জেব্রা মৃত্যুর ঘটনায় ফৌজদারী ও বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত
জেব্রা মৃত্যুর ঘটনায় ফৌজদারী ও বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত

সংগৃহীত ছবি

জেব্রা মৃত্যুর ঘটনায় ফৌজদারী ও বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে  ১১টি জেব্রা মৃত্যুর ঘটনায় ফৌজদারী মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। একই সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হবে। এছাড়াও, তদন্ত কমিটির সুপারিশকৃত ২৪ টি সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।  

মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী  শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায় পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার দীপংকর বরের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেব্রা মৃত্যুর ঘটনায় ঘটিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিতপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয়ের এই সিধান্ত।

এ ছাড়া বলা হয়েছে, 'তদন্ত কমিটির মন্তব্য, মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘাসে অতিরিক্ত নাইট্রেটের প্রভাব ও মিশ্র ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে জেব্রাগুলোর মৃত্যু ঘটেছে মর্মে তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। '
 
'তবে, প্রথম দিকে ২ ও ৩ জানুয়ারি ৩টি জেব্রার মৃত্যু ধামাচাপা দেওয়া এবং আঘাতজনিত কারণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৩টি মৃত জেব্রার পেট ধারালো কিছু দিয়ে কাটা হয়েছে বলে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

কে বা কারা মৃত জেব্রার ৩টি পেট কেটেছে তা উদঘাটনের জন্য নিবিড় তদন্তের প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। '

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, 'কর্তব্যরত ভেটেরিনারি অফিসারের চাহিদা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাফারি পার্ক মেডিকেল বোর্ডের সভা আহবান করবেন বলে বিধান থাকার পরও এতগুলো জেব্রার অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরও জরুরিভিত্তিতে মেডিকেল বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়নি। যা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার শামিল। কোন প্রাণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জিডি করার প্রচলন থাকলেও এক্ষেত্রে থানায় কোন জিডি করা হয়নি, যা রহস্যজনক। ' 

'পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব গত ২২ জানুয়ারি সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন। ওই তারিখ পর্যন্ত ৮টি জেব্রা মারা গেলেও প্রকল্প পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা কর্মরত অন্য কেউ জেব্রার মৃত্যুর ঘটনাটি সচিব মহোদয়কে অবহিত করেননি। এতে প্রতীয়মান হয় প্রথম থেকেই জেব্রা মৃত্যুর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি অস্বাভাবিক, অগ্রহণযোগ্য ও সরকারি কর্মচারী আচরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যা দায়িত্ব অবহেলার শামিল। তদন্ত কমিটির এসকল মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিতপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ফৌজদারী মামলা ও বিভাগীয় মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়। '

এ ছাড়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক গাজীপুরের প্রাণী মৃত্যুরোধ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য করণীয় বিষয়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশকৃত ১১টি স্বল্পমেয়াদী, ৪টি মধ্য-মেয়াদী এবং ৯টি দীর্ঘ মেয়াদি সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়।

জেব্রা মৃত্যুর ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ ও ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশ প্রদানের জন্য পরিবেশ, বন পরিবর্তন জলবায়ু মন্ত্রণালয় ২৬ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ৩০ জানুয়ারি ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে কমিটিতে আরও দুজন বিশেষজ্ঞ সদস্য এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জেলা প্রশাসক, গাজীপুরের প্রতিনিধি হিসেবে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ' 

তাছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটিকে কাজের সহায়তা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য ৩ জন কর্মকর্তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ৮ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি এবং ৩ সদস্য বিশিষ্ট সহায়ক প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরেজমিন তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।  

সবশেষ ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য যে, তদন্ত কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের মেয়াদ ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে আরও ৭ কার্যদিবস বৃদ্ধি করা হয়। তদন্তের স্বার্থে কমিটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যাথলজি বিভাগ ও ফার্মাকোলজি বিভাগ, কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার (সিডিআইএল), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনিস্টিউিট (আইইডিসিআর), বাংলাদেশ পুলিশের কেমিক্যাল ল্যাব ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটকে রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে সার্বিক তদন্ত শেষে ২০ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।  

সভায় উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব মো. মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মো. মিজানুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ও তদন্ত কমিটির আহবায়ক সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) কেয়া খান এবং উপসচিব ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

news24bd.tv/আলী