সজনী মারা যায়নি, ভিডিও কলে কথা বলেছেন!
সজনী মারা যায়নি, ভিডিও কলে কথা বলেছেন!

ফাইল ছবি

সজনী মারা যায়নি, ভিডিও কলে কথা বলেছেন!

জাহিদুজ্জামান, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে উদ্ধার করা দগ্ধ মরদেহের ঘটনাটি নাটকীয় মোড় নিয়েছে। মরদেহটি গৃহবধূ সজনীর বলে শনাক্ত করা হলেও এখন বলা হচ্ছে সেটি তার নয় এবং নিখোঁজ সজনী বেঁচে আছেন। ঢাকা থেকে সে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছে বলেও জানা গেছে। পোড়া মরদেহটি তাহলে কার-এটা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

 

শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বাহিরচর ইউনিয়নের ১২ দাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের কলাবাগান থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এদিন সকালেই স্ত্রী সজনী (২৭) নিখোঁজের জিডি করেন তার স্বামী ভেড়ামারার ষোলদাগ এলাকার মো. লালন।  

ভেড়ামারা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন স্ত্রী সজনী মায়ের বাড়ি যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে সজনীর বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন থানায় আসেন জিডি করতে। তারা জানতেন না তার স্বামী আগেই জিডি করে গেছেন।  

এ সময় পুলিশের কাছে খবর আসে বাহিরচর এলাকায় কলাবাগানে একটি নারীর দগ্ধ মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সে সময় পুলিশ সজনীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়েই ঘটনাস্থলে যান। খবর দেওয়া হয় তার স্বামী লালনকে। কিন্তু ঘটনাস্থলে সজনীর বাবা-মা তাদের মেয়ের মরদেহ বলে শনাক্ত করলেও স্বামী লালন বলেন এটি তার স্ত্রীর মরদেহ নয়।  

রাতে সজনীর বাবার করা হত্যা মামলায় লালনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।  

রোববার দুপুরে সজনীর বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, মেয়ে সজনী তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। সে ঢাকায় আছেন। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যেতে বলেছেন। সজনী ভেড়ামারার উদ্দেশ্যে রওয়ানাও হয়েছেন।  

সজনীর বাবা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরের রানাখড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত রাতে হত্যা মামলা করেছিলেন। ভেড়ামারা থানার ওসি-তদন্ত নান্নু খান বলেন, সজনী আসলে তার স্বামী লালনকে ছেড়ে দেয়া হবে।  

এদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দগ্ধ মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। মরদেহ ভেড়ামারা থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানায়, অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করার জন্য মরদেহটি ভেড়ামারা পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হবে।  

নিহত সজনীর বাবা সিরাজুল ইসলাম এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ বছর আগে লালনের সাথে সজনীর বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে।  কিছুদিন যাবত স্বামী লালন স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল। তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েকদিন আগে সজনী বাবার বাড়ি যান।  ১৬ ফেব্রুয়ারি লালন নিজে গিয়ে একপ্রকার জোর করেই স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মোবাইল ফোনে সে সজনীর মাকে জানায়, সজনীকে পাওয়া যাচ্ছে না।  

news24bd.tv/ কামরুল