তেতুলিয়ায় প্রতিবন্ধী ধর্ষণ ; শিশুটি খুঁজছে বাবার স্পর্শ 
Breaking News
তেতুলিয়ায় প্রতিবন্ধী ধর্ষণ ; শিশুটি খুঁজছে বাবার স্পর্শ 

সংগৃহীত ছবি

তেতুলিয়ায় প্রতিবন্ধী ধর্ষণ ; শিশুটি খুঁজছে বাবার স্পর্শ 

সরকার হায়দার, পঞ্চগড়:

জন্মের কিছু দিন পরেই মারা যায় তেতুলিয়া উপজেলার জয়নবের মা। সে জন্ম থেকেই দৃষ্টি ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ১০ বছর আগে দরিদ্র বাবা জয়নাল আবেদিনকে অনুরোধ করে একই গ্রাম ভেলকুজোতের অবসরপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার অপর এক জয়নাল আবেদিন তার বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে রাখতে শুরু করেন জয়নবকে। একদশক কেটে যায় এই বাড়িতে।

 

এরই মধ্যে জয়নবের সাথে শারিরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন সার্ভেয়ার জয়নালের ছেলে মাহবুবুর রহমান আবু। একসময় অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়েন জয়নব। কিন্তু অস্বীকার করেন আবু ও তার পরিবার। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সময় এগিয়ে আসলে জয়নবের পরিবার পিতার স্বীকৃতি দানের দাবি জানান।  

স্থানীয়রাও চেষ্টা করেন। কিন্তু আবুর পরিবার স্বীকৃতি না দিয়ে উল্টো জয়নবকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার উদ্যোগ নেন। গত বছরের ১৯ নভেম্বর হঠাৎ ওই প্রতিবন্ধী তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়ির লোকজন তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে অন্তঃসন্তবার বিষয়টি জানাজানি হয়।  

আরও পড়ুন: নির্বাচনের ৩দিন পর পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর লাশ উদ্ধার

এরপর থেকে ওই তরুণীকে গ্রহণ না করতে বিভিন্ন রকমের টালবাহানা শুরু করে আবুসহ তার পরিবার। মেয়েটিকে আটকে রেখে গর্ভপাতের পরিকল্পনাও করা হয় বলে জানা যায়।  

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানার পর থেকেই বাচ্চা নষ্ট করার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মেয়েকে ঘরবন্দি করে রাখা হয়। পরে উপায় না পেয়ে ওই দিন রাতে ৯৯৯ নম্বরে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে তেতুলিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাতে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন জয়নব। নবজাতক এই কন্যার নাম দেয়া হয় মাহমুদা আক্তার। বর্তমানে মা সহ শিশুটি রয়েছে নানা জয়নাল আবেদিনের বাড়িতে।  

এদিকে ২২ ডিসেম্বর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন পিতা জয়নাল আবেদিন। মামলার কয়েকদিন পরেই আসামিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। কিন্তু আদালতে একটি সাজানো এফিডেফিট বিয়ে রেজিষ্ট্রির কাগজ দাখিল করে আবু। ওই রেজিস্ট্রি দলিলে উল্লেখ করা হয় গত বছরের ২০ ডিসেম্বর জয়নবকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন আবু। রেজিস্ট্রি দলিলে আবুর ছবি ও স্বাক্ষর থাকলেও প্রতিবন্ধী ওই নারীর কোন ছবি নেই। টিপসহি আছে। জয়নবের বাবা অভিযোগ করেন আমার মেয়েকে আবু বিয়ে করেনি। কাজী বিয়েও হয়নি। তারা আমার মেয়ের টিপসহি কখন নিলো। কিভাবে নিলো জানি না। ছেলের পরিবার এখন আমার প্রতিবন্ধী মেয়ে ও শিশুটিকে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমার মেয়ে ও শিশুটিকে তারা হত্যাও করতে পারে। তারা নানাভাবে আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। আমি আইনি ভাবে এর সমাধান চাই।

 এ ব্যাপারে আবুর বাবা অপর জয়নাল আবেদিন জানান, মেয়ের বাবা মামলা করেছে। আদালত যা নির্দেশ দেবে তাই মেনে নেব।

এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা ও উপজেলা চেয়ারম্যান  গত ৩১ ডিসেম্বর জযনবের বাবার বাড়িতে নবাগত শিশু ও তার প্রতিবন্ধী মাকে দেখতে যান। তারা শিশুটিকে কাপড় প্রদান করেন। শিশুটির খাবারের জন্য নগদ অর্থ দেন। এছাড়াও মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে তাকে একটি বাড়ি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, প্রতিবন্ধী ওই নারী নবজাতক শিশু সন্তান সহ দরিদ্র পিতার বাড়িতে খুব কষ্টে আছে। আমরা তাকে নগদ অর্থ দিয়েছি। সামাজিক সুরক্ষায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। প্রতিবন্ধী ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।  

news24bd.tv/ কামরুল 

;