সেই সহকারি শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার, তদন্ত কমিটি গঠন
সেই সহকারি শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার, তদন্ত কমিটি গঠন

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান

নারী প্রধান শিক্ষককে গলা চেপে হত্যা চেষ্টা

সেই সহকারি শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার, তদন্ত কমিটি গঠন

হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের নাগদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা বেগমকে গলা টিপে হত্যা চেষ্টা, নারী সহকর্মীর উপর আঘাতসহ রক্তাক্ত জখম ও সরকারি বিধি ভঙ্গের দায়ে সহকারি শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক।

এই ঘটনায় সহকারি শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (৫ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় সহকারি শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তৈফিকুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বর্বরোচিত এ ঘটনায় হতবাক কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রোকসানা বেগম লিপি জানান, সাজেদা বেগম কুড়িগ্রাম জেলায় দু’দুবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হয়েছিলেন। এই দক্ষ শিক্ষক দেশের বাইরেও গিয়েছিলেন। এমন একজন ভদ্র, শান্ত ও দায়িত্ববান শিক্ষকের উপর জঘন্যতম আক্রমণের ঘটনায় শিক্ষক সমাজ আজ বাকরুদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, সহকর্মী একজন নারী শিক্ষকের গায়ে পুরুষ শিক্ষক কিভাবে হাত তুলতে পারে। আমরা শিক্ষকদের আচরণে মর্মাহত। যেভাবে গলা টিপে ধরেছিল তাতে বড় ধরণের কোন অঘটন ঘটে যেতে পারতো। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে কেউ ঘটাতে না পারে। আশা করছি এর একটা সুষ্ঠু বিচার পাবো।  

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) সকালে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে স্কুল কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি নজরুল ইসলামের উপস্থিতিতে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাহবুবুর রহমান হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে প্রধান শিক্ষক সাজেদা বেগমের গলা চেপে ধরেন এবং উপযুপরি ঘুষি মারতে থাকেন। এতে প্রধান শিক্ষকের বাম চোখের পাশে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে রক্ত ঝড়তে থাকে। এসময় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে জাপটে ধরে সড়িয়ে আনার চেষ্টা করেন। পরে আহত প্রধান শিক্ষক সাজেদা বেগমকে দ্রুত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে নাগদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান,  অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনাটি আমার সামনেই ঘটেছে। শিক্ষক হাজিরা খাতা নিয়ে সহকারি শিক্ষক হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের গলায় থাকা ওড়না ফাঁসের মত করে চেপে ধরে তার ডান চোখের পাশে ঘুষি মারেন। এতে রক্ত বের হতে থাকলে আমি ছুটে গিয়ে মাহবুবকে জাপটে ধরে সড়াতে চেষ্টা করলেও সে গলার ওড়না চেপে ধরে। পরে পিয়নকে ডেকে দুজনে মিলে মাহবুবকে সড়িয়ে আনি। প্রধান শিক্ষক ২১ বছর ধরে এই স্কুলে আছেন। মাহবুবের সাথে অন্যান্য শিক্ষকদের ছোট খাটো সমস্যা থাকলেও প্রধান শিক্ষকের সাথে কখনো কোন সমস্যা চোখে পরেনি। পরে প্রধান শিক্ষকে আমরা হাসপাতালে পাঠাই। মাহবুবকে তার বড় ভাই মিজানুর রহমান স্কুল থেকে নিয়ে যায়।

এদিকে সহকারি শিক্ষক মাহবুবর রহমানের নম্বর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক সাজেদা বেগম জানান, আমি চরম আতঙ্কে মধ্যে রয়েছি। যেভাবে দু’হাতে আমার গলা চেপে ধরা হয়েছিল মনে হচ্ছিল আমি শ^াস বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছি। অন্যরা এগিয়ে না আসলে আমাকে মেরে ফেলা হতো। আমি অভিযুক্তকে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

আরও পড়ুন


নোয়াখালীতে ১২টিতে আ.লীগ, ৭টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

news24bd.tv এসএম

;