বিদ্রোহী হয়ে দলের পদ হারালো রমজান আলী
বিদ্রোহী হয়ে দলের পদ হারালো রমজান আলী

ঘোড়জান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রমজান আলী

বিদ্রোহী হয়ে দলের পদ হারালো রমজান আলী

অনলাইন ডেস্ক

আওয়ামী লীগের দলীয় সিধান্ত অমান্য করে  ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী আ.লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঘোড়জান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রমজান আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে রমজান আলীকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা নিশ্চিত করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন সরকার।

ফারুক হোসেন সরকার বলেন,দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে ৯টার দিকে মোঃ রমজান আলীসহ দলের আরো ৪ নেতাকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে জেলা ‍আওয়ামী লীগ।  

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা জানান, রমজান আলী ১৯৯৬ সালে ঘোরজান ইউনিয়ন যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো, ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমায় আসলে রমজান আলী ক্ষমতার লোভে তৎকালীন বিএনপির সংসদ সদস্য মেজর মঞ্জুর কাদেরের হাত ধরে ২০০২ সালে খাষধলাই আর,আর,কে দাখিল মাদ্রাসা মাঠে দলবলে বিএনপিতে যোগ দেন।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে চৌহালী থানা বিএনপির ২৭ নম্বর কার্য নিবার্হী সদস্য পদ নেন এবং সক্রিয় ভুমিকা পালন।  

পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০১৫ সালে উপজেলা ও তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের দুই উর্ধ্বতন নেতার প্রচেষ্টায় তার আওয়ামী লীগের ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করতে থাকেন। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আবার আওয়ামী লীগ বিরোধী হয়ে যান। এছাড়াও রমজান আলীর বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের পৃষ্টপোষকতা করার অভিযোগও রয়েছে।  

২০২০ সালে জলাই মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিলের সরকারী ত্রাণ ও বিজিপির চাল আত্মসাৎ করায় রমজান আলীকে সাময়িক রবখাস্ত করে। পরবর্তীতে ভবিষ্যতে এই ধরনের কোন কর্মকান্ড আর করবে না মর্মে শেষবারের মতো সর্তক করে স্থানীয় সরকার বিভাগ তার সাময়িক বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়। তার নামে দুদুকেও একটি মামলা চলমান আছে।

২০২১ সালোর জুন মাসে ঘোরজান ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশের চাকরির নিয়োগে পরিক্ষার ঘুস গ্রহণ এবং পরিক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ করে ঘোরজান ইউনিয়নের দক্ষিণ তেঘরি গ্রামের অব্দুর মজিদ বলেন, গ্রাম পুলিশে চাকরির জন্য নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেড় লাখ টাকা নেন দরিদ্র দিন মজুর আব্দুর মজিদ কাছ থেকে। আব্দুল মজিদ অভিযোগ করেন তিন লাখ টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান রমজান আলী নাসির উদ্দিন নামের অপর এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেন। এছাড়া সাধারণ মানুষের বাড়ি এবং জমি দখলের অভিযোগ আছে।

জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি একধিক প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন বা সম্মানী উত্তোলন করতে পাবে না। কিন্তু চৌহালীবাসীর কাছে চেয়ারম্যান রমজান আলী মুরাদপুর দাখির মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসাবে চাকুরী করলেও কোন দিন মাদ্রাসায় যায় না। কিন্তু প্রতি মাসের বেতন ভাতাদী ঠিকই উত্তোলন করে থাকেন। দেশের বিদ্যমান আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিমাসের মাসের বেতন উত্তোলন করেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের ভাতাও উত্তোলন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একধিক ব্যক্তি বলেন তার অন্যায়ের কেউ প্রতিবাদ করলেও তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।  

news24bd.tv/আলী