যেভাবে শহীদ হন হামজা (রা.) 
যেভাবে শহীদ হন হামজা (রা.) 

প্রতীকী ছবি

যেভাবে শহীদ হন হামজা (রা.) 

মাহমুদুল হাসান আরিফ   

হামজা (রা.) ছিলেন রাসুল (সা.)-এর চাচা। রাসুল (সা.)-এর নবুয়তপ্রাপ্তির দ্বিতীয় বছর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। বয়সের দিক থেকে রাসুল (সা.)-এর থেকে দুই বছর, মতান্তরে চার বছরের বড়। হামজা (রা.) ছিলেন মক্কার প্রতাপশালী বীর।

তাঁর ইসলাম গ্রহণের সংবাদ যখন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন কাফিরদের মনোবল অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর তিন দিন পর ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। এটা ছিল নবুয়তের ষষ্ঠ বছরের ঘটনা। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/৩৩)

যেভাবে শহীদ হলেন

মক্কার বিশেষ ব্যক্তি জুবাইর ইবনে মুতইমের চাচা তুআইম ইবনে আদি বদর যুদ্ধে হামজা (রা.)-এর হাতে নিহত হয়।

জুবাইর ইবনে মুতইমের দাস ওয়াহশি ইবনে হারবকে বলল, তুমি যদি মুহাম্মদের চাচা হামজাকে হত্যা করে আমার চাচার প্রতিশোধ নিতে পারো, তবে তোমাকে চিরদিনের জন্য মুক্ত করে দেব। ওয়াহশি পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করার পর নিজেই ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি বলেন, আমি ছিলাম বড় মাপের একজন দক্ষ তীরন্দাজ। আমার কোনো একটি তীরও লক্ষ্যভ্রষ্ট হতো না বললেই চলে। আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে গেলাম। উহুদ যুদ্ধের সময় যোদ্ধাদের সঙ্গে রওনা হলাম। আমার উদ্দেশ্য সর্বাত্মক যুদ্ধে অংশগ্রহণ নয়; বরং শুধু হামজাকে হত্যা করে দাসত্বের জিঞ্জির থেকে মুক্তি লাভ করা। আমি তাই করলাম। একপর্যায়ে সুকৌশলে হামজাকে হত্যা করে ক্যাম্পে এলাম। যুদ্ধ শেষে মক্কায় এসে মুক্তির সনদ নিলাম।

হামজা (রা.)-এর শাহাদাতের মর্মান্তিক এই ঘটনা সংঘটিত হয় তৃতীয় হিজরির শাওয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তখন হামজা (রা.)-এর বয়স ৫৯ বছর। কাফিররা হামজা (রা.)-কে শহীদ করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং তাঁর লাশের সঙ্গে নির্মম আচরণও করে। আবু সুফিয়ান (রা.)-এর স্ত্রী হিন্দাহ বিনতে উতবা (রা.) (তখন তাঁরা স্বামী-স্ত্রী উভয়জন অমুসলমান; মক্কা বিজয়ের পর তাঁরা মুসলমান হন) নাক-কান কেটে তাঁর চেহারাকে বিকৃত করে। বুক-পেট চিরে কলিজা বের করে। ক্ষোভে-ক্রোধে দাঁত দিয়ে চিবিয়ে ফেলে। যুদ্ধ শেষে রাসুল (সা.) শহীদদের লাশ দেখতে যান। নির্মমভাবে শহীদ হওয়া চাচা হামজার লাশ দেখে কেঁদে ফেললেন এবং বলেন, চাচা, মহান আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন! তুমি ছিলে আত্মীয়তার বন্ধনকারী, সৎকর্মপরায়ণ। তোমার বোন সাফিয়্যা হয়তো সহ্য করবে না, না হয় আমি তোমার লাশ দাফন না করে এভাবে ফেলে রাখতাম, পশু-পাখি তোমাকে খেয়ে ফেলত, (যাতে হত্যাকারীর প্রতি আল্লাহর রাগ প্রকট হতো) আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের পেট থেকে তোমাকে জীবিত করতেন। এরপর দীপ্ত শপথ করে বলেন, অবশ্যই তোমার প্রতিশোধ হিসেবে আমি কাফিরদের ৭০ জনকে নাক-কান কেটে বিকৃত করব। এই শপথের কিছু সময় পরেই সুরা নাহলের ১২৬ ও ১২৭ নম্বর আয়াত নাজিল হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করো, তবে ওই পরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, যে পরিমাণ তোমাদের কষ্ট দেওয়া হয়। যদি সবর করো, তবে তা সবরকারীদের জন্য উত্তম। আপনি সবর করবেন। আপনার সবর তো আল্লাহরই সাহায্যে। তাদের জন্য দুঃখ করবেন না এবং তাদের চক্রান্তের কারণে মনঃক্ষুণ্ন হবেন না। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৬ ও ১২৭)

এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর রাসুল (সা.) ইরশাদ করলেন, আমি ধৈর্য ধারণ করব। তাই করলেন, কোনো প্রতিশোধ নিলেন না। কসমের কাফফারা আদায় করলেন। (আল-ইসতিআব ১/৩৭২-৩৭৪; আল-ইসাবা ২/১০৫)

আরও পড়ুন:


১০ লাখ নেকি লাভে যে দোয়া পড়বেন

যারা নবীজির দৃষ্টিতে খারাপ


উহুদের শহীদদের উহুদেই দাফন করা হয়। সে হিসেবে সায়্যিদুশ শুহাদা হামজা (রা.)-কেও সেখানে দাফন করা হয়। এক কবরে দুই-তিনজন করে দাফন করা হয়। হামজা (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর ভাগিনা আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রা.)-কে দাফন করা হয়। কাফনের জন্য তাঁর বোন সাফিয়্যা (রা.) দুটি কাপড় পাঠান। কাফনের সংকটের কারণে রাসুল (সা.) সেখান থেকে একটি জনৈক আনসারির জন্য দিয়ে দেন, বাকি একটি দ্বারা হামজা (রা.)-কে কাফন দেন। কাপড়টি ছিল ছোট, যা দ্বারা মাথা ঢাকলে পা খুলে যেত আর পা ঢাকলে মাথা খুলে যেত। ফলে মাথার দিক ঢেকে দিয়ে ইজখির ঘাস দ্বারা পা ঢেকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। (উসদুল গাবাহ ১/৫৩১-৫৩২; আস-সিরাতুল হালাবিয়্যাহ ২/৩৩৬)

news24bd.tv রিমু