নিষেধ করেছেন পীর, তাই ভোট দেন না ১২ হাজার নারী!
নিষেধ করেছেন পীর, তাই ভোট দেন না ১২ হাজার নারী!

ফাইল ছবি

নিষেধ করেছেন পীর, তাই ভোট দেন না ১২ হাজার নারী!

অনলাইন ডেস্ক

স্থানীয় এক পীরের ফতোয়ায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোট দিতে যান না। ওই পীর তাদের বলেছেন নারীরা ঘরের বাইরে গেলে পর্দার খেলাপ হবে। আর ওই এলাকার নারীদের ধারণা পীরের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে বাড়ির বাইরে গেলে এলাকায় কলেরা-বসন্ত পুনরায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিলেও এ এলাকার নারীরা কখনোই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি।

শুধু পুরুষ ভোটারদের ওপর নির্ভর করে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের ভাগ্য। এমনকি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্যরাও নির্বাচিত হন শুধু পুরুষদের ভোটে। পীরের আদেশকে মেনে তার ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন। শুধু যে মুসলমানরাই পীরের আদেশ মানেন তা নয়, এলাকার হিন্দু-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নারীরাও স্থানীয় প্রথা মেনে ভোটকেন্দ্রে যান না।

এতে করে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও ইউনিয়নের ১২ হাজার নারী ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এলাকার নারীরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করছে প্রার্থীরাসহ স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া বাজারের পূর্ব পাশে ষাটের দশকে বসবাস করতেন জৈনপুরের পীর মওদুদুল হাসান। ওই সময় এলাকায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে কলেরা-বসন্ত। ফলে মহামারি থেকে রক্ষা পেতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ওই মাহফিলে পীর মওদুদুল হাসান জানান, নারীদের বেপর্দার কারণেই এ মহামারি। তাই নারীদের কখনোই পর্দার খেলাপ করা যাবে না। এর কিছুদিন পর ভারতের জৈনপুরে চলে যান পীর মওদুদুল হাসান। স্বাধীনতার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সুবিধাবাদীরা তাঁর কথার ওপর রং চড়িয়ে প্রচার করেন, নারীরা ভোট দিলে এলাকায় আবারও কলেরা-বসন্ত ছড়িয়ে পড়বে। ব্যস, সেই থেকে আজ পর্যন্ত নারীদের ভোট দেওয়া বন্ধ! ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম কাউনিয়া, চর পক্ষিয়া, চর মান্দারি, উত্তর ও দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ, সাহেবগঞ্জ, গৃদকালিন্দিয়া, চর মুঘুয়া গ্রামের নারীরা যুগের পর যুগ ধরে নিজ ইচ্ছায়ই ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন।

ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী নোমান বলেন, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে ১২ হাজার ১১৪ জন নারী ভোটার রয়েছে। ‘নারীর ক্ষমতায়নের যুগে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। নারীদের ভোটদান নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি এলাকার শিক্ষিতদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। ’ তবে এ নিয়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পুরুষ সদস্য প্রার্থীরা কথা বলতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে গতকাল গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা-হাসমত ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে ভোটদানে উদ্বুদ্ধকরণ সভায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি বলেন, আগামী রোববার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যাতে ভোট হয়, তার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন


দাপুটে বোলিংয়ের পর দারুণ ব্যাটিং বাংলাদেশের

news24bd.tv এসএম