ধর্ষণের ঘটনায় পরীক্ষা করে লাভ কি?
ধর্ষণের ঘটনায় পরীক্ষা করে লাভ কি?

স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি

ধর্ষণের ঘটনায় পরীক্ষা করে লাভ কি?

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীতে সুধারাম মডেল থানার বেষ্টুনির মধ্যে ২৩ বছর বয়সী এক তরুনীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি, এদিকে পরীক্ষা করে লাভ কি? কি রিপোর্ট আসবে? মিডিয়া, পুলিশ ও আরএমও কক্ষে এমন মন্তব্য করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করার অনীহা প্রকাশ করেন ভিকটিম ঐ তরুনী।  

ভূক্তভোগী নারী আরও বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে নারী পুরুষ দুইজনকে করতে হবে। আমি ঢাকায় স্বাস্থ্য ক্লিনিকে কাজ করি। কি রিপোর্ট আসবে আমি সব জানি।

আমি একা কেন করবো। পরে তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন না বলে স্বাক্ষর দেন। তবে এ সময় তার কথা বার্তায় কিছুটা উদাসীনতা দেখা গেছে।  


শনিবার দুপুরে ঐ ভিকটিমকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান সুধারাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মিজানুর রহমান পাঠান সহ কয়েকজন নারী পুলিশ। এ সময় ভিকটিম উপরোক্ত মন্তব্য করেন। ভিকটিম নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার আটিয়া বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় জেলা ট্রাফিক পুলিশের এক কনস্টেবল (মুন্সি) সহ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে ভিকটিমকে শারিরীক পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে মামলায় অভিযুক্ত ৪ আসামিকেই গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।


এর আগে শুক্রবার দুপুরে অভিযুক্ত ৪জনকে আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ভিকটিমের মা হাজেরা বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। এরআগে বৃহস্পতিবার বিকালে সুধারাম থানার বেষ্টুনির মধ্যে জেলা ট্রাফিক পুলিশের কোয়ার্টারে বাবুর্চি আবুল কালামের রুমে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই অভিযুক্ত ৪জনকে আটক করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার কসবা উপজেলার মাদলা গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে ও নোয়াখালী জেলার সদর ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল (কং/২৬৪) মকবুল হোসেন (৩২), বেগমগঞ্জ উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের মৃত আমান উল্যার ছেলে সিএনজি চালক মো. কামরুল (২৫), সদর উপজেলার দাদপুর গ্রামের মৃত মফিজ উল্যার ছেলে আবদুল মান্নান (৪৯), বেগমগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নুর হোসেন কালু (৩০)।

আরও পড়ুন: ফের বাস, ট্রেন ও লঞ্চে অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মিজানুর রহমান পাঠান মামলার এজহারের বরাত দিয়ে জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভিকটিম ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত কাজে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে আসেন। জেলা শহরে অবস্থানকালে তার টাকা পয়সার সংকট দেখা দিলে ভিকটিম তার পূর্ব পরিচিত সিএনজি চালক মো. কামরুলের সাথে দেখা করে। এক পর্যায়ে কামরুল ও তার দুই সহযোগী আবদুল মান্নান ও নুর হোসেন কালু ভিকটিমকে সদর ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল (মুন্সি) মকবুল হোসেনের কাছে নিয়ে যায়। এসময় তাদের সহযোগিতায় মুন্সি মকবুল হোসেন ভিকটিমকে ট্রাফিক পুলিশের বাবুর্চি আবুল কালামের রুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পরপরই ভিকটিম পাশের সুধারাম থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় ৪জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার ৪ আসামিকেই গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।  

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ সৈয়দ আবদুল আজিম জানান, মেয়েটি ইচ্ছেকৃত ভাবে শারিরীক পরিক্ষা রাজী নহে। পরীক্ষা করলে আমরা ব্যবস্থা করবো।  

news24bd.tv/আলী

;