‘চালু থাকবে কারখানা, শ্রমিকরা দিতে পারবে ভোট’
‘চালু থাকবে কারখানা, শ্রমিকরা দিতে পারবে ভোট’

সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক

‘চালু থাকবে কারখানা, শ্রমিকরা দিতে পারবে ভোট’

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে রোববার (১৬ জানুয়ারি)। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস কারখানায় যেসব শ্রমিকরা কাজ করে;  তারা কিভাবে ভোট দিবেন সে বিষয়ে শনিবার রাতে নিউজটোয়েন্টিফোর’কে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ জানিয়েছেন, কারখানার শ্রমিকরা যাতে ভোট দিতে পারে সেজন্য নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন (বিকেএমইএ) ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) শ্রমিকদের ভোট দানের জন্য সময় দিয়েছেন। কারখানার শ্রমিকরা সকাল ১০ থেকে ১২ টা পর্যন্ত দু’ঘণ্টা ভোট দিতে পারবে।

ভোটের দিন গার্মেন্টস কারখানা চালু রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ শ্রমিকদের ভোট দেয়ার জন্য সময় দিয়েছেন। তাই নির্বাচনের দিন গার্মেন্টস কারখানা চালু থাকবে।

ভোটের দিন নারায়ণগঞ্জে যানবাহন চলবে কিনা সে বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বলেন, ভোটের দিন নারায়ণগঞ্জে কোনও মোটরসাইকেল চলবে না। সিটি বাস চলবে। নির্বাচন কমিশনের যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে সেটি বলবৎ থাকবে।  

তিনি আরও বলেন, আর ভোটার আনা নেয়ার প্রয়োজনে যদি গাড়ির প্রয়োজনে হয় সেটি যদি নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আমাদের বলা হয়। তবে সেটি আমার দেখবো। তবে আমার সেটা নির্বাচনের দিন চেক করবো।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে গত মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি জানায়, সাংবাদিক, নির্বাচন কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ জরুরি সেবার কাজে নিয়োজিতদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

এ প্রসঙ্গে ইসির যুগ্ম-সচিব ও পরিচালক (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান জানান, শুক্রবার ১৪ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৭ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া শনিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাক ও পিক আপ চলাচল বন্ধ থাকবে।  

প্রসঙ্গগ, গত বছরের ৩০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াত আইভী (নৌকা), খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন (দেয়ালঘড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার (হাতি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন (বটগাছ), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম (ঘোড়া)।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ২৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের এক হাজার ৩৩৩ ভোটকক্ষে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত নয়টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৩৪ জন প্রার্থী।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে নয়টি সংস্থার ৪২ পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে কমিশন। সংস্থাগুলো হলো, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ), সার্ক মানবাধিক ফাউন্ডেশন, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, সমাজ উন্নয়ন প্রয়াস, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা, তালতলা যুব উন্নয়ন সংগঠন, রিহাফ ফাউন্ডেশন, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন এবং মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-মওসুস।  পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা মানার পাশাপাশি এসব সংস্থাকে ভোট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের শর্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
news24bd.tv/আলী