বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে মানববন্ধন
বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে মানববন্ধন

মরদেহ নিয়ে মানববন্ধন

বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে মানববন্ধন

জাহিদুজ্জামান, কুষ্টিয়া: 

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাছচাষী দানেজ আলী হত্যার বিচার দাবিতে মরদেহ সামনে রেখে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা আছে।  হত্যাকারীদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে জানান ভেড়ামারা থানার ওসি মজিবর রহমান।  

ভেড়ামারার বিলশুকা ভবানীপুর গ্রামে মাঠের মধ্যে শুক্রবার বিকেলে দানেজ আলীকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষ পিটিয়ে ও কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়।

পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভেড়ামারা বাজার এলাকায় তার মরদেহ সামনে রেখে কয়েক হাজার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেয়। এলাকার সর্বস্তরের জনগণ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন। মাছচাষি দানেজ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগানে মুখরিত হয় ওই এলাকা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহতের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন। তিনি বলেন, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, হত্যাকারীরা প্রচার করছেন ৫ জনকে হত্যা করা হবে। তাদের বিচার না হলে আগামীতে আরও হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন: যে কারণে বিয়ের আসরেই বরকে গণধোলাই!
 
উজ্জ্বল হোসেন বলেন, দুই মাস আগে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের পুকুরে মাছ লুটপাট করতে আসেছিল। বাধা দেয়ায় সে সময়ও তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়ে আমাদের কয়েকজনকে আহত করেছিল।

এবার মাঠে আমার বাবাকে একা পেয়ে হত্যা করল। তারা এলাকা এলাকায় সন্ত্রাসী কাজ করে থাকেন। আমার বাবাকে হত্যায় যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেন।

নিহতের ভাতিজা আশরাফুজ্জামান আসাদ বলেন, আমাদের মানববন্ধন বা বিক্ষোভ করার কোন পরিকল্পনা ছিলো না। কিন্তু ৫ জনকে হত্যার তালিকা করা হয়েছে শুনে এলাকার হাজার হাজর মানুষ জড়ো হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।  

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, নিহতের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন বাদী হয়ে প্রতিবেশী জিয়াউল ইসলাম জিয়াসহ (৪০)সহ ১০ জনকে আসামি করে শুক্রবার রাতে মামলা দিয়েছিল।  

আসামিরা হলেন, লিপন প্রামাণিক (৩২), রবিউল ইসলাম রবুল (৪৩), শাহিন প্রামাণিক (৩৬), সুজন প্রামাণিক (৩৮), শ্যামল প্রামাণিক (২৮), আছান প্রামাণিক (৪৮), শিমুল প্রামাণিক (২৬), সাগর (২৫), সুলতান (৩২)। আসামিরা সবাই বিলশুকা ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ওসি বলেন, এলাকার পরিবেশ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, মৃত্যুর সনদ হাতে পেলে হত্যা চেষ্টার মামলাটি আদালতের মাধ্যমে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।  

আর আসামিদের ধরতে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। বলেন, একই সঙ্গে চলছে মামলার তদন্তও। জড়িতদের সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। তবে, সবাই পলাতক এবং ফোন বন্ধ রাখায় আসামীপক্ষের কারোর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।  

news24bd.tv/ কামরুল