মুসলিম উম্মাহর প্রতি যে ৬ অমূল্য উপদেশ
মুসলিম উম্মাহর প্রতি যে ৬ অমূল্য উপদেশ

ফাইল ছবি

মুসলিম উম্মাহর প্রতি যে ৬ অমূল্য উপদেশ

আলেমা মুশফিকা আফরা

মুসলিম উম্মাহর প্রতি যে ৬ অমূল্য উপদেশ 

 

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মহান সাহাবি আবু দারদা (রা.) উম্মতের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা ও সদোপদেশের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি উপদেশ ও নসিহত প্রদানের মাধ্যমে উম্মাহকে আল্লাহমুখী করতে প্রয়াসী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘তিনটি জিনিস আমাকে হাসায় এবং তিনটি জিনিস আমাকে কাঁদায়। আমাকে হাসায় তিন ব্যক্তি : ১. যে ব্যক্তি দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত অথচ মৃত্যু সব সময় তাকে ডাকছে।

২. আল্লাহর ব্যাপারে উদাসীন ব্যক্তি অথচ আল্লাহ তার ব্যাপারে উদাসীন নন। ৩. হাসি-কৌতুকে মত্ত ব্যক্তি অথচ সে জানে না আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট, নাকি অসন্তুষ্ট। আমাকে কাঁদায় তিনটি বিষয় : ১. আমার প্রিয়তম মুহাম্মদ (সা.)-এর বিচ্ছেদ। ২. মৃত্যুযন্ত্রণা দীর্ঘায়িত হওয়া। ৩. সেদিন আল্লাহর মুখোমুখি হওয়া, যেদিন সব গোপন বিষয় প্রকাশ পেয়ে যাবে। অতঃপর আমি জানি না, আমি জান্নাতের পথিক, না জাহান্নামের। ’ (আল মাতালিবুল আলিয়া : ২৫/৭০)

প্রকৃতপক্ষে তিনি মুসলিম উম্মাহকে ছয়টি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। তা হলো—

১.   দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করা : মুমিনের জন্য পার্থিব জীবনের মোহ ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি। কেননা পার্থিব জীবনের মোহ মানুষকে বিপদগ্রস্ত করে। পবিত্র কোরআনে সেসব মানুষের নিন্দা করা হয়েছে, যারা পরকালীন জীবনের ওপর পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও। অথচ আখিরাতই উত্কৃষ্টতর ও স্থায়ী। ’ (সুরা : আলা, আয়াত : ১৬-১৭)

২.   আল্লাহকে স্মরণ করা : আল্লাহর স্মরণ বা জিকির বান্দার জন্য আবশ্যক। আল্লাহর স্মরণ মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যারা সর্বদা আল্লাহকে স্মরণে রাখে, তাদের প্রশংসায় ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে ও তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র, আপনি আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)

৩.   আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা : মুমিনের জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড় অর্জন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং এটাই মহাসাফল্য। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭২)

৪.   প্রিয় নবী (সা.)-এর ভালোবাসা : নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসা মুমিনের ঈমানের অংশ। তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা ছাড়া কোনো ব্যক্তির ঈমানের দাবি পূর্ণাঙ্গ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে পিতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে প্রিয় না হই। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫)

৫.   পাপ পরিহার করা : মৃত্যুযন্ত্রণাকে ভয় করার অর্থ হলো পাপ কাজ পরিহার করা এবং উত্তম মৃত্যুর জন্য নেক কাজের মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কেননা পাপীদের মৃত্যুযন্ত্রণা তীব্র হয়। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘যদি তুমি দেখতে পেতে যখন অবিচারকারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকবে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের করো। তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে অন্যায় বলতে ও তাঁর নিদর্শন সম্পর্কে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে। সে জন্য আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে। ’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৯৩)

আরও পড়ুন:


 

বালা-মুসিবত থেকে পরিত্রাণের দোয়া

 

৬.   পরকালীন শাস্তিকে ভয় করা : মুমিন পরকালীন জীবনের পরিণতিকে ভয় করে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সেই দিনকে ভয় কোরো যেদিন তোমরা আল্লাহর দিকে প্রত্যানীত হবে। অতঃপর প্রত্যেককে তার কাজের ফল পুরোপুরি প্রদান করা হবে। তার প্রতি কোনোরূপ অন্যায় করা হবে না। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮১)

news24bd.tv রিমু