দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে চার শ্যালিকার প্রতারণার অভিযোগ
দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে চার শ্যালিকার প্রতারণার অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি

দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে চার শ্যালিকার প্রতারণার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

বগুড়া জেলা পরিষদের সদস্য ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঐতিহ্যবাহী সরিফ বিড়ির শত কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত এ অভিযোগ দেন সরিফ বিড়ির কর্ণধারের মেয়ে আনোয়ার হোসেন রানার চার শ্যালিকা- মাহবুবা খানম আমেনা, নাদিরা শরিফা সুলতানা খানম, কানিজ ফাতেমা পুতুল ও তৌহিদা শরিফা সুলতানা।

দুদক চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রানা বগুড়ার সরিফ বিড়ির কর্ণধার মৃত সেখ সরিফ উদ্দিনের বড় মেয়ে আকিলা শরিফা সুলতানার স্বামী। রানা অংশীদারদের ঠকিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বর্হিভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে আনোয়ার হোসেন রানার মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। মেসেজ দিয়েও পাওয়া যায়নি কোনো উত্তর।

অভিযোগে তার চার শ্যালিকা উল্লেখ করেন, ‘আমাদের বাবা মরহুম সেখ সরিফ উদ্দিন উত্তরবঙ্গে প্রতিষ্ঠিত সরিফ বিড়িসহ একাধিক ব্যবসাসফল প্রতিষ্ঠান তার নিজের হাতে গড়ে তোলেন। ১৯৮৬ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের মা দেলওয়ারা বেগম পিতৃহারা পাঁচ বোনকে নিয়ে ব্যবসার হাল ধরেন এবং তা ধীরে ধীরে আরও সম্প্রসারিত করেন। আমাদের পাঁচ বোনের মধ্যে সবার বড় বোন আকিলা শরিফা সুলতানা খানমের প্রথম স্বামী সাইফুল ইসলাম ২০০৬ সালে মারা যান।  

ওই সময় আমাদের প্রতিষ্ঠানের ১৫০০ টাকা বেতনের কর্মচারী ছিলেন আনোয়ার হোসেন রানা। বড় বোনের স্বামী সাইফুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর কর্মচারী আনোয়ার হোসেন রানা বিধবা আকিলা শরিফা সুলতানাকে ২০০৯ সালে ভুল বুঝিয়ে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করেন। ’

অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘আমার বোনকে বিয়ে করার আগেও আনোয়ার হোসেন রানার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। দেড় হাজার টাকা বেতনের এই কর্মচারী রানা আমাদের বোনকে বিয়ের পর আঙুল ফুলে কলা গাছ হতে শুরু করে। বাবার রেখে যাওয়া সম্পদের দিকে তার শকুনের চোখ পড়ে। আমাদের বয়স্ক বিধবা মায়ের সরলতা ও অক্ষরজ্ঞানহীনতার সুযোগ নিয়ে এক প্রকার অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে সম্পত্তির অংশীদার অর্থাৎ আমাদের ঠকিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে দলিল করে নেয়। এক্ষেত্রে আমাদের বড় বোন অর্থাৎ তার স্ত্রী তাকে সহযোগিতা করে। ’

আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে তার শ্বশুরের বগুড়ার শাকপালা মৌজার ২০ শতক জমি, সূত্রাপুর মৌজার ৯৮ শতক জমি এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরের ১৪০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট দখল করে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা এফডিআর ও গচ্ছিত শত কোটি টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

জানা যায়, এসব ঘটনা অভিযোগ আকারে বগুড়া সদর থানায় দেওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর ওই অভিযোগে আনোয়ার হোসেন রানা ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার হন। সেই মামলায় বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, অল্প সময়ই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন আনোয়ার হোসেন রানা। বগুড়ার নন্দীগ্রামের কলেজপাড়াসহ আশপাশে নামে-বেনামে তার প্রচুর জমি রয়েছে। সেখানে অত্যাধুনিক বাড়ি করারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কোটি টাকা দামের একাধিক বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে তার।