৫০ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি বীরাঙ্গনা মনোয়ারার 
Breaking News
৫০ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি বীরাঙ্গনা মনোয়ারার 

বীরাঙ্গনা মনোয়ারা বেগম

৫০ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি বীরাঙ্গনা মনোয়ারার 

বদরুল আলম শাওন

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি বীরাঙ্গনা মনোয়ারা বেগমের। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও আশায় বুক বাঁধছেন মৃত্যুর আগে হয়তো বুঝে পাবেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের প্রাপ্য সম্মান। বরিশাল জেলা প্রশাসন বলছে, বীরঙ্গনা মনোয়ারার বিষয়ে সবোর্চ্চ গুরুত্ব দেবেন তারা।  

ভয়াল একাত্তর।

লাখো শহীদের রক্ত ও হাজারো নারীর শম্ভ্রমের বিনিময়ে কেনা স্বাধীন বাংলাদেশ। দীর্ঘ নয় মাসে পাক হানাদার বাহিনী শুধু যুদ্ধই করেনি; চালিয়েছে গণহত্যা ও হাজারো নারীর উপর পাশবিক নির্যাতন। মনোয়ারা বেগম তাদেরই একজন।

সময়ের পরিবর্তনে মনোয়ারার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসলেও স্মৃতিতে এখনও মরচে ধরেনি। বাড়ির পাশের খালে রক্তের গঙ্গা বয়ে যাওয়া আর নিজ কাঁধে পাক হায়েনার থাবা; সেই দৃশ্য মনে পড়লে এখনো শিউরে ওঠেন তিনি।  

মনোয়ারা বেগম জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে মুখ না খোলায় মাসের পর মাস পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।  

মনোয়ারার কথার সূত্র ধরে হারিয়ে যাওয়া পরিবারের সন্ধান মেলে। পাকিস্তানি সৈন্যদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও ক্যাম্পে আটক নারীদের নির্যাতনের চিত্র পাওয়া যায় সেসব প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়।

মনোয়ারার গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো। স্বাধীন দেশে বিজয়ে হাসি তার মুখেও ফুটতে পারতো। কিন্তু এই সমাজ তা হতে দেয়নি। মনোয়ারা জানান, সেদিন তাকে মেনে নেয় নি তার বাবা, জায়গা হয়নি কোথাও।  

কালের পরিক্রমায় মনোয়ারারা পৃথিবীর মায়া হয়তো একদিন ত্যাগ করবেন। তবে সঠিক সময়ে রাষ্ট্র যদি এই বীরাঙ্গনাদের প্রাপ্য সম্মান বুঝিয়ে দিতে না পারে সেই দায় কে নেবেন? 

বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার জানান, বীরঙ্গনা মনোয়ারার বিষয়ে সবোর্চ্চ গুরুত্ব দেবেন তারা। এই রাষ্ট্রের জন্য মনোয়ারা যে সম্মানহানি হারিয়েছেন সেটার উপযুক্ত সম্মান দিতে পারবেন বলেও জানান জেলা প্রশাসক।  

আরও পড়ুন:


 

তিন দিনের সফরে ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রপতি


পাক সেনাদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মুক্ত হওয়ার পর নিজের পিতা পরিচয় কেড়ে নিয়েছিলেন মনোয়ারা বেগমের। তাই জীবনের বাকিটা সময় কাটিয়েছেন জাতির পিতার দেওয়া পিতৃ পরিচয়ে। সেই শ্রদ্ধাবোধ থেকেই মনোয়ারা সুচের প্রতি ফোরে ফোরে পরম ভালোবাসায় এঁককেছে পিতার চিত্র। জীবন সায়াহ্নে এসে তার শেষ ইচ্ছা পিতার এই সূচিকর্ম নিজ হাতে তুলে দেবেন বোন শেখ হাসিনার হাতে। পাবেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের প্রাপ্য সম্মান।   

news24bd.tv রিমু   

 

;