মন্ত্রণালয় নিয়ে কটূক্তি করায় বরখাস্ত হলেন গোলাপগঞ্জের মেয়র
মন্ত্রণালয় নিয়ে কটূক্তি করায় বরখাস্ত হলেন গোলাপগঞ্জের মেয়র

মন্ত্রণালয় নিয়ে কটূক্তি করায় বরখাস্ত হলেন গোলাপগঞ্জের মেয়র

অনলাইন ডেস্ক

বিদেশে গিয়ে সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাবেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশে বসে সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়র পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।

 

এর আগে সম্প্রতি লন্ডনে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ে যাই। সচিবালয়ে সচিবদের সঙ্গে মিটিং করি, এলজিইডি মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং করি। তাদের কাছ থেকেই আমাদের ফান্ড আনতে হয়। ওখানে বিরাট একটা পার্সেন্টিজ দিয়ে আনতে হয়। আপনি ১০০ কোটি টাকার ফান্ড নিয়ে আসলেন। সেখানে পাঁচ পার্সেন্ট আগেই দিয়ে আসতে হয়।

প্রজ্ঞাপনে মেয়রকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আপনি ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য হানিকর বক্তব্য রেখেছেন। যা আইন অনুযায়ী অপসারণযোগ্য অপরাধ।

প্রজ্ঞাপনে তার বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়, ‘আপনি স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ উপ-ধারা ১) ও (খ) মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রমাণ হওয়ায় অপরাধমূলক কার্যক্রম পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করে সরকার। সেহেতু স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) অনুযায়ী আপনাকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। ’

আরও পড়ুন:

সিএনএনের সংবাদ উপস্থাপক বরখাস্ত

চট্টগ্রামেও হাফ ভাড়া নেওয়ার ঘোষণা 


প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার উপনির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম। ২০২০ সালের শুরুর দিকে তিনি গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে পাননি মেয়র রাবেল। এরপর দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় রাবেলকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে এবং তা দ্রুত কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। পৌরসভার উপ নির্বচনে মেয়র পদে আ.লীগের বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। জয়লাভের পর পৌর আ.লীগের সভাপতির পদ হারান তিনি।

news24bd.tv/আলী