‘সরকার ও রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগীদের নিয়ে ইসি নয়’
‘সরকার ও রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগীদের নিয়ে ইসি নয়’

‘সরকার ও রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগীদের নিয়ে ইসি নয়’

অনলাইন ডেস্ক

নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগী কারও নাম না দিতে সার্চ কমিটিকে প্রস্তাব দিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। ইসি নিয়োগে প্রস্তাবিত নামগুলো আগেই প্রকাশের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে তারা এ কথা জানান।

বিশিষ্টজনেরা বলেন, যারা বিভিন্ন সরকারের সময় সুবিধাভোগী ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, তাদের নির্বাচন কমিশনে যাতে নিয়োগ না দেওয়া হয়।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতিকে সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত ১০ জনের নাম যাতে প্রকাশ করা হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ইসি নিয়োগে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পরিপন্থী ব্যক্তিদের নাম যাতে প্রস্তাব না করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পরিপন্থী কেউ যাতে ইসিতে আসতে না পারেন, সে বিষয় নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা।

ইসি গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির সঙ্গে আজ সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স লাউঞ্জে বিশিষ্ট নাগরিকদের এ বৈঠক হয়। সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে বৈঠকটি শুরু হয়। প্রথম ধাপে ২০ বিশিষ্টজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ঘণ্টাব্যাপী চলে এ বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন সার্চ কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, ‘সবাই মোটামুটি এক বাক্যে বলা হয়েছে, সার্চ কমিটি যাদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে, তাদের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট হতে হবে তিনি যেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ হয়। যে কোনো পেশা থেকেই আসতে পারে। তিনি সরকারি আমলা হোক বা যে কোনো পেশার হোক। তাদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানতে পারি তাদের ব্যক্তি চরিত্র, তাদের সততা এবং বাংলাদেশে আজ অর্থের প্রতি মোহ মানুষের অনেক। সেই মোহ যেন তাদের না থাকে। ’

মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘আমি একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি, কোনো দলীয় সরকারের সময়ে; বর্তমান সরকার হোক বা আগের দলীয় সরকার হোক, সে সময় বিশেষভাবে সুবিধাভোগী কোনো ব্যক্তি যাতে নির্বাচন কমিশনে স্থান না পায়। এই দাবিটা আরও অনেকে সমর্থন করেছে। ’

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব নাম জমা দিয়েছে সার্চ কমিটিকে তা প্রকাশ করতে বলেছি। নামগুলো প্রকাশ করলে জানা যাবে আসলেই রাজনৈতিক দলগুলো সুষ্ঠু নির্বাচন চায় কি না। ’

তিনি বলেন, ‘সার্চ কমিটি আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তারা বলেছেন, আমাদের কথাগুলো রেকর্ড থেকে আবারও শুনবেন। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সার্চ কমিটি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সবার কথাই মন দিয়ে শুনেছেন। আমাদের সবার একটা বিষয়েই জোর ছিল যে আগের কোনো সরকারের বিশেষ সুবিধাভোগীরা যেন নতুন নির্বাচন কমিশনে সুযোগ না পায়। ’

তিনি বলেন, ‘বিশেষ সুবিধা বলতে, যারা বিভিন্ন সরকারের মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বা সরাসরি সরকারের ঘনিষ্ঠ লোক বলে পরিচিত এমন কাউকে বোঝানো হয়েছে। ’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে যারা আসবেন তাদের যেন অবশ্যই সুষ্ঠু নির্বাচন করার মানসিকতা, সাহসিকতা ও ব্যক্তিত্ব থাকে। সব নাম যেন আগে থেকেই প্রকাশ করা হয়। কমিটি যদি ৩০ জনের নাম প্রকাশ করে, কারো ব্যাপারে যদি দেখা যায় তিনি কোনো দলের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন বা সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় কোনো একটি টক শোতে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলেছে তাহলে জনগণ জানাতে পারবে যাতে তাদের বাদ দেওয়া হয়।  আমাদের মনে হয়েছে, সার্চ কমিটি মন দিয়ে আমাদের কথা শুনেছে। কিন্তু কতটুকু রাখবে সেটা নাম প্রকাশিত হওয়ার পর আমরা বুঝতে পারবো। আমরা কোনো ধরনের নাম দিইনি। আমরা শুধু বলেছি, কীসের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত-কীসের ভিত্তিতে না নেওয়া উচিত। ’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থা এখন খুবই ক্রাইসিস মোমেন্টে আছে। তাই কমিশনের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে আস্থা ফিরিয়ে আনার। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার। সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে যেন সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্ব আগামীতে কায়েম হয় সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। ’

news24bd.tv/ নাজিম

;