‘ভাই, বাবুকে দেখে রাখিস’ লিখে এক বাবার আত্মহত্যা
‘ভাই, বাবুকে দেখে রাখিস’ লিখে এক বাবার আত্মহত্যা

সংগৃহীত ছবি

‘ভাই, বাবুকে দেখে রাখিস’ লিখে এক বাবার আত্মহত্যা

অনলাইন ডেস্ক

‘আমার সংসারটা শিলার বাবা, মা আর ওর ভাই নাহিদ নষ্ট করে দিছে। ভাই, বাবুকে দেখে রাখিস। আর পারলাম না ভাই। একটু একটু করে মরার চেয়ে একেবারেই মরে যাওয়া ভালো।

তাও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব। আমার আব্বা-মাকে মাফ করে দিতে বইলো ভাই’ এমন সুইসাইড নোট লিখে শুক্রবার রাতে আত্মহত্যা করেছেন আল-আমিন (৪০) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র। সুইসাইড নোটের সত্যতা স্বীকার করেন মাহমুদের চাচা আবুল খায়ের খান।

আল-আমিন টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল খানের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে স্নাতক করছিলেন।  

ছোটভাই মাহমুদের কাছে লেখা সুইসাইড নোটে আরও লেখা রয়েছে- ‘আমার সংসারটা শিলার বাবা, মা আর ওর ভাই নাহিদ নষ্ট করে দিছে। আমার কলিজার টুকরাকেও নিয়ে গেছে ওরা। ভাই, প্রতিদিনের এই যন্ত্রণা-কষ্ট থেকে এটা ছাড়া উপায় ছিল না। ভাই, আমার অসহায়ত্ব আর চোখের পানিও ওদের কাছে হাসি-তামাশার মনে হয়েছে। ভাই, বাবুকে দেখে রাখিস। আর পারলাম না ভাই। একটু একটু করে মরার চেয়ে একেবারেই মরে যাওয়া ভালো। তাও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব। আমার আব্বা-মাকে মাফ করে দিতে বইলো ভাই। ’

সুইসাইড নোটটি ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে পোস্ট করেছেন মাহমুদ।  

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে শিলাকে বিয়ে করেন তিনি। সম্প্রতি তাদের বিয়ে-বিচ্ছেদ হয়। আশরাফুল নামে তাদের দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বিয়ে-বিচ্ছেদের পর নিজ সন্তানকে কাছে রাখতে না পারার হতাশায় ভুগছিলেন তিনি।  

এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভাইয়ের কাছে সুইসাইড নোট লিখে শুক্রবার রাতে বিষপান করেন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে সেখানেই তিনি মারা যান।  
 
ঘাটাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদ আসর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

news24bd.tv/আলী