জমে উঠেছে খেজুর গুড়ের ব্যবসা
জমে উঠেছে খেজুর গুড়ের ব্যবসা

জমে উঠেছে খেজুর গুড়ের ব্যবসা

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের হাটবাজার গুলোতে জমে উঠেছে জমজমাট খেজুর গুড়ের ব্যবসা। প্রশাসনের সঠিক নজরদারির ফলে এ বছর উৎপাদন ও বিক্রি বেড়েছে ভেজালমুক্ত খেজুর গুড়ের। নাটোরের খেজুরের গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতিদিনই চলছে হাজার হাজার মণ গুড় কেনাবেচা।

এই গুড়ে দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠা।  

সংশ্লিষ্টরা বলছে, এ বছর খেজুর গুড়ের ১০০ কোটি টাকার উপরে ব্যবসা হবে। নাটোর জেলায় প্রতিদিনই বসছে গুড় বিক্রির হাট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- লালপুর, নাটোর সদর ও সিংড়ার হাট।

বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া গুড়ের হাটের আড়তদার ইকবাল হোসেন জানান, সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার বনপাড়া বাজারে গুড় বিক্রির হাট বসে। প্রতি হাটে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক গুড় কেনেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারিরা আসে এ হাটে।

লালপুর বাজারের আড়তদার জিল্লুর রহমান জানান, নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত প্রতিদিনই লালপুরে বসে গুড়ের হাট। এলাকার হাজার হাজার গুড় প্রস্তুতকারক তাদের গুড় নিয়ে এ বাজারে আসেন।  

বর্তমানে খেজুরের গুড় ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি প্রতিদিন ২০০ থেকে ৪০০ মণ গুড় কেনেন। ওই হাটে তার মতো আরও ২০ জন আড়ত মালিক রয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, লালপুর,বাগাতিপাড়া, বনপাড়া, সিংড়া ছাড়াও নাটোর শহরের  চকবৈদ্যনাথ গুড় বাজারের আড়তগুললো থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যায় খেজুরের গুড়। এতে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ ট্রাক গুড় কেনাবেচা হয়। প্রতি ট্রাক গুড়ের মূল্য ১০ লাখ টাকা হিসাবে দিনে প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

স্থানীয় গুড় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখন দেশের সবচেয়ে বেশি গুড় তৈরি হয় রাজশাহীও নাটোর জেলাতে। নাটোর সদর, বাগাতিপাড়া ও লালপুর উপজেলাতেও কয়েক লক্ষ গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে উৎপাদিত গুড়ের সবচেয়ে বড় বাজার বসে পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া ও বানেশ্বর হাটে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখানকার খেজুর গুড় যাচ্ছে দেশের বাইরেও। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ-আমেরিকাসহ অনেক দেশ থেকে আসছে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা।

ঢাকার দোহারের গুড় ব্যাপারী আব্দুল হাকিম জানান, তিনি প্রতি হাটে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মণ গুড় কেনেন। ওই গুড় ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করেন।

লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া এলাকার বাবলু জানান, প্রতি বছরই তিনি শীতের মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ করেন। সেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেন। এ বছরও তিনি ২৫০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে বিক্রি করছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ‘১৫০টি গাছের রস দিয়ে একদিনে ৬০-৭০ কেজি গুড় তৈরি করি। প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হয়। প্রতি শীতের মৌসুমে গুড় বিক্রি করে সংসার চালানোর পর প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়।

বাবলু আরও জানান, এলাকায় তার মতো শত শত গাছি রয়েছে। ওই গাছিরাও তার মতো খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি ও বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাহমুদুল ফারুক বলেন, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিনই কেনাবেচা হচ্ছে খেজুরের গুড়। বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা আসছেন গুড় কিনতে। নাটোরে কতজন গুড় তৈরির সঙ্গে যুক্ত কিংবা প্রতিদিন কত টাকার গুড় বেচাকেনা হয় তার সঠিক হিসাব কৃষি বিভাগের কাছে নেই।  

তবে প্রতিদিনই ট্রাক ভর্তি গুড় যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে নাটোরে লাখ লাখ টাকার ব্যবসা চলছে এই গুড় বেচাকেনায়।
news24bd.tv/আলী