ঈমানি জীবনের তিন পুঁজি
ঈমানি জীবনের তিন পুঁজি

প্রতীকী ছবি

ঈমানি জীবনের তিন পুঁজি

আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী  

একটি সূর্যোদয়। অলসতার চাদর ছুড়ে ফেলে নব উদ্যমে জীবনকে সাজানোর প্রেরণা জোগায়। জীবনকে আরো উন্নত, আরো কর্মময়, আরো গতিশীল করার বার্তা দিয়ে যায় প্রতি দিনের সূর্যোদয়। আজ আমরা কোরআনুল কারিমের আলোকোজ্জ্বল চিরশাশ্বত তিনটি নির্দেশনা নিয়ে কথা বলব, যেগুলো আমাদের এলোমেলো অগোছালো জীবনকে সাজিয়ে তুলবে।

জীবনকে করে তুলবে আরো কর্মময়, আরো গতিশীল।

১. ইসতেগফার

ইসতেগফার মানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। মহান রবের কাছে নিজের অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তোলা। নিজের ক্ষুদ্রতা-হীনতা স্বীকার করে মহামহিম আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়া। এই ইসতেগফার সুখময় উন্নত জীবন লাভের অনন্য উপায়। ইসতেগফার জীবনকে সাজিয়ে তোলে। পাপের পংকিলতা থেকে উঠিয়ে নেকির পবিত্র আবেশে মন মানসকে স্নিগ্ধ করে তোলে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনের দল, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে  তাওবা করো। তার দিকে ফিরে যাও। এতে  তোমরা সফলতা অর্জন করতে পাররে। ’ (সুরা নুর, আয়াত : ৩১)

২. তাকওয়া

তাকওয়া মানে কী? তাকওয়া শব্দের শাব্দিক অর্থ বেঁচে থাকা। হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.) তাকওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তাকওয়া হচ্ছে, আল্লাহর ভয়ে শিরক থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর পরিপূর্ণ আনুগত্য করা। ’ (তাফসিরুল কোরআনিল আজিম : ১/৫৪)

ইমাম কুরতুবি (রহ.) তাঁর তাফসিরে তাকওয়ার ব্যাখ্যায় বলেন, একবার আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে তাকওয়ার পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। উবাই (রা.) তখন পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আমিরুল মুমিনিন, আপনি কি কখনো কাঁটাযুক্ত ঝোপঝাড় দিয়ে পথ চলেছেন?  উমর (রা.) বলেন, হ্যাঁ। উবাই (রা.) বলেন, তখন কিভাবে পথ চলেছেন?  কাপড় টেনে খুব সতর্কতার সঙ্গে চলেছি, যেন গায়ে কাঁটা না লাগে—উমর (রা.)-এর জবাব।

উবাই (রা.) বলেন, এটাই তাকওয়া। অর্থাৎ খুব সতর্কতার সঙ্গে দুনিয়ার জীবন অতিবাহিত করা, যাতে কখনো আল্লাহর নাফরমানি না হয়ে যায়। আমার স্রষ্টা যেন সব সময় আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন। ’  (আল জামে লি আহকামিল কোরআন : ১/১৪৭)

মুমিনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই তাকওয়া। ঈমানদার যথার্থভাবে আল্লাহভীতিকে হূদয়ের গভীরে স্থান দেবে—একজন মুমিনের কাছে এটা কোরআন ও ঈমানের দাবি। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা,  অন্তরে আল্লাহকে সেভাবে ভয় করো, যেভাবে তাকে ভয় করা উচিত। সাবধান, অন্য কোনো অবস্থায় যেন তোমাদের মৃত্যু না আসে; বরং এই অবস্থায়ই যেন আসে যে তোমরা মুসলিম। ’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১০২)

৩. জিকরুল্লাহ

জিকরুল্লাহ মানে আল্লাহর স্মরণ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহকে স্মরণ করা। হৃদয়ে মননের গভীরে আল্লাহর নাম বদ্ধমূল করে নেওয়া। জীবনজুড়ে আল্লাহর বড়ত্বের জয়গান গাওয়া। প্রতিটি নিঃশ্বাসে আল্লাহর পবিত্র নাম উচ্চারণ করা।

আরও পড়ুন:


কোরআনের বর্ণনায় জাহান্নামের দরজা

যে দোয়ায় অনবরত সওয়াব লেখা হয়


আপনার হৃদয়ে অশান্তির ঝড় বয়ে যাচ্ছে, কোথাও প্রশান্তির দেখা পাচ্ছেন না, ডিপ্রেশনের অতলে হারিয়ে যাচ্ছেন, তাহলে  আপনি অজু করে পাক পবিত্র হোন। এরপর আল্লাহর জিকির করুন। কোরআন তিলাওয়াত করুন। কোরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত আল্লাহর জিকিরে মনোনিবেশ করুন। দেখুন, আপনার হৃদয়রাজ্যে কী অনাবিল প্রশান্তির সুবাতাস বয়ে যাচ্ছে।   ইরশাদ হয়েছে, মনে রেখো! জিকিরের মাধ্যমেই হৃদয়সমূহ প্রশান্তি লাভ করে। ’ (সুরা রাদ, আয়াত : ২৮)

তাই আসুন, প্রতিটি সূর্যোদয়ের বার্তা গ্রহণ করে  জীবনকে সাজিয়ে তুলি। ইসতেগফার, তাকওয়া ও জিকরুল্লাহর আলোয় নিজেদের উদ্ভাসিত করি।

news24bd.tv রিমু

;