বসুন্ধরার কম্বল পেয়ে ‘আনন্দে কাঁদলেন’ বৃদ্ধ
বসুন্ধরার কম্বল পেয়ে ‘আনন্দে কাঁদলেন’ বৃদ্ধ

বসুন্ধরার কম্বল পেয়ে ‘আনন্দে কাঁদলেন’ বৃদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল ভারত সীমান্তঘেঁষা পাকুড়িয়া গ্রাম। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত পাকুড়িয়ার চরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৭ নির্মিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্থান পেয়েছে ২৬০ পরিবার।

কিন্তু এই শীতে জড়সড় দরিদ্র এই মানুষগুলোর শীত নিবারণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খবর পেয়ে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা আজ শুক্রবার সকালে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পক্ষ থেকে দেওয়া ৩০০ কম্বল পৌঁছে দিয়েছে দরিদ্র-অসহায় এই মানুষগুলোর হাতে।

কম্বল পেয়ে আনন্দে আত্মহারা এই চরের মানুষগুলো প্রাণ খুলে দোয়া করেছে বসুন্ধরা গ্রুপের জন্যে। কম্বল হাতে পেয়ে  আনন্দ অশ্রু ঝরছিল বৃদ্ধ আলী হোসেনের চোখে। চোখেও কম দেখেন। হাঁটতেও পারেন না ঠিকমতো। তা-ও তিনি লাঠি ভর দিয়ে কুয়াশা ভেদ করে বাড়ি থেকে হেঁটে এসে অপেক্ষা করছিলেন পাকুড়িয়া আবাসন কমিউনিটি সেন্টারে। আলী হোসেন কম্বল হাতে পেয়ে বললেন, কি যে শীত বাবারা বুঝাতে পারব না। কেউ তো কিছু দেয় না। জীবনটাও তো শেষের পথে। বসুন্ধরার এই কম্বলডা দিয়ে যেন এই শীতটা পার করতি পারি।

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২০০০ দুস্থ শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ কার্যক্রমের শেষ দিনে দৌলতপুরের এই দুর্গম চরাঞ্চলে ৩০০ অসহায় শীতার্তের মাঝে কম্বল বিতরণের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় ২ হাজার কম্বল বিতরণ সম্পন্ন হলো।

সকালে প্রাগপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে কম্বল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজ শাহীন, দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, টিআইবির কুষ্টিয়ার এরিয়া কো-অর্ডিনেটর রায়হানুল ইসলাম, কালের কণ্ঠের কুষ্টিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক তারিকুল হক তারিক, শুভসংঘ কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক কাকলি খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া খাতুন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাকিল আহম্মেদ, দপ্তর সম্পাদক নাফিজ আহম্মেদ প্রমুখ।

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, প্রচণ্ড এই শীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই মানুষগুলো ভীষণ কষ্টে ছিলেন। সরকারের সীমিত সম্পদ দিয়ে আমরা তাদের পাশে সব সময় থাকার চেষ্টা করি। তারপরেও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মহোদয় এই মানুষদের জন্যে যে শীতের উপহার পাঠিয়েছেন, তা পেয়ে তাদের সঙ্গে আমরাও আনন্দিত। বসুন্ধরা গ্রুপের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আমাদের প্রশ্যাশা।

আরও পড়ুন


‘বসুন্ধরার মালিকে কম্বল পাডাইছে, ইশ্বর তার বালা করুক’

news24bd.tv তৌহিদ

;