রাজধানীতে ফানুস উড়ানো মানেই হলো আগুন নিয়ে খেলা
রাজধানীতে ফানুস উড়ানো মানেই হলো আগুন নিয়ে খেলা

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজ টোয়েন্টিফোর

রাজধানীতে ফানুস উড়ানো মানেই হলো আগুন নিয়ে খেলা

আনোয়ার সাদী

রাত বারোটা বাজার আগেই কেউ কেউ আকাশ রঙিন করে তুলেছেন আতশবাজির ঝলকানিতে। আর বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে শব্দও আলোর ঝলকানিতে ভরে উঠেছে আকাশ। অস্বীকার করার উপায় নেই সেই দৃশ্য দেখতে অনেকেরই ভালো লেগেছে। এমন দৃশ্য টিভির পর্দায় এর আগে বছরের পর বছর আমরা দেখেছি।

সেসব পশ্চিমা বিশ্বের চিত্র দেখে আমাদের মনে হয়েছে, আহা কতো সুন্দর দৃশ্য। আমাদের দেশ কবে এতো উন্নত হবে, আতশবাজির ঝলকানিতে আমরা নতুন বছরকে বরণ করবো! শেষ পর্যবন্ত এমন দিন চলে এলো। এখন আমাদের দেশেও বর্ষবরণের মুহুর্তে আতশবাজির আলোয় ভরে উঠে রাতে আকাশ।  কিন্তু সেই কর্মযজ্ঞ মেনে নেওয়া ভদ্রলোকের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

পশ্চিমা দেশে সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের টাকায় নির্দিষ্ট স্থানে আতশবাজি ফোটানো হয়। আমাদের মতো পুরো শহর জুড়ে আলো ও শব্দের উপস্থিতির জানান দেওয়া হয় না। ফলে, তাদের উৎসব আনন্দের খবর দুনিয়ার অপর প্রান্তে বসে দেখেও আরাম। আর আমাদের ফায়ার সার্ভিসের ঘুম হারাম হয় আগুন নেভাতে গিয়ে।
 
বর্ষবরণের উৎসবে ফানুস কেন উড়াতে হবে? আমরা জানি আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে বৃষ্টি ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় অনেক সময় ফানুস ওড়ানোর পরিবেশ এবং সুযোগ থাকে না। তাই প্রবারণা পূর্ণিমা বা আশ্বিনী পূর্ণিমায় দিনে ফানুস ওড়ানো হয়। ফানুস কোনো বেলুন নয় যে, যখন-তখন যেনতেনভাবে মনের আনন্দে ওড়ানো যাবে। এখানে পালনীয় অনেক বিধি-বিধান আছে। ফলে, নতুন বছর শুরুর মাঝরাতে আকাশ আলো দিয়ে সাজাতে যারা ফানুস উড়িয়েছেন তারা ঠিক কাজ করেছেন বলা যাবে না।
 
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা জনবহুল। এখানে ফানুস উড়ানো মানেই হলো আগুন নিয়ে খেলা। শুক্রবার আমরা হয়তো অল্প ক্ষয়ক্ষতি দেখলাম, এই চর্চা চলতে থাকলে আরো বড়ক্ষতি হয়তো সামনে অপেক্ষা করছে।
 
যাহোক,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই অসুস্থ, শিশুদের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আতশবাজি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আমি অবশ্য ভাবছি অন্য বিষয়। পুলিশের তরফ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিলো যেনো আতশবাজি ফোটানো না হয়। যে সব নাগরিকরা সে অনুরোধ না রেখে এতো আতশবাজি পোড়ালেন তারা কী পুলিশের কথা রাখলেন? যিনি নগরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর অনুরোধ উপেক্ষা করেন তিনি কীভাবে নিজেকে সচেতন নাগরিক হিসেবে দাবি করতে পারেন। যিনি জনস্বার্থের বিষয় উপেক্ষা করতে পারেন তিনি কীভাবে ভদ্র হন, এসব প্রশ্ন এখন নানা মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
 
তাহলে বর্ষবরনের নামে আমরা  কী করলাম?

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। ) 

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

;