গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরী আর নেই
গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরী আর নেই

ফাইল ছবি

গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরী আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রখ্যাত গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরী আর নেই। আজ মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর ধানমন্ডি ক্লিনিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  কাওসার আহমেদ চৌধুরীর ছেলে আহমেদ সাফি চৌধুরী একথা জানিয়েছেন।

কাওসার আহমেদ চৌধুরী কোভিড, নিউমোনিয়া, কিডনির সমস্যা, রক্তের সংক্রমণসহ বেশ কিছু সমস্যায় ভুগছিলেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরদিন পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় গ্রিন রোডের ধানমন্ডি ক্লিনিকে।  ১১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে কাওসার আহমেদ চৌধুরীর রক্তে হিমোগ্লোবিন বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন পড়ে।

পরবর্তীতে রক্ত দেওয়া হয়। এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।  

তাঁর লেখা গান গেয়েছেন যাঁরা : কাওসার আহমেদ চৌধুরীর লেখা অসংখ্য গান গেয়েছে ফিডব্যাক, এলআরবি, মাইলসের মতো ব্যান্ডগুলো। এ ছাড়া সামিনা চৌধুরী, লাকী আখন্দ, কুমার বিশ্বজিৎ, নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর মতো শিল্পীরাও তাঁর লেখা গান তুলে নিয়েছেন নিজেদের কণ্ঠে। সেগুলো জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছু টিভি নাটক রচনা ও পরিচালনা করেছেন কাওসার আহমেদ চৌধুরী।

জনপ্রিয় গান : কাওসার আহমেদের লেখা জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, তার লেখা জনপ্রিয় গানসমূহের মধ্যে রয়েছে, এই রুপালি গিটার ফেলে, আমায় ডেকো না ফেরানো যাবে না, যেখানেই সীমান্ত তোমার সেখানেই বসন্ত আমার, কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে, এক ঝাঁক প্রজাপতি ছিলাম আমরা, আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়ল, মৌসুমি কারে ভালোবাসো তুমি, এলোমেলো বাতাস ইত্যাদি।

জন্ম ও কর্মজীবন : কাওসার আহমেদ ১৯৪৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি ১১ বছর বয়সে জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি গান লেখা শুরু করেন। কর্মজীবনের প্রথমে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে গান লেখা ও জ্যোতিষশাস্ত্রকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। এর পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু টিভি নাটক রচনা এবং পরিচালনা করেছেন।

উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের অধীনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি গোয়েন্দা হিসেবে তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছেন।

জানা গেছে, কাওসার আহমেদের জানাজা আগামীকাল ৯টায় ধানমন্ডি ১২/এ রোডস্থ মসজিদ উত তাকওয়ায় অনুষ্ঠিত হবে । এরপর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন হবে।

news24bd.tv/আলী