গল্প নয় সত্যি, ঘোড়া দিয়ে হালচাষ
গল্প নয় সত্যি, ঘোড়া দিয়ে হালচাষ

গল্প নয় সত্যি, ঘোড়া দিয়ে হালচাষ

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

মালামাল টানতে ও মানুষের বাহন হিসেবে ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার নতুন কিছু নয়। যদিও কালের পরিক্রমায় এগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। কিন্তু ঘোড়া দিয়ে জমিচাষের দৃশ্য বিরল! এক দিকে যেমন কৃষকেরা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত চাষাবাদ শুরু করেছে। অন্যদিকে গরুর হালচাষ অনেকটা উঠে গেছে।

সেখানে ঘোড়া দিয়ে চাষাবাদ অনেকটা রূপকথার গল্প মনে হলেও বাস্তবে ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ধন্দোগাঁও গ্রামের কৃষক ভূষণ চন্দ্র।

তার এই হালচাষের কাজে সহযোগিতা করছেন স্ত্রী ভানু রাণী।

স্থানীয়রা জানায়, এক বছর ধরে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করে আসছে ভূষণ চন্দ্র। বাজারে গরুর দাম বেশি হওয়ায় ২২হাজার টাকা দিয়ে দুটি ঘোড়া কেনেন। যা দিয়ে ভূষণ চন্দ্র শুধু নিজের জমিতেই নয়, অন্যের জমি চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করছেন। এক বিঘা জমি চাষে নিচ্ছেন ৫০০ টাকা। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই বিঘা জমিতে হালচাষ করেন তিনি।

কৃষক ভূষণ চন্দ্র জানান, আগে আমাদের গরু ছিল। অভাবের কারণে তা বিক্রি করি। এখন এক জোড়া হালের গরু কিনতে গেলে খরচ পড়ে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই টাকা দিয়ে ছয় জোড়া ঘোড়া কেনা যায়। প্রথম দিকে ঘোড়াগুলোকে হালের কসরত শেখাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। ঘোড়ায় লাঙল-জোয়াল জুড়ে দিয়ে অনেকবার চেষ্টার পর আয়ত্তে আসে। এখন পুরোদমে ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করছি।

স্থানীয়রা বলেন, ‘ঘোড়া দিয়ে হালচাষে লাঙল জমির গভীরে ঢুকে যায়। কিন্তু পাওয়ারটিলার বা মাহেন্দ্র গাড়ি দিয়ে হালচাষ করলে জমি সমান হয় না। ঘোড়ার হাল দিয়ে সমান হয়। এতে পানি ধরে রাখা সহজ হয়।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন বলেন, কৃষকেরা এখন যান্ত্রিক উপায়ে জমি চাষ করেন। ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করা অপ্রচলিত একটা বিষয়। সময়ের সঙ্গে ঘোড়ার যে ব্যবহার, তা উঠে গেছে। কৃষক ভূষণ চন্দ্র নিজের প্রয়োজনে বাড়তি আয়ের জন্য ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ বা মই দেন। তবে কৃষিবিভাগ সবসময় আধুনিক মানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে চাষাবাদ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয় বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন


‘বসুন্ধরার মালিকে কম্বল পাডাইছে, ইশ্বর তার বালা করুক’

news24bd.tv তৌহিদ

;