আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

সংগৃহীত ছবি

বড় ভাইকে না পেয়ে ছোট ভাই আটক

আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বারইভাত নয়াপাড়া এলাকায় আসামী ধরতে গিয়ে আসামীকে না পেয়ে তার ছোট ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। একই সাথে অভিযানকারী রায়গঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক রায়হান ফেরদৌস ওই বাড়ীর একটি ঘরের শো-কেসের ড্রয়ার ভেঙ্গে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।  

শুক্রবার ভোর রাতে উপজেলার বারইভাত নয়াপাড়া আব্দুস সাত্তারের বাড়ীতে এঘটনা ঘটে।   

ঘটনার পর সকালে ভুক্তভোগীরা থানায় গিয়ে ওসিকে বিষয়টি জানানোর পর দিনভর বসিয়ে রেখে মৌখিক অভিযোগ দেয়ার পর সন্ধ্যার দিকে টাকা খোয়া গেছে মর্মে লিখে তাতে স্বাক্ষর নিয়ে ভুক্তভোগীদের বাড়ী পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কোন অভিযোগ না থাকলেও জান্নাতুলকেও ছেড়ে দেয়া হয়নি। এনিয়ে থানা এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।  

ভুক্তভোগী আব্দুস সাত্তার, ছেলের বউ শানু ও নাসরিন খাতুন জানান, ভোররাত চার-সাড়ে চার টার দিকে রায়গঞ্জ থানার এ.এস আই রায়হান ফেরদৌস দুজন কনস্টেবল নিয়ে বাড়ীতে আসেন এবং সবাইকে ডেকে মমিন ও জান্নাতুলকে খোঁজ করেন। মমিন বাড়ীতে না থাকায় জান্নাতুলকে আটক করেন।

এক পর্যায়ে মমিনের ঘরে গিয়ে তাদের শো-কেস তছনছ করার পর ড্রয়ারের চাবি চায়। কিন্তু চাবি না দেয়ায় ড্রয়ার টান দিয়ে খুলে ওর মধ্যে থাকা মমিনের দেড় লক্ষ ও তার ভাই বাবুর গরুর ব্যবসার জন্য রাখা এক লক্ষ টাকা নিয়ে নেয়। এরপর জান্নাতুলকে নিয়ে থানার দিকে বাড়ী থেকে বের হয়। এ সময় টাকা কেন নিলেন এবং টাকা দিয়ে যান বললে, এএসআই রায়হান ফেরদৌস বলেন এখানে কোন কথা হবে না, সকালে থানায় আসেন তারপর কথা বলব। সকালে থানায় আসার পর ওসি এবং সার্কেল এএসপিকে কিভাবে টাকা নিয়েছে। আমাদের সাথে কেমন আচরন করেছে সব জানানো হয়েছে। এরপর ওসি সাহেব জানান, এএসআই রায়হান ফেরদৌস কোন টাকা নেয়নি বলে আমাদেরকে জানান এবং একই সাথে টাকা হারিয়ে গেছে বলে তারা একটি অভিযোগ লিখে তাতে স্বাক্ষর নেন। জান্নাতুলের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকলেও তাকে ছেড়ে দেয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী বাবু ইসলাম জানান, আমি গরুর ব্যবসা করি। একলক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। আমার ঘরে টাকা রাখার জায়গা না থাকায় বড় ভাই মমিনের স্ত্রীর কাছে টাকা রাখি। রাতে এএসআই বাড়ীতে গিয়ে ভাবীর ড্রয়ার থেকে আমার এক লক্ষ টাকাসহ আমার ভাইয়ের দেড় লক্ষ সহ মোট আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে নেয়। ফেরত চাইলে বলে সকালে থানায় আসেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার সবাই থানায় এসে বসে থাকি। কিন্তু টাকা ফেরত দেয়নি বরং অস্বীকার করছে টাকা নেয়নি।  

তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, আমরা মনে করছি এটা পুলিশের পোশাকে ডাকাতি করা হয়েছে। পুলিশ যদি এভাবে ড্রয়ার ভেঙ্গে টাকা নেয় তা হলে আমরা কোথায় যাবো? আমাদের ঋণ করে টাকা নিয়ে ব্যবসা করছিলাম। কিন্তু পুলিশ সব টাকাই নিয়ে নিলো। এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। কস্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে।  

ভুক্তভোগী জান্নাতুলের মা রেখা খাতুন জানান, কিস্তির উপর টাকা তুলে ছেলেরা ব্যবসা করার জন্য টাকা রাখছিল। সেই টাকা পুলিশ নিয়ে গেলো। আর আমার ছোট ছেলেটাকেও বিনাদোষে ধরে নিয়ে গেলো। কিছুদিন আগে ছেলেকে মিথ্যা চুরির মামলা দিছিল। সেখানে কিশোর কারাগারে জেল খেটে বের হয়েছে। গতকাল ওই মামলায় কোর্টে হাজিরা দিয়েছে। আর রাতেই পুলিশ অন্যায়ভাবে ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে।  

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার এএস.আই রায়হান ফেরদৌস টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ওসির সাথে যোগাযোগ করতে বলেন এবং একই সাথে মমিনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে আর জান্নাতুল মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে বলে জানান।  

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, রায়গঞ্জ সার্কেলের এএসপি ইমরান রহমানসহ আমি ভুক্তভোগী ও থানার এএসআই রায়হান ফেরদৌসের সাথে কথা বলেছি। তবে এখন পর্যন্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি সত্যতা পাইনি। তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে টাকা খোয়া গেছে বলে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আর জান্নাতুলকে আটকের বিষয়ে বলেন, যেহেতু ছেলেটি কিশোর তাই তাকে সমাজসেবা অফিসারের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হবে।  

news24bd.tv/আলী