১৩ শিক্ষার্থী ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ৮, শিক্ষকের যাবজ্জীবন
১৩ শিক্ষার্থী ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ৮, শিক্ষকের যাবজ্জীবন

সংগৃহীত ছবি

১৩ শিক্ষার্থী ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ৮, শিক্ষকের যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক

একজন শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার একটি আদালত। ১৩ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার এ মামলার রায় দেওয়া হয়। ৩৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষকের নাম উইরাওয়ান।

পশ্চিম জাভা শহর বান্দুংয়ের জেলা আদালত হ্যারি উইরাওয়ান নামের ওই শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করেন। জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীরা কিশোরী। তাদের মধ্যে অন্তত আটজন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার খবরও জানা যায়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষক পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে আসছে।

এসব শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের এবং শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে স্কুলে পড়তে আসে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, গতবছর ওই শিক্ষকের নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পায়। নির্যাতিত এক শিক্ষার্থীর পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করে তাদের মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং সে অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি দ্রুত জানাজানি হয়। সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ঘটনাটির ওপর জোর দেন এবং ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আইনজীবীরা অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান। আদালত রায়ে শিক্ষক উইরাওয়ানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সেই সাথে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

দেশটির জাতীয় শিশু-কিশোর সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সুসান্তো বলেছেন, এই রায়ে এ কথা স্পষ্ট  যে ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার করা হয়েছে।

দেশটিতে ২৫ হাজারের বেশি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল রয়েছে যেগুলো ‘পেসান্ট্রেন’ নামে পরিচিত। এসব স্কুলে থেকে পড়াশোনা করে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন :

ফেসবুকে কখন পোস্ট দিলে বেশি লাইক পাবেন 

বান্দুং'র ধর্ষণের ঘটনাটি কিছু স্কুলে একই ধরণের যৌন নির্যাতনের সমস্যার উদঘাটন করেছে। গত বছর জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনে রিপোর্ট অনুযায়ী ১৮ টি মামলার মধ্যে ১৪ টি পেসেন্ট্রেনে সংঘটিত হয়েছিল৷

প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো গত মাসে ‘যৌন সহিংসতা দূরীকরণ’ সংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টকে আহ্বান জানান। উক্ত আইনে যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ এর ঘটনাসহ ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০১৬ সালে আইনটির একটি খসড়াও করা হলেও সেটি কার্যকর হয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি

news24bd.tv/এমি-জান্নাত