আল্লাহর জিকিরে অন্তরের প্রশান্তি
আল্লাহর জিকিরে অন্তরের প্রশান্তি

ফাইল ছবি

আল্লাহর জিকিরে অন্তরের প্রশান্তি

আতাউর রহমান খসরু

ইসলামী বিধি-বিধান ও ইবাদতের অন্যতম লক্ষ্য মুমিনের অন্তরে আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত রাখা। এ জন্য মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘অতএব আমার ইবাদত কোরো এবং আমার স্মরণার্থে নামাজ আদায় কোরো। ’ (সুরা ত্ব-হা, আয়াত : ১৪)

সায়িদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) বলেন, ‘জিকির হলো আল্লাহর আনুগত্য। যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করল সে আল্লাহকে স্মরণ করল, আর যে আল্লাহর আনুগত্য করল না, সে আল্লাহর স্মরণকারী নয়।

যদিও সে অধিক পরিমাণ তাসবিহ পাঠ করে এবং কোরআন তিলাওয়াত করে। ’ (সিয়ারু আলামুন নুবালা : ৪/৩২৬)

সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির : মুমিন ও বুদ্ধিমানরা সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এটা নিরর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি পবিত্র, আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)

জিকিরে মুমিনের সাফল্য : আল্লাহর স্মরণ ও আনুগত্য মুমিনের ইহকালীন ও পরকালীন সাফল্যের মাপকাঠি।

ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা যখন কোনো দলের সম্মুখীন হবে, তখন অবিচলিত থাকবে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও। ’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৪৫)

আল্লাহর ক্ষমা লাভ : যারা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করবে, আল্লাহ তাদের পাপ মার্জনা করবেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি অবিচার করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনে-শুনে তার পুনরাবৃত্তি করে না। ’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৫)

আল্লাহর স্মরণ লাভ : জিকির আল্লাহর স্মরণ লাভের উপায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ কোরো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আমার কৃতজ্ঞতা আদায় কোরো, অকৃতজ্ঞ হয়ো না। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫২)

আল্লাহর নৈকট্য লাভ : জিকিরের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারণা মোতাবেক আমি (আচরণ করি)। আমি তার সঙ্গে থাকি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে আমাকে তার অন্তরে স্মরণ করে আমি তাকে আমার অন্তরে স্মরণ করি। যদি সে আমাকে মজলিসে স্মরণ করে, আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক বাহু অগ্রসর হই। যদি সে আমার দিকে আসে হেঁটে, আমি তার দিকে যাই দ্রুত। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫)

জিকিরে মসজিদ আবাদ হয় : আল্লাহর জিকির ও ইবাদতের মাধ্যমে মসজিদ আবাদ হয়। আর জিকির না করলে মসজিদের প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেসব ঘর যাকে আল্লাহ সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। ’ (সুরা নুর, আয়াত : ৩৬)

আল্লামা সা’দি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহর এই বাণীর মধ্যে ফরজ ও নফল সব ধরনের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ পাঠসহ আল্লাহর বিভিন্ন প্রকার জিকির, দ্বিনি জ্ঞান অর্জন করা ও শিক্ষাদান করা, দ্বিনি আলোচনা করা, ইতিকাফসহ অন্যান্য ইবাদত মসজিদে করা হবে। (তাফসিরে সা’দি, পৃষ্ঠা ৫৬৯)

জিকিরের তাওফিক প্রার্থনা : রাসুলুল্লাহ (সা.) জিকিরের তাওফিক প্রার্থনা করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘হে মুয়াজ! আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, তুমি প্রত্যেক নামাজের পর এই দুটি দোয়া কখনো ছাড়বে না : ‘হে আল্লাহ! আপনার স্মরণে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং আপনার উত্তম ইবাদতে আমাকে সাহায্য করুন। ’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৫২২)

আরও পড়ুন:


যেসব কাজ নীরবে আমল নষ্ট করে


জিকিরের উচ্চ মর্যাদা : মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদেরকে কি তোমাদের অধিক উত্তম কাজ সম্পর্কে জানাব না, যা তোমাদের মনিবের কাছে সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের সম্মানের দিক থেকে সবচেয়ে উঁচু, স্বর্ণ ও রৌপ্য দান-খায়রাত করার চেয়েও বেশি ভালো এবং তোমাদের শত্রুর মোকাবেলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে সংহার করা ও তোমাদেরকে তাদের সংহার করার চেয়ে ভালো? তারা (সাহাবিরা) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, মহান আল্লাহর জিকির। ’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৭৭)

জিকিরে মুমিনের প্রশান্তি : আল্লাহর জিকিরে মুমিন বান্দা প্রশান্তি খুঁজে পায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের চিত্ত প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই চিত্ত প্রশান্ত হয়। ’ (সুরা রাদ, আয়াত : ২৮)। আল্লাহ সবাইকে তাঁর জিকিরের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু