্যা। এই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে নৌরুট সংশ্লিষ্ট কিছু অসাদু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দালাল চক্র প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে অর্ধকোটি টাকা। এতে নানা প্রকার দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নৌরুটে চলাচলকারী যানবাহনের চালক-যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।

অপেক্ষমান ট্রাক

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী একাধিক যানবাহনের চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক টন থেকে ৫টন ওজনের ট্রাক, কাভার্ট ভ্যান ও লরিগুলোর ফেরি পারাপারের টিকিটের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৪০ টাকা অতিরিক্ত নিয়ে থাকে বিআইডব্লিউটিসি’র টিকিট কাউন্টারে কর্মরত কর্মকর্তারা।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এই নৌরুট ব্যবহার করে গড়ে ১ হাজার ১ টন থেকে ৫ টন ওজনের ট্রাক, কাভারভ্যান ও লরি নদী পার হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে যায়। ১৪০ টাকা অতিরিক্ত হারে প্রতিদিন ১হাজার গাড়ী থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা অবৈধ ভাবে নিয়ে থাকে। পাটুরিয়া ঘাট থেকে নদী পার হয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে আসে ১ হাজার গাড়ী। সেই হিসেবে মাসে ৪২ লাখ টাকা অবৈধ আয় হয়। বছরে ৫ কোটি ৪ লাখ টাকা অবৈধ আদায় হয়। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের উভয় ঘাট মিলে ১০ কোটি ৮ লাখ টাকা হয়।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, এই নৌরুট ব্যবহার করে প্রতিদিন ৬৫০টি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ঘাট থেকে নদী পার হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে যায়। সেই হিসেবে পাটুরিয়া ঘাট থেকে নদী পার হয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে আসে ৬৫০টি যাত্রীবাহী বাস।

একাধিক বাস চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি গাড়ী থেকে ১০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়। সেই হিসেবে প্রতিদিন ৬৫০ গাড়ী থেকে ৬হাজার ৫ শত টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়। মাসে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়। বছরে ২৩ লাখ ৪০ হাজার নেওয়া হয়। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের উভয় ঘাট মিলে নেওয়া হয় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে নদী পার হয়ে প্রতিদিন গড়ে ২শত মটর সাইকেল পার হয়। যে মোটরসাইকেলগুলো টিকিট কাউন্টার থেকে কোন টিকিট সংগ্রহ করে না। এই চালকগুলো ফেরিতে টিকিট বিহীন মোটরসাইকেল প্রতি ৭০ টাকা দিয়ে থাকেন। সেই হিসেবে ২ শত গাড়ী প্রতিদিন ১৪ হাজার টাকা আয় হয়। মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় হয়। বছরে ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের উভয় ঘাট মিলে ১ কোটি ৮০ হাজার টাকা আয় হয়।

ফেরি ঘাটে গিয়ে সরেজমিন দেখা যায় এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের চলাচলকারী প্রতিটি ফেরিতে একাধিক হকার থাকে। এসকল হকার বিভিন্ন প্রকার পসরা সাজিয়ে দোকান করেন। যে কারণে ফেরিতে থাকা যাত্রীরা সহজে চলাচল করতে পারেন না। এসকল হকার প্রতিদিন ১ শত টাকা ফেরি সংশ্লিষ্টদের দিয়ে থাকেন। প্রতি ফেরিতে কমপক্ষে ৫ জন হকার থাকেন। এই নৌরুটে ২০টি ফেরি চলাচল করে থাকেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। মাসে ৩ লাখ টাকা। বছরে ৩৬ লাখ টাকা নিয়ে থাকেন।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ব্যবহার করে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রতিদিন পাটুরিয়া ঘাটে গড়ে ৪২ শত বিভিন্ন প্রকার যানবাহন যায়। প্রতি গাড়ী থেকে ১০ টাকা বকশিস হিসেবে ৪২ হাজার টাকা অবৈধ ভাবে আদায় করে থাকেন ফেরি সংশ্লিষ্টরা। সেই হিসেবে মাসে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। যা বছরে আয় হয়ে থাকে ১ কোটি ৫১ লাখ ২০হাজার টাকা। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া উভয় ঘাট মিলে ৩ কোটি ২লাখ ৪০হাজার টাকা অবৈধ ভাবে নিয়ে থাকেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের এই ৫টি সেক্টর থেকে প্রতিদিন গড়ে অর্ধকোটি টাকা অবৈধ নিয়ে থাকে ফেরি ঘাট সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা বন্দরের ব্যবস্থাপক মোঃ জিল্লুর রহমান অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার ব্যাপারে অস্বীকার করে জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে একটি রোরো (বড়) ফেরি ডুবে যায়। আরও ৪টি রোরো (বড়) ফেরি নারায়গঞ্জ ডক্ইয়ারে নেওয়া হয়। বর্তমান এই নৌরুটে ৮টি রোরো (বড়) এবং ৮টি ইউটিলিটি (ছোট) সহ মোট ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত উভয় ঘাটে যানবাহন ফেরি পারের অপেক্ষায় থাকছে।

আরও পড়ুন


গণতন্ত্র এখনো পরিপূর্ণতা পেয়েছে তা দাবী করা যায় না: কাদের

news24bd.tv এসএম

;