বরিশালের মেধাবী সুমার পাশে বসুন্ধরা গ্রুপ
বরিশালের মেধাবী সুমার পাশে বসুন্ধরা গ্রুপ

বরিশালের মেধাবী সুমার পাশে বসুন্ধরা গ্রুপ

বরিশাল থেকে ইমন চৌধুরী

বাবা ভিক্ষা করেন। মা অন্যের জমিতে আবার কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এমন অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও নিজের মেধায় বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলা রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রাম আলোকিত করেছে সুমা রায়। সুমা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে।

কখনো একবেলা খেয়ে আবার কখনো চিড়া মুড়ি খেয়ে কেটেছে তার দিন। মায়ের সঙ্গে কখনো কখনো অন্যের জমিতে কাজও করেছেন।

এত কষ্টের পরেও বন্ধ হয়নি অদম্য মেধাবী সুমা রায়ের পড়াশোনা। শত অভাব আর প্রতিবন্ধকতার মাঝেও পড়ালেখা চালিয়ে গেছে সে।

এবার কলেজে ভর্তির পালা। কিভাবে চলবে পড়াশোনা, এই ভাবনায় যখন দিশেহারা সুমা রায়, তখনই তার পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্প গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। শুভসংঘের তত্ত্বাবধানে সুমা রায়ের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে তাকে কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবারের তিনবেলা খাবারের।

পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতে বৃহস্পতিবার তাদের বসুন্ধরার পক্ষ থেকে  সুমার পরিবরাকে কিনে দেওয়া হয় তিনটি ছাগল, সাতটি হাঁস ও ছয়টি মুরগি। পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে কিনে দেওয়া হয়েছে দুই সেট করে নতুন জামা এবং সুমার কলেজে ভর্তির জন্য নগদ টাকা। একসাথে এতকিছু হাতে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন সুমা ও তার পরিবার।

সুমা রায় বলেন, আমাদের বাবা-মা ও ১ ভাই-২ বোন নিয়ে পাঁচজনের অভাবের সংসার। আমি ভাই বোনদের বড়। আমার বাবা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমি মানুষের জমিতে কাজ করে লেখাপড়া চালিয়ে আসছি। আমার ভালো একটি জামা ও ঘরে খাবার ছিল না। আমি এসএসসিতে এত ভালো ফলাফল করার পরেও কলেজে ভর্তি হবার সামর্থ্য ছিল না। আজ কালের কণ্ঠের শুভসংঘের মাধ্যমে বসুন্ধরা আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। বসুন্ধরা আজ সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বলে আমি কলেজে ভর্তি হতে পারছি।  

সুমা রায়ের মা শিখা রায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, মোর মাইয়া কতোদিন না খাইয়া স্কুলে গেছে। এই বছর মেট্রিকে ভালো পাস করেছে। মোগো টাকা পয়সা ছিলো না, মোর মাইয়ারে আর লেহা পড়া করাইতে পারতাম না। মোর স্বামী শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়া চাই যা আনে হেইয়াই খাই। আবার কোন দিন না খাইয়া থাকি। মোর মাইয়ার লেহাপড়ার হগোল ভারনিলো বসুন্ধরা। এখন মোই মাইয়া ডাক্তার হইতে পারে।

শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করা জন্য বসুন্ধরা যে উদ্যেগ গ্রহণ করেছে শুভসংঘের পক্ষ থেকে সারা দেশে তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এদিকে বসুন্ধরার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সুমার এলাকাবাসী।
news24bd.tv/আলী