মরিচা ধরা রড দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ! 
মরিচা ধরা রড দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ! 

সংগৃহীত ছবি

মরিচা ধরা রড দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ! 

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবন ইউনিয়নে পাখিমারা খালের ওপর মেয়াদোওীর্ন মরিচা ধরা রড দিয়ে নির্মিত হচ্ছে গার্ডার ব্রিজ। পটুয়াখালীর পৌরসভার মেয়র মো. মহিউদ্দিনের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ এই ব্রিজের ঠিকাদার বলে জানায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গোপাল মন্ডল।

২০১৮ সালের ১৩ জুন টেন্ডারের মাধ্যমে ৯০ মিটার এই গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এই ব্রিজ নির্মানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

 

স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) বিভাগের কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ করার কথা ছিল নির্মাণ কাজের। কিন্তু তিন বছরেও তা শেষ হয়নি ব্রিজ নির্মাণ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে সুন্দরবন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে বাশতলা বাজারের পাখিমারা খাল পার হচ্ছেন এলাকাবাসী। পাশেই এই খালের ওপরে ব্রিজের গার্ডার বসানোসহ নির্মিত হচ্ছে ব্রিজ।

এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ব্রিজের কাজে ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী বালুসহ অন্যান্য মালামালের সাথে সেখানে স্তুপ করে রাখা হয়েছে কয়েক টন মরিচা ধরা রডও।  

আরও পড়ুন: এসএসসিতে অকৃতকার্য, স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

মরিচা ধরা রড দিয়ে ব্রিজ জটি নির্মাণের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। মরিচা ধরা রড দিয়ে ব্রিজ তৈরি হলে কতদিন টিকবে প্রশ্ন রেখে স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ শেখ, মাসুদ হাওলাদার ও শেখ আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ‘এখানে যে রড আনা হয়েছে মরিচা ধরা পুরানো এবং নিম্নমানের। এই রড দিয়ে ব্রিজের কাজ হলে খুব শিগগিরই ভেঙ্গে যাবে। যেহেতু এই রডের টেম্পার নাই। এই ব্রিজ আমাদের সম্পদ, এই রড দিয়ে যেন কাজ না হয় সে ব্যাপারে সকলের দৃষ্টি রাখতে হবে’।
ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবুল কালাম আজাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল কালাম আজাদের সাথে চেষ্টা করেও বক্তব্য জানা যায়নি।  

তবে তার ম্যানেজ গোপাল মন্ডলের দাবি, ‘মরিচা ধরা এই রড ব্রিজের কাজে ব্যবহার হবে না। আমাদের অন্য সাইডে ছিল সেখান থেকে জায়গার অভাবে এখানে এনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে আবার নিউজ করবেন না প্লিজ’।

সুন্দরবন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারদার বলেন, মরিচা ধরা রড দিয়ে ব্রিজ করা হবে জানতে পেরে আমি ঠিকাদারের লোকজনকে দ্রুত এই রড এখান থেকে সরিয়ে ফেলতে বলেছি। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজ নির্মান হচ্ছে, জানিয়ে চেয়ারম্যান আরও বলেন, শুধু এ ইউনিয়ন নয় পাশ্ববর্তী আরও দুটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ এই ব্রিজটি ব্যবহার করবে। তাই এ ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম যাতে না হয় সে জন্য নজর রাখছি।

মোংলা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান বলেন, এমনটা হওয়ার কথা না, তারপরও যদি এমনটা হয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

news24bd.tv/ কামরুল