দেশে উন্মুক্ত হলো জাতিসংঘ স্বীকৃত হেলমেট 
দেশে উন্মুক্ত হলো জাতিসংঘ স্বীকৃত হেলমেট 

দেশে উন্মুক্ত হলো জাতিসংঘ স্বীকৃত হেলমেট 

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রতিবছর সারা বিশ্বে ১৩ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায় । যার মধ্যে  দক্ষিন এশিয়াতে যানবাহনের সংখ্যা মাত্র ১০ শতাংশ হলেও এখানে সড়কে মৃত্যুর হার সারা বিশ্বের মোট সংখ্যার এক চতুর্থাংশেরও বেশি। বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত যানবাহনের ৬০ শতাংশ জুড়েই রয়েছে মোটরসাইকেল এবং বিভিন্ন পরিসংখ্যানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এই বছরের প্রথম ১০ মাসে গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ,  আর প্রাণহানি বেড়েছে ৭১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে মোটরসাইকেল আরোহীর হেলমেট ব্যবহারের ফলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে ৪২ শতাংশ এবং মারাত্মক ঝুঁকি কমে ৬৮ শতাংশ।

 

বাংলাদেশে হেলমেট ব্যবহারের উচ্চ মানদন্ড নির্নয়ের উদ্দেশ্যে সচেতনতা তৈরিতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এফআইএ, ব্র্যাক এবং বিআরটিএ আজ ঢাকায় সড়ক নিরাপত্তায় হেলমেটের ব্যবহার শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।  সেখানেই আলোচনায় উঠে আসে এসব তথ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, যেহেতু হেলমেটের ব্যবহার জীবন এবং মৃত্যুর প্রশ্ন, সেহেতু আমাদের নিম্ন মানের হেলমেট আমদানি বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন হলে এখানে নীতিমালা সংশোধন করতে হবে। যদি নীতিমালা না থেকে থাকে তবে নীতিমালা করে নিম্নমানের হেলমেটের আমদানি বন্ধ করতে হবে। একইসাথে আমাদের দেশেই স্ট্যান্ডার্ড মানের হেলমেট তৈরিতে কিভাবে সহযোগীতা প্রদান করা যায় সেখানেও পদক্ষেপ নিতে হবে।

গত ৬ মাসের সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, ৩২ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনাতেই মোটরসাইকেল এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এখানে সবচেয়ে জরুরী বিষয় হল হেলমেটের মান নিশ্চিত করা। আমাদের নিম্নমানের হেলমেট আমদানি বন্ধ করতে হবে। আমি আমাদের মোটরসাইকেল ম্যানুফেকচারারদের এখানে সহযোগীতা চাই যাতে করে কেউ মোটরসাইকেল কিনলেই তাকে প্যাকেজ আকারে একটি স্ট্যান্ডার্ড হেলমেট সাথে দিয়ে দেওয়া যায়, এতে মানসম্মত হেলমেটের ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, মোটরসাইকেল হেলমেটের মান নির্ধারনে বিআরটিএ কাজ করছে। সড়কে মোটরসাইকেলে মৃত্যু কমিয়ে আনতে স্টান্ডার্ড হেলমেট ব্যবহারের বিকল্প নেই। আমরা ইতিমধ্যেই বিএসটিআই এর কাছে হেলমেটের মান নির্ধারনে অনুরোধ করেছি এবং এ বিষয়ে কাজ চলমান আছে।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শ্যাফার বলেন, সড়কে নিরাপত্তার সংকট এখন বৈশ্বিক মহামারি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রায় ৭০ শতাংশ পথচারী, সাইকেল চালক বা মোটরসাইকেল চালক। সড়ক দুর্ঘটনা যেমন মেনে নেয়া যায় না, তেমন এর প্রতিকার ও সম্ভব। এখানে রয়েছে সাধারন সমাধান - যেমন মানসম্মত হেলমেটের ব্যবহারে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর ৩৯ শতাংশ মৃত্যু ঝুঁকি কমে আসে। জীবন বাঁচাতে ইউএন স্ট্যান্ডার্ড হেলমেট ব্যবহার নিয়ে সচেতনতায় এবং এর প্রচারে বাংলাদেশ সরকার, ব্র্যাক, এফআইএ এর সাথে অংশিদারিত্ব করতে পেরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গর্বিত।

বাংলাদেশ এবং ভুটানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন বলেন, নিরাপদ হেলমেট ব্যবহারে জীবন বাঁচে, ঝুঁকি কমে - এমন সাধারন এবং কম খরচে সমাধান নিয়ে আমরা আশাবাদী। জাতিসংঘ স্বীকৃত এই হেলমেট স্থানীয়ভাবে তৈরি সম্ভব যার খরচ পরবে মাত্র ১০৫০ টাকা তবে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। আমরা জাতিসংঘ স্বীকৃত এই হেলমেট জীবন বাঁচায় এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়ায়- এই বিষয়টি নিয়ে প্রচারে সরকার এবং অন্যান্য অংশিদারদের সাথে কাজ করে যাব।

ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসাইন বলেন, বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে সহযোগীতায় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং ব্র্যাক গত বছরের জুলাই মাসে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। আজকেই এই ইভেন্ট আমাদের এই সহযোগীতার একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ কারন আমরা আশাবাদী যে বর্তমানে মানবিহীন হেলমেটের যে বাজার সেখানে এই হেলমেট নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাজার জয় করবে। মানসম্মত হেলমেট উপস্থাপনের পাশাপাশি আমাদের মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে হেলমেট ব্যবহারের প্রবনতা নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে।  

এই অনুষ্ঠানে বিশ্ব মোটর স্পোর্টসের পরিচালনা সংস্থা ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি অটোমোবাইল (এফআইএ) এর তৈরি এবং জাতিসংঘের স্বীকৃত মোটরসাইকেল আরোহীর হেলমেট বাংলাদেশে উন্মুক্ত করা হয়। এই বিশেষ হেলমেট জাতিসংঘের বিশেষ নিরাপত্তা স্পেসিফিকেশনে তৈরি এবং স্থানীয় আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।   এই অনুষ্ঠানে ১২ জন নির্বাচিত মোটরসাইকেল চালক এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ইউএন স্ট্যান্ডার্ড হেলমেট তুলে দেয়া হয়।  

news24bd.tv/আলী