যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় বাহিনীর প্রতিটি সদস্য মর্মাহত ও বিব্রত : পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় বাহিনীর প্রতিটি সদস্য মর্মাহত ও বিব্রত : পুলিশ

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় বাহিনীর প্রতিটি সদস্য মর্মাহত ও বিব্রত : পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আকস্মিক একতরফা সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদসহ র‌্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর  নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য মর্মাহত ও বিব্রত বলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো দেশের উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশের প্রধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ দেশের গণমানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবসময় বাংলাদেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের সরকারি পর্যায় ছাড়াও প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়েও এই সুসম্পর্ক বিদ্যমান। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে চমৎকার। পুলিশের কর্মতৎপরতার কারণে বাংলাদেশে চমকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশ বিনিয়োগ ও ব্যবসার জন্য বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, সাইবার অপরাধসহ নানা ধরনের অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়াও নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নানাভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ এক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থ দপ্তর ও পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক বাংলাদেশ পুলিশের সম্মানিত অভিভাবক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৭ জন কর্মকর্তার ওপর যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিষেধাজ্ঞা আরোপ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ বিরোধী একটি চক্র, যারা বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত করতে চায়, দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করতে চায়; তারাই আন্তর্জাতিক লবিস্ট গ্রুপের সহায়তায় ভুল, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থাকে গোপন করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবিত করেছে।

বাংলাদেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক প্রটোকল ও কনভেনশন প্রতিপালন এবং স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রকৃত তথ্য ও অবস্থা মূল্যায়ন করে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং বাংলাদেশ পুলিশের চলমান আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কার্যক্রমকে বেগবান করতে সহায়তা করবে বলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন প্রত্যাশা করে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ও রাজস্ব দফতর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানসহ এর সাবেক মহাপচিালক হিসেবে ড. বেনজীর আহমেদ, বর্তমান মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক তিন অতিরিক্ত মহাপরিচালক তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বর্তমান অতিরিক্ত মহাপরিচালক খান মোহাম্মদ আজাদ ও র‌্যাব-৭ এর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার তিন দিনের মাথায় পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এলো।

news24bd.tv/আলী