টিকাকেন্দ্রে লাঠিপেটার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশের বিরুদ্ধে! 
টিকাকেন্দ্রে লাঠিপেটার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশের বিরুদ্ধে! 

সংগৃহীত ছবি

টিকাকেন্দ্রে লাঠিপেটার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশের বিরুদ্ধে! 

সাভার প্রতিনিধি :

সাভার সরকারি হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে লাঠিপেটা অভিযোগ করেছেন টিকা নিতে আসা শ্রমিকরা। সরেজমিনে ওই টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে লাঠিপেটার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিশৃঙ্খলা, হুডোহুড়ি আর লাঠিপেটার ঘটনায় টিকা নিতে না পেরে অনেক শ্রমিকরা  হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।  

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে টিকা দেওয়া শুরু হলে আগে টিকা নিতে তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়।

একপর্যায়ে গামেন্টস শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালের নিয়োজিত ২০-২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে  লাঠিপেটা শুরু করে স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ।

লাঠিপেটা থেকে বাঁচতে পোশাক কারখানার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হয় ।

ওই কেন্দ্রে রেড ক্রিসেন্টের টিম লিডার লিজা আক্তার, ইমন, সুমাইয়া আক্তার সূচনা, কামরুল হাসান ইমন, আকিক, মোমিসুল ইসলাম,ও তৈরী পোশাক শ্রমিক সালমা আক্তার, নুর ভানু, সেলিনা আক্তার, পারুল বেগম, নুরুল ইসলাম, রুবেল আহমেদ, পরিতষ রায়, রফিকুল ইসলাম, রবিউল হাসান ও পুলিশসহ ৩৫জন আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  

তবে রেড ক্রিসেন্টের টিম লিডার লিজা আক্তার বলেন, আমার স্বেচ্ছাসেবকেরা কাউকে লাঠিপেটা করেননি। লাঠিপেটা করেছে পুলিশ।  

দুপুর পৌনে ৪টার সাভার সরকারি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রের বাইরে উপচে পড়া ভিড়। হুড়োহুড়ি দেখে কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে থাকা তরুণেরা লাঠিপেটা করছেন। এ অবস্থায় অনেক শ্রমিককে টিকা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে দেখা যায়। বেলা ৪টা পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে।  

টিকা নিতে আসা শ্রমিক পারুল আক্তার বলেন, শুরু থেকে আমরা সারি করেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভিড় বেড়ে যাওয়ার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করেই টিকাদান কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকেরা তখন শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করেন। এতে ৪০ জন আহত হয়।

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রবিউল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাসেবকেরা শুধু ছেলেদের নয়, মেয়েদেরও মারধর করেছে। আমরা টিকা নিতে এসে মার খাব, এটা কেমন কথা? তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।  

নুর ভানু বলেন, সকাল ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। আমাদের কারখানার থেকে প্রায় ৩০টি ইজিবাইকে করে আমরা হাসপাতালে এসেছি। ৯ টার দিকে এসে দেখি প্রচুর ভিড়। লাইনে দাঁড়াতেই শুরু হলো লাঠিপেটা করে আমাদের নারীর উপর হামলা চালায় এতে আমরা ২৫জন আহত হয় ।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা বলেন,২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকার প্রথম ডোজ বন্ধ থাকবে তাই মানুষ এক সাথে টিকা নেওয়ার জন্য ভীড় করছে । তাই মাঠকর্মীরা সেভাবে কাজ করছে।  

তিনি আরো বলেন ‘বিশৃঙ্খলা হচ্ছে, এটা ঠিক না। তবে এখানে টিকা নিতে এক দিনে বেশি পোশাক শ্রমিক চলে এসেছে। টিকা গ্রহীতার সংখ্যা বেশি হওয়ার তাদের মধ্যে ঠেলাঠেলি হয়েছে। এটা সামাল দিতে স্বেচ্ছাসেবকেরা হয়তো হাতে লাঠি নিয়েছিলেন। স্বেচ্ছাসেবকেরা হাতে লাঠি নিয়েছেন, এটা শুনে সেখানে গিয়ে তাদের হাত থেকে লাঠি সরিয়ে ফেলেছি।  

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম বলেন,  সাভারে করোনার টিকা নিতে আসা লোকদের উপর লাঠিপেটা কোনোভাবেই কাম্য নয় । এটা কেন ঘটল তা খতিয়ে দেখব।  
news24bd.tv/আলী