বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ কথা দেয় কথা না রাখার জন্য
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ কথা দেয় কথা না রাখার জন্য

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ কথা দেয় কথা না রাখার জন্য

এমি জান্নাত

আমাদের দেশে এবং ওপার বাংলায় একটা বিষয় খুব প্রচলিত। সেটা হলো মেয়েকে বিয়ে দেবার সময় প্রত্যেক মা-বাবা ছেলের হাতে মেয়ের হাত দিয়ে বলে, ও আমাদের খুব আদরের। ওকে ভালো রেখো। সাথে ছেলের মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনদেরও বলে।

সেই মেয়ে যে ঘরেরই হোক। অথবা যত শিক্ষিত কিংবা চাকরিজীবী হোক না কেন। তাকে শুরুতেই তার ভালো থাকা খারাপ থাকার ব্যাপারে অন্য কারও উপর নির্ভরশীল করে দেওয়া হয়। আর এতেই তখন থেকেই মেয়েটা সবার কাছে "Taken for granted" হয়ে যায়।

হয়তো সচেতন বা অবচেতন মনে তাকে সেভাবেই গ্রহণ করা হয়।

তো যাই হোক, প্রায় সব ছেলেই সুবোধ বালকের মতো মেয়েকে ভালো রাখবে বলে মাথা নাড়ে আর কেউ কেউ সুন্দর করে কথাও দেয়। তবে এক্ষেত্রে ছেলের চাইতে তার আত্মীয়-স্বজনদের অতি আগ্রহ বেশি দেখা যায়। বাবা-মা, খালা, ফুপু সবাই গলা মিলিয়ে বলে, আপনাদের মেয়ে এখন থেকে আমাদের মেয়ে। কোনো চিন্তা করবেন না। ও খুব যত্নে থাকবে ব্লা ব্লা...

আদতে সবার গল্পের শুরুটা এমন হলেও একই গতিতে চলে না। তাহলে রোজকার গৃহবধূ নির্যাতন, স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে আত্মহত্যা বা ডিভোর্সের খবরের ছড়াছড়ি থাকতো না।

সবাই সমান, কখনোই বলছি না। কিন্তু এর মধ্যে কথা কিন্তু সবাই দেয়। তড়িঘড়ি করে যারা কথা দেয়, সবাই আসলে সেটা করে দায় সারতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হৈমন্তীর কথা মনে পড়ে যায় এসব দৃশ্যপট দেখলে। আসলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ কথা দেয় কথা না রাখার জন্য।

তাই নতুন জীবনের শুরুতে মেয়ের ভালো থাকার দায়িত্ব অন্যকে না দিয়ে একটা মেয়েকেই নিজে ভালো থেকে সবাইকে ভালো রাখার যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করুন। বরং তার উপর অন্যরা নির্ভর করতে পারে এটা বোঝানো বোধহয় ভালো।

আরও পড়ুন: 

পুলিশ-বিএনপি নেতাকর্মী সংঘর্ষ, রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ 

news24bd.tv  তৌহিদ