অনুষ্ঠিত হলো গরুর গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতা
অনুষ্ঠিত হলো গরুর গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতা

অনুষ্ঠিত হলো গরুর গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতা

শেখ রুহুল আমিন,ঝিনাইদহ

প্রতি বছরের ন্যায় করোনাকালিন সময়েও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেতাই গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী গরুর গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতা। গান্না ইউনিয়নের আয়োজকরা এই মনোমুগ্ধকর প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। যা দেখতে ভীড় করেছিল দর্শকরা। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বেতাই গ্রাম যেন পরিণত হয় উৎসবের নগর।

রোববার সকালে বেতাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কনকনে শীত আর বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সকাল থেকে বেতাই গ্রামের মাঠে। ঝিনাইদসহ আশপাশ জেলা থেকে ভ্যান, রিক্সা মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন রকম যান বাহনে করে জড়ো হয় নারী-পুরৃষ,শিশুসহ বয়োবৃদ্ধরাও। মঞ্চ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দুরে গরু ও গাড়ী নিয়ে ৬ টি সারিতে চলে দৌড়ের প্রস্তুতি। বাঁশিতে ফু দেওয়ার সাথে সাথে গাড়োয়ানের হাতের ছোঁয়ায় যেন মুহূর্তে পাল্টে যায় চরিত্র। একে অপরকে পেছনে ফেলতে ছুটতে থাকে বিদ্যুৎ গতিতে। যা দেখে উচ্ছসিত হয় দর্শক।

কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রাম থেকে আসা কলেজ ছাত্র রাব্বি হোসেন জানায়, গ্রাম বাংলা ঐহিত্য গরুর গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতা সত্যিই খুবই মনোমুগ্ধকর। এটা দেখতে যে কত ভালো লাগে তা বলে বোঝানো যাবে না। এই খেলা দেখতে আজ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে। মানুষের মাঝে এ এক ধরনের আনন্দের কাজ। তাই প্রতিবছর এই খেলার আয়োজন করা উচিত।

ঝিনাইদহ শহর থেকে আসা অন্তর মাহমুদ নামে এক যুবক বলেন, এ অঞ্চলের ঐহিত্য যে গরুর গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতা। আমরা শুনে আসছি এখানে এই আয়োজন করা হয়। আমরা বন্ধুরা মিলে দেখতে এসেছি। এই খেলা দেখতে খুবই ভালো লাগছে। এতে করে গ্রামের মানুষের মাঝে প্রাণের সঞ্চার তৈরী হয়েছে। খেলাটি সত্যিই উপভোগ্য। এ জন্য আয়োজকদের আমরা ধন্যবাদ জানায়।

খেলায় অংশ নেয় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার জিয়ালা গ্রামে কবির হোসেন জানান, আমরা সারাবছর চাষাবাদ করি। বছরের এই সময়টা অপেক্ষায় থাকি এই খেলায় অংশ নেওয়ার জন্য। মানুষ আমাদের খেলা দেখে আনন্দ পায়। তা দেখে আমরাও আনন্দ পায়। আনন্দ পাওয়ার জন্যই আমরা দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিই।

এ ব্যাপারে আয়োজক গান্না ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আতিকুল হাসান মাসুম জানান, গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষকে আনন্দ দেওয়া আর গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই ধরনের আয়োজন করেছি। শীত আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষ এখেলা দেখতে এখানে এসেছেন তাতেই প্রমাণ হয় এটি মানুষকে কতটা আনন্দ দেয়। আমরা আশা করি আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই খেলার আয়োজন করার।

দিনবর প্রতিযোগিতা শেষে সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম হয় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নজরুল মুন্সি। পুরস্কার হিসেবে তাকে দেওয়া হয় টেলিভিশন। ২য় হয় মহেশপুর উপজেলার দোলন হোসেন। তাকে দেওয়া হয় একটি বাইসাইকেল ও ৩য় হয়ে ফ্যান পুরস্কার পান যশোরের রহমত আলী। উল্লেখ্যঃ প্রতি বছর জাঁকজকমপূর্ন ভাবে এখেলার আয়োজন করে আসছিল গান্না ইউনিয়নবাসীসহ বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মালিথা।
news24bd.tv/আলী  

;