স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অনৈতিক সম্পর্ক, স্ত্রীকে হত্যা
স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অনৈতিক সম্পর্ক, স্ত্রীকে হত্যা

অভিযুক্ত স্বামী জাহাঙ্গীর মোড়ল

স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অনৈতিক সম্পর্ক, স্ত্রীকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

যশোরে ইট ভাটা শ্রমিক ফাহিমা বেগমকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর রাখে স্বামী জাহাঙ্গীর মোড়ল। স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী জাহাঙ্গীর মোড়লকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করে জাহাঙ্গীর আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীর পুলিশকে জানায়, স্বামী-স্ত্রী তারা দুজনেই ইট ভাটায় কাজ করতেন।

কিন্তু তার স্ত্রী ওষুধের সঙ্গে তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতো। বিষয়টি বুঝতে পেরে অনেক নিষেধ করেও লাভ হয়নি। তাই স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। শুক্রবার যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসানের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর এ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

এদিকে এই ঘটনায় এর আগে নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম শেখ কোতোয়ালি মডেল থানায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আটক জাহাঙ্গীর মোড়ল সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সাতপাখিয়া গ্রামের দাউদ মোড়লের ছেলে।

গত ১৩ জানুয়ারি সকালে যশোরের নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টয়লেটের সেফটিক ট্যাংক থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম শেখ সংবাদ শুনে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে যশোরে আসেন এবং বোনের মরদেহ শনাক্ত করেন।

তার ধারণা অজ্ঞাতনামা আসামি তার বোন ফাহিমাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখে। উদ্ধারের পর রাতেই পিবিআই ফাহিমার স্বামী জাহাঙ্গীরকে সাতক্ষীরার তালা এলাকা থেকে আটক করে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পরে শুক্রবার জাহাঙ্গীরকে যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এসময় বিচারক মাহাদী হাসানের এজলাসে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন জাহাঙ্গীর। এরপর জাহাঙ্গীরকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর স্বীকার করেছে, স্ত্রী ফাহিমা বেগম ও তিনি যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় ইটের ভাটায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।  কাজ করার সময় স্ত্রী ফাহিমা তাকে ওষুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করতেন। একপর্যায়ে ফাহিমা বেগমকে অপরের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা জাহাঙ্গীর মোড়ল নিজ চোখে দেখে ফেলেন। স্ত্রী ফাহিমা বেগমকে এই খারাপ কাজ ছেড়ে দিতে বললেও সে কথা শোনেনি।

গেল ১৫ ডিসেম্বর তারা যশোরে ইট ভাটার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নরেন্দ্রপুর হাই স্কুলের কাছাকাছি গেলে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মোড়ল তার স্ত্রী ফাহিমা বেগমকে তার স্বভাব-চরিত্র ভালো করতে বলেন। তখন ফাহিমা বেগম জাহাঙ্গীর মোড়লের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে।

এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি বেধে যায় এবং ফাহিমা বেগম জাহাঙ্গীর মোড়লকে রেখে সামনে হাঁটতে থাকেন। তখন জাহাঙ্গীর মোড়ল পেছন থেকে রাস্তার পাশে পাওয়া বাঁশ উঠিয়ে ফাহিমা বেগম’র মাথার পেছনে জোরে আঘাত করলে ফাহিমা বেগম উপুড় হয়ে পিচের রাস্তার পাশে পড়ে যান। ফাহিমা বেগম পড়ে গেলে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মোড়ল ফাহিমা বেগমের পরিহিত ওড়না ভিকটিমের গলায় পেঁচিয়ে শক্ত করে ধরে রাখেন। মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে গেলে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মোড়ল ফাহিমা বেগমের মৃতদেহ ওড়না দিয়ে টেনে স্কুলের বাইরে কাচা রাস্তার পাশে বাথরুমের ট্যাংকের কাছে নিয়ে যান। মৃতদেহ ট্যাংকের মধ্যে ফেলে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে দেন।

আরও পড়ুন


ভাষাসৈনিক জিয়াউল হক আর নেই

news24bd.tv এসএম

;