নিজে অশিক্ষিত, জাতিকে শিক্ষিত করার গুরু দায়িত্ব নিয়ে বসে আছে
নিজে অশিক্ষিত, জাতিকে শিক্ষিত করার গুরু দায়িত্ব নিয়ে বসে আছে

রউফুল আলম

নিজে অশিক্ষিত, জাতিকে শিক্ষিত করার গুরু দায়িত্ব নিয়ে বসে আছে

রউফুল আলম

গ্রামের স্কুলগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভালো শিক্ষক নেই। শিক্ষার মান নেই। বিজ্ঞান শিক্ষা নেই।

বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী অনেক কমে গেছে। গ্রামের যে লোকটার সামান‍্য সামর্থ‍্য আছে, সেও তার বাচ্চাকে গ্রামের স্কুলে পড়ায় না। যে শিক্ষক গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করে, সেও তার সন্তানকে সেই স্কুলে পড়ায় না।

স্কুলগুলোর ম‍্যানেজিং কমিটিগুলোতে সৎ শিক্ষিত মানুষের বড়ো অভাব। অসংখ‍্য কমিটিতে ঢুকে আছে মধ‍্যপ্রাচ‍্য ফেরত কোন লোক। যে হয়তো কয়েক লক্ষ টাকা স্কুলে ডোনেশন দিয়েছে কিন্তু নকল করেও মেট্রিক পাশ করতে পারেনি কোনদিন। এমন আরও ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। তাদের নামের পাশে বসানো হয় “বিদ‍্যানুরাগী”! বিদ‍্যায় তাদের এতোই অনুরাগ, তারা জীবনে শিক্ষিত হতে পারেনি কিন্তু জাতিকে শিক্ষিত করার গুরু দায়িত্ব নিয়ে বসে আছে।  

আরও পড়ুন: ধামাকার এমডি একাই সরিয়েছে ১২৯ কোটি টাকা

গ্রামে রাজনীতি করা অনেকেই একটা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগে। তাদের একটা পরিচয় দরকার। যে পরিচয় ভাঙ্গিয়ে সকাল-সন্ধ‍্যা সবার সাথে দাঁড়িয়ে থাকবে। যে পরিচয় বেচে আত্মীয়-স্বজনের কাছে গৌরব করবে। এমন বহু লোক শুধু রাজনীতিকে পুঁজি করে স্কুল কমিটিতে ঢুকে আছে। তারা দায়িত্ব নিয়েছে জাতিকে শিক্ষিত করার।  

এই বিদ‍্যানুরাগীদের হাতেই আজ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দেশের শিক্ষা। অযোগ‍্যদের হাত দিয়ে আজ অধিকতর অযোগ‍্যই তৈরি হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের হাত দিয়ে আজ অধিকতর দুর্বৃত্ত তৈরি হচ্ছে। দুর্নীতিবাজের হাত দিয়ে অধিকতর দুর্নীতিবাজ! 
অথচ ভালো শিক্ষাই আজ সবকিছুকে বদলে দিতে পারতো। সত‍্যিকারের বিদ্বান, সৎ ও বিদ‍্যানুরাগীদের হাত দিয়ে সমাজটা আরও আলোকিত হতো। আমরা যদি কখনো উপলব্ধি করতে পারতাম! 

লেখাটি রউফুল আলম ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv/ কামরুল