বসুন্ধরার কম্বল পেয়ে বৃদ্ধ বললেন, ‘আল্লাহ তাগেরে বাঁচায় রাখুক’
বসুন্ধরার কম্বল পেয়ে বৃদ্ধ বললেন, ‘আল্লাহ তাগেরে বাঁচায় রাখুক’

বসুন্ধরার কম্বল নিচ্ছেন শীতার্ত মানুষ।

বসুন্ধরার কম্বল পেয়ে বৃদ্ধ বললেন, ‘আল্লাহ তাগেরে বাঁচায় রাখুক’

অনলাইন ডেস্ক

দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসরত ৬০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে কালের কণ্ঠ শুভ সংঘের আয়োজনে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।

শীতের কুয়াশা ভেঙে পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা গ্রাম থেকে আসেন বয়োবৃদ্ধ মহর আলী (৮০)। গত ৪ মাস ধরে এলাকাটি জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত।

তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘চারিদিকে পানিতে ডুবে থাকায় অনেক কষ্টে আছি। জমিজমা থাকলেও ফসল নেই। তাই এলাকার মানুষের আয়-রোজগারও নেই। গ্রামের গরীবদের শীতের কষ্ট দেখার লোক নেই। যারা আমাগের (আমাদের) মতো গরীব মাইনষের  খোঁজ নিয়ে শীতের কাপড় (কম্বল) দিচ্ছে তাগেরে (তাদের) আল্লাহ বাঁচায় (বাঁচিয়ে) রাখুক। তাদের কামাইতে (আয় রোজগারে) বেশি বেশি বরকত হোক।

সাতক্ষীরা শহরের ঋষিপাড়ার উষা রানি বলেন, ‘তীব্র শীতে কম্বলটা খুব উপকারে আসবে। আশীর্বাদ করি বসুন্ধরা গ্রুপ আরও বড় হোক। তারা দেশের সব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা অর্জন করুক। ’

সদর উপজেলার মাছখোলা গ্রামের ছবিরণ বিবির (৭০) ভিক্ষা করে জীবন চলে। গত বর্ষায় বেতনা নদীর ভাঙনে খুপড়ি ঘরটুকু বিলীন হয়ে যায়। এখন তিনি অন্যের আশ্রয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ‘জাড়কালে (শীতকালে) গরম কাপড়ের অভাবে রাতে বেশি কষ্ট হয়। এই শীতে কম্বল সৃষ্টিকর্তার রহমত হিসেবে উপকার হবে। ’

কম্বল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী আরিফুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কালের কণ্ঠ শুভসংঘ সাতক্ষীরা শাখার উপদেষ্টা প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক ঐক্যের আহ্বায়ক সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, কালের কণ্ঠ শুভ সংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কালের কণ্ঠের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোশাররফ হোসেনসহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠ শুভ সংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবার সোবহানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এক লাখ ও কালেরকণ্ঠ শুভ সংঘের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার কম্বল অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে বাগেরহাট ও খুলনায় কম্বল বিতরণ শেষ হয়েছে। সাতক্ষীরায় দুই হাজার মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হবে।

এরমধ্যে প্রথমদিনে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসরত ৬০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হলো। পর্যায়ক্রমে উপকূলীয় এলাকাসহ অন্যান্য উপজেলায়ও কম্বল বিতরণ করা হবে। ”

আরও পড়ুন:

আশুলিয়ায় আগুন

news24bd.tv/  তৌহিদ