সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে

খাগড়াছড়িতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা

জহুরুল আলম • খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়িতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা

পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে খাগড়াছড়িতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। গেল ৪ দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার অধিকাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। গতকালও দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় বন্যা স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে।

হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পানি উঠেছে খাগড়াছড়ির বাস টার্মিনাল থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত। জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীতে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে। 

জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, শান্তিনগর, বটতলী, কল্যাণপুর, ভাঙাব্রিজ, বাঙ্গালকাঠি, চেঙ্গীব্রিজ এলাকা, কালাডেবা ও কমলছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। 

কাল মধ্যরাত থেকে হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে। এতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। টানা বর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধসের শঙ্কায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি-সাজেক-বাঘাইছড়ি,দীঘিনালা -লংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলার দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা। 

সোমবার (১১ জুন) মধ্যরাত থেকে বিভিন্ন বাড়িঘরে পানি ঢুকে যায়। এতে দীঘিনালার মেরুং ,বোয়ালখালী ও কবাখালী ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার তিন হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি। মাইনী নদীর স্রোতে ভেসে গেছে ক্ষেতের ফসল, গোলার ধান।

এদিকে, বন্যার্তদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে দুটি দেশি বোট। দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও’র নেতৃত্বে উদ্ধার কাজ চলছে। 

দীঘিনালা ইউএনও শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন ,‘আমরা মাইনী নদীর দু’পাড়ের পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছি। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা করেছি।

উল্লেখ্য, বর্ন্যাতদের জন্য বোয়ালখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , দীঘিনালা কলেজসহ প্রায় ৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে জেলা প্রশাসন।

জহুরুল/অরিন/নিউজ টোয়েন্টিফোর

মন্তব্য