আ.লীগ কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামিই পেল নৌকার টিকিট
Breaking News
আ.লীগ কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামিই পেল নৌকার টিকিট

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া পারভেজ দেওয়ান

আ.লীগ কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামিই পেল নৌকার টিকিট

নাজমুল হুদা, সাভার

সাভারের আশুলিয়ায় এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে হত্যা মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তাদের অভিযোগ, নৌকার মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে তাদের মতামতের মূল্যায়ন করা হয়নি। নৌকা পাওয়া পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভেজ দেওয়ানের দাবি, ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে আছে, ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের নির্দেশে আশুলিয়ার নয়ারহাট বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী আব্দুর রহিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পরে নিহতের ভাই যুবলীগ নেতা সুমন পন্ডি ২৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ইউপি নির্বাচনে দ্বন্দের জেরে আব্দুর রহিমকে হত্যার নির্দেশ দেন পারভেজ। পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি পারভেজসহ ছয় আসামিকে বাদ দেয়া হয়। সবশেষ সিআইডির তদন্তে পারভেজসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

মামলার বাদী সুমন নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমার ভাই পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। নির্বাচনে তৎকালীন চেয়ারম্যান পারভেজ চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষকে সমর্থন করতেন তিনি। নির্বাচনে জেতার চার-পাঁচ মাস পর চেয়ারম্যানের লোকজন দিনে-দুপুরে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করে। ‘তার (পারভেজের) হুকুমেই আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করলেও হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, রহস্যজনকভাবে পুলিশ আমার স্বাক্ষর ছাড়াই গোপনে প্রধান আসামি চেয়ারম্যানসহ ৬ আসামিকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয়। পরে আদালতে আপত্তি জানালে সিআইডি দেড় মাস তদন্ত করে চেয়ারম্যানসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়।  

পারভেজ একটি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হাওলাদার।

তিনি বলেন, ‘উনি মার্ডার কেসের প্রধান আসামি। তারে কীভাবে নমিনেশন দিছে সেটা উপরেই জানে। আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কারণ একটা পরিবর্তন আসলে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হতো। এতে আমাদের তৃণমূলের যে ভরসা সেটা প্রতিফলিত হয়নি। আমরা হতাশ।

৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘যাকে মেরে ফেলা হয়েছে উনি আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সক্রিয় সদস্য ছিল। আবারও উনি (পারভেজ দেওয়ান) ওইরকম পায়তারা করতেছে। হুমকি-ধামকি দিতেছে। আবারও কর্মীদের উপর আক্রমণ করার চেষ্টা করতেছে। উনি নৌকা পাওয়াতে আমরা আতঙ্কিত। আওয়ামী লীগের মতো এতো সুসংগঠিত দলের উপর কেন জানি এখন ঘৃণা চলে আসছে। তিনি তিনবারের চেয়ারম্যান হয়েও একটা নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন করতে পারেননি। এখনও ভাড়া ভবনে চলছে সব কার্যক্রম। উনি নির্বাচনে আসলে বিপুল ভোটে পরাজিত হবে। ’

নৌকা পাওয়ার বিষয়ে পারভেজ দেওয়ান বলেন, ‘মিথ্যা মার্ডার মামলায় থানা থেকে আমারে অব্যাহতি দিছে। তারপর তারা (বাদীপক্ষ) নারাজি দিলে মামলা ডিবিতে দিছে। ওখান থাইকাও আমারে অব্যাহতি দিছে। বরং তারা সিআইডির সঙ্গে আঁতাত করে একমাসের মধ্যে তদন্ত না করে আমার বিরুদ্ধে চার্জশিট করাইছে। ‘আমার মনে হয়, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের আইজি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পাথালিয়া ইউনিয়নের পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট চলে গেছে। নির্বাচনে যাতে আমার উপর প্রভাব পড়ে এজন্য মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়েছে। যেটা সবাই জানে। ’

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদ নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমার যেটা ধারণা, মনোনয়ন বোর্ডের নজরে এটা হয়ত আসে নাই। উনারা হয়ত জানেন না। কারণ এটা সাধারণত ইউনিয়ন থেকে উপজেলা তারপর জেলা। ইউনিয়ন থেকে যেভাবে আসছে তাতে এরকম কোনো কিছু আমরা পাই নাই। এটা আমাদের নলেজে দেয়া হয়নি। যদি কেউ জানাইতো তাহলে হয়তো আমরা কেন্দ্রে জানাইতে পারতাম। ’

দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এটাতো কাজ করছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। সেখানে অনুমোদন দিছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্যদের কোনো ভূমিকা নাই। এটা পার্লামেন্টারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এখানে আমার কোনো কমেন্ট না করাই ভালো। সর্বোচ্চ জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওনারা যাচাইবাছাই করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

আরও পড়ুন


মরমী কবি হাসন রাজার ৯৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

news24bd.tv এসএম

;