বিকৃত যৌনাচারে বাধা দেয়ায় তিন জনকে হত্যা!
বিকৃত যৌনাচারে বাধা দেয়ায় তিন জনকে হত্যা!

সংগৃহীত ছবি

বিকৃত যৌনাচারে বাধা দেয়ায় তিন জনকে হত্যা!

অনলাইন ডেস্ক

ইয়াদ আলী তার বিকৃত যৌনচারে বাধা দেয়ায় একে একে হত্যা করেন দুই পুরুষ ও এক নারীকে। অধরা এই কিলার অবশেষে ধরা পড়েছে র‌্যাবের হাতে। মূলত সে তার বিকৃত যৌনচারে বাধা হয়ে দাড়ালে তাদেরকে হত্যা করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। র‌্যাবের হাত আটক এই সিরিয়াল কিলারকে বর্তমানে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, গত রবিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ঝিনাইদহের তেঁতুলতলা এমকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে ইলিয়াস পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরাতহাল রিপোর্টে দেখা যায়, তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ঠিক তিনদিন পর আরো একটি লাশ উদ্ধার করে। বুধবার লাউদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিড়ির নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তবে এই মৃতদেহটি কার তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ অজ্ঞাত লাশ হিসেবে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। অজ্ঞাত এই ব্যক্তিকেও মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।

সবশেষে বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামে বিবিজান বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে হত্যা করা হয়। তাকে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে হত্যা করা করা হয়েছে।  

হত্যাকাণ্ডের পর সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইয়াদ আলীকে আটক করে র‍্যাবের হাতে দেয় স্থানীয়রা। ইয়াদ আলী নড়াইল জেলার ডুমুরতলা গ্রামের চাঁন মোল্লার ছেলে।

আটক ইয়াদ আলী জানান, ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় বিবিজানকে হত্যা করেন তিনি।  

বিবিজান হত্যার ঘটনায় তার ছেলে আবু জাফর বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে র‌্যাব ইয়াদ আলীকে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর মামলার তদন্তে নামে পুলিশ।  

তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায় গত এক সপ্তাহে উদ্ধারকৃত অন্য দুটি লাশের শরীরে একই ধরনের আঘাতের চিহ্ন। এতে সন্দেহ হলে ওই দুই হত্যার সঙ্গে জড়িত কিনা- এ সম্পর্কে ইয়াদকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে তিনি পুলিশের কাছে ইলিয়াস পাটোয়ারী এবং অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে পত্যেককে বিকৃত যৌনাচারে বাধা দেওয়ায় হত্যা করা হয়েছে বলে জানান ইয়াদ।

ইয়াদ আলীর বরাত দিয়ে ঘটনার বর্ণনায় ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) বলেন, গত ৫ ফেব্রয়ারি রাতে এমকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ইলিয়াস পাটোয়ারির সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করেন ইয়াদ। চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাতের পর আঘাত করে হত্যা করেন চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার নুরপুর গ্রামের বৃদ্ধ ইলিয়াসকে। এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি লাউদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গেও ইয়াদ বিকৃত যৌনাচারের চেষ্টা করেন। সেখানেও ব্যর্থ হয়ে তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান। সেই লাশ উদ্ধার হয় ৯ ফেব্রুয়ারি। সবশেষে ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় বিবিজানকে হত্যা করেন ইয়াদ।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মককর্তা (ওসি) শেখ সোহেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দুটিতে হত্যা মামলা ও একটিতে অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। এখন সবগুলোই হত্যা মামলা হবে। আদালত থেকে আসামিকে দুইদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

news24bd.tv/আলী   

;