সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ২৭ মিনিট আগে

ভেঙে পড়েছে গুরুদাসপুরের স্বাস্থ্য সেবা 

নাসিম উদ্দীন • নাটোর প্রতিনিধি

ভেঙে পড়েছে গুরুদাসপুরের স্বাস্থ্য সেবা 

জনবলের অভাবে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পড়েছে। সেই সাথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে।।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি ও আউটডোর বিভাগের সামনে গুরুদাসপুর উপজেলাবাসী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রাম, পাবনার চাটমোহর, সিংড়া ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন রোগীদের প্রকট ভিড়! 

৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১৬ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসক কর্তব্যরত থাকার কথা। কিন্তু মাত্র ৫ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তাও তার অফিসে বসে রোগী দেখা শুরু করেছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিধি মোতাবেক ৯ জন কনসালটেন্ট, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, অর্থপেডিক্স ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৪ জন কনসালটেন্ট দিয়ে চলছে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে নেই কোনো ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট। ইপিআই বিভাগে মাত্র ১ জন অদক্ষ টেকনিশিয়ান দ্বারা কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলট্রাসনোগ্রাম থাকলেও সঠিকভাবে তা ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়নি। কর্তব্যরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও মেডিকেল অফিসাররা দীর্ঘদিন যাব আগত রোগীদের আলট্রাসনোগ্রাম করে চলছেন।

গুরুদাসপুর পৌরসদরের চাঁচকৈড় বাণিজ্য নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ মো. সামসুল হক শেখ ক্ষোভ ও দুঃখ ভরা মনে বলেন, ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন শতাধিক রোগীসহ বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতরা আসেন।অথচ জনবল সঙ্কটের কারণে তারা চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

বিশেষ করে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের অভাবে ডাক্তার রবিউল করিম শান্ত নামের জনৈক মেডিকেল অফিসার প্রশাসনিক কর্মকর্তার নির্দেশে ওই পদে দায়িত্ব পালন করে কোনরকম ইজ্জত বাঁচাচ্ছেন। এছাড়া ডাক্তার শ্রদ্ধা নিবেদিতা পাল নামে এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ গেল মাসের মাঝামাঝিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাদান করে ৮ জুন থেকে এখনও ছুটিতে আছেন। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চক্ষু বিশেষজ্ঞ, সার্জারি বিশেষজ্ঞ, কার্ডিওলজিষ্ট ও নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিসৎক থাকার বিধান থাকলেও তাদের দেখা মেলেনি। আবার জরুরি বিভাগে একজন অফিস সহকারী থাকার নিয়ম থাকলেও সেটাও নেই। সুইপার বা ঝাড়ুদার ৫ জনের মধ্যে রয়েছে ৩ জন। তার মধ্যে একজন দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ। নিরাপত্তা প্রহরী ৩ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১ জন। সেখানে কোনো সার্জারি বিশেষজ্ঞ নেই বলে অবসকারী ডাক্তারকেও নিয়োগ দেয়া হয়নি। 

এসব বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সঙ্কট ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সঙ্কটে বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে আগতদের। মুমূর্ষ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নাটোর বা রাজশাহীতে রেফার্ড করতে অধিকাংশ সময় রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। রেফার্ড করা রোগীদের বহনের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেসরকারি ২-৩ টি অ্যাম্বুলেন্স সব সময় অবস্থান করে।

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটিমাত্র এক্স-রে মেশিন এক যুগ ধরে বিকল হয়ে জলহস্তির ন্যায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। নতুন এক্স-রে মেশিনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুস বরাবর চিঠি দেওয়া হলেও সমস্যাটির সমাধান হচ্ছে না।

এদিকে, জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলামের ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে গাড়ি না দিয়ে সোহেল রানা নামে এক যুবককে ড্রাইভার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।অবিলম্বে গাড়ি সরবরাহ না করলে নিয়োগকৃত ড্রাইভার বসে বসেই সরকারি বেতন-ভাতা পেতে থাকবেন।

নাসিম/অরিন/নিউজ টোয়েন্টিফোর

মন্তব্য