আলালের বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে : হানিফ
আলালের বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে : হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ

আলালের বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে : হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিএনপি নেতা আলালের দেয়া বক্তব্য সাতদিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, জননেত্রীকে নিয়ে যারা কুরুচিপূণ বক্তব্য দিয়েছে তাদেরকে যেখানে পাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকমীরা প্রতিহত করবে। যাতে ভবিষ্যতে তারা আর এ কাজ না করতে পারে।

শনিবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে “ভবিষ্যতের বাংলাদেশ ও তারুণ্যের ভাবনা’’- শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে বিবার্তা২৪ডটনেট ও জাগরণ (আইপি) টিভি।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, রাজনীতির মধ্যে শালীনতাবোধ থাকা উচিত। বিএনপির মধ্যে কখনো শালীনতা ছিলো। অশুভ পন্থায়, অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখল করে দল গঠন করার ফলে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক শিক্ষাও নাই এবং শালীনতাও তাদের মধ্যে ছিলো না। আজকে শুধু আলাল নয়, বিএনপি শীষ নেতা বেগম খালেদা জিয়াও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কটুক্তি করেতও পিছপা হননি। বিএনপি নেতা তারেক রহমান লণ্ডনে বসে স্বপ্ন দেখেন, জাতির পিতার নাম নেয়ার সময় শ্রদ্ধা নিয়ে পুরো নামটা উচ্চারণ করে না। এরা কত বড় অসভ্য, অশিক্ষত হলে এসব করতে পারে। জননেত্রী শেখ হাসিনা তার মায়ের বয়সী, তার পুরো নামটাও নেয় না। বিএনপি নামক দলটি শালীনতা বিবজিত, অসভ্য, কুরুচিপূণ দল এটা বারবার প্রমাণিত।  

তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ডা. মুরাদের কথা আসার পরে এ্যাকশন নেয়া হয়েছে। তাকে জেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় আওয়ামী লীগ কখনো অরুচিকর কথা-বাতা, অশালীন বক্তব্য সমথন করে না। বিএনপির আলাল যে কুরুচিকর বক্তব্য দিয়েছে, এ নিয়ে একটি মামলা হয়েছে। মিজা ফখরুল সেই মামলার নিন্দা করে প্রকারান্তরে বক্তব্যের প্রতি সমথন দিয়েছেন। আমরা তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। আগামী সাতদিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করে জাতির কাছে ক্ষমা না চাইলে আলালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জননেত্রীকে নিয়ে যারা কুরুচিপূণ বক্তব্য দিয়েছে তাদেরকে যেখানে পাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকমীরা প্রতিহত করবে। যাতে ভবিষ্যতে তারা আর এ কাজ না করতে পারে।

হানিফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য বিএনপি নেতারা বিদেশিদের ডেকে নিয়ে কান্না করছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মানবতা দেখিয়েছিন এমন একটা নির্দশন দেখাতে পারবেন? ক্ষমতায় এসে বিএনপি আওয়ামী লীগ নিধন শুরু করে। আ.লীগের ২৬ হাজার নেতা-কমীকে হত্যা করা হয়েছে। আপনারা গণহত্যা চালিয়ে মানবতা দেখিয়েছেন? অজস্র মেয়ে পাশবিকতার শিকার হয়েছে। বিএনপির অত্যাচারে মানুষ ঘরে থাকতে পারেনি। আর এখন চিকিৎসার কথা বলে সকাল-বিকাল কান্না করছেন। প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতি করে গেছেন। এখন মানবতার কান্না করেন। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী সিএমএইচে যখন আইভী রহমানকে দেখতে গিয়েছিলেন। তাকে গাড়ি নিয়ে ডুকতে দেয়া হয়নি। তাকে ৮ কিলোমিটার হেটে যেতে হয়েছে। কত পৈশাচিক আচরণ করেছেন। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর নিষ্ঠুর পৈশাচিক রসিকতা করলেন। ২০১৪ সালের নিবাচনের পর বহু সন্ত্রাসী কমকাণ্ড করেছেন। পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। লজ্জা হয় না আপনাদের। তখন কোথায় ছিলো গণতন্ত্র। এদেশের জনগণ তথাকথিত গণতন্ত্রকে ধিক্কার জানিয়েছে, ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্বাধীনতা চেতনার উপর আঘাত করে বিএনপি ক্ষত সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান নাকি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সিলেটে আমি বহু সম্মুখযুদ্ধার সাথে কথা বলেছি। জিয়াউর রহমান সরাসরি যুদ্ধ করেছেন তার কোনো তথ্য পাইনি। পচাত্তরের পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে প্রতিটি কমকান্ডের মাধ্যমে প্রমাণ রেখে গেছেন তিনি পাকিস্তানের এজেন্ট। সাড়ে ১২ হাজার রাজাকার, আল বদরকে ক্ষমা করে মুক্ত করে দিয়েছেন। তাকে ক্ষমা করা অধিকার কে দিয়েছিলো?

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নিষিদ্ধ জামায়াত, রাজাকার, আলবদরদের মুক্তি দিয়েছিলো। মানবতািবিরোধী অপরাধের কারণে নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতির সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি স্বাধীন রাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধাদের চিনতেন না। যে মুক্তিযেুদ্ধের বিরোধীতা করেছে তাকে প্রধানমন্ত্রী বানালেন। মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রমহানি হওয়া মা-বোনদের সাথে তিনি বেইমানি করেছেন। রাজাকারের শিরোমণি গোলাম আজমকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন। জয় বাংলা শ্লোগান নিষিদ্ধ করেন। ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেন। ১৫ আগস্ট নাজাত দিবস পালন করলেন। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচার বন্ধ করেছেন। বিএনপি নেতারা বিচারের কথা বলেন। শুধু বিচার বন্ধ নয় বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের পুনবাসন করেছেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করেছেন। জিয়াউর রহমান পাকিস্তানী আদশে বিশ্বাসী।

বিএনপি দেশের মানুষের মাঝে বিভাজন তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি আজ দুই ধারায় বিভক্ত। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি। এ বিভাজন দূর না হলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়া কঠিন হবে। সোনার বাংলা গড়তে হলে অশুভ শক্তিকে নিমুল করতে হবে। এই দেশের নাগরিক হলে মুক্তিযুদ্ধকে মানতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।  

জাগরণ আইপি টিভি’র প্রধান সম্পাদক এফএম শাহীনের সঞ্চালনা ও বিবার্তা২৪ডটনেট সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসি’র সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে কী-নোট উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. এসএম মাসুম বিল্লাহ। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবমহিলা লীগের সহ-সভাপতি কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব, যুবলীগ নেতা ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান, ডিবিসি নিউজের ডিরেক্টর, স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং অপো মোবাইল বাংলাদেশের ফ্যাক্টরি ওনার সালাউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

news24bd.tv/আলী